kalerkantho

শনিবার ।  ২৮ মে ২০২২ । ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৬ শাওয়াল ১৪৪

'জিনের আসর' মুক্ত করতে পিটুনি : মা-বাবার হাতেই মৃত্যু হলো সুমাইয়ার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ নভেম্বর, -০০০১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'জিনের আসর' মুক্ত করতে পিটুনি : মা-বাবার হাতেই মৃত্যু হলো সুমাইয়ার

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ‘জিনের আসর’ ছাড়াতে গিয়ে সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সুমাইয়াকে পিটিয়ে ও নির্যাতন মাধ্যমে হত্যা করেছেন মা-বাবা।
গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার মেহের উত্তর ইউনিয়নের তারাপুর কামারবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় বাবা এমরান হোসেন ও মা আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ বুধবার আদালত তাঁদের জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন


জানা যায়, মেম্বার বাড়ির কাঠমিস্ত্রি এমরান হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগম (৩৫) ৬-৭ দিন আগে নিজেকে ‘জিনে ধরেছে’ বলে তাঁর বাড়ির ও আশপাশের লোকজনকে জানান। বিষয়টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে অনেক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়।
শাহরাস্তি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিজামউদ্দিন জানান, গত সোমবার (৩ আগস্ট ) সকালে নিজ সন্তান সুমাইয়াকে জিনে ধরেছে উল্লেখ করে আমেনা শিশুটিকে মাটিতে রেখে তার ওপর চেপে বসেন ও বাবা গাছের ডাল দিয়ে মারতে শুরু করে। এ দৃশ্য দেখে আশপাশের লোকজন শিশুটিকে বাঁচাতে চেষ্টা করলে তাঁদের ধাওয়া করা হয়। এরপর স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানান।
গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান সেন্টু জানান, পুলিশ আসার পর তিনি ও শিশুটির চাচাসহ কয়েকজন সুমাইয়াকে স্থানীয় বানিরয়ারচরে চিকিৎ​সকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এসআই নিজাম আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হলে আমেনা ও তাঁর স্বামী এমরান উপস্থিত লোকজনের সামনে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।
কিন্তু ওই দিনই (সোমবার) রাতে নানির কাছ থেকে সুমাইয়াকে নিয়ে আসেন তার বাবা-মা। রাত সাড়ে তিনটায় এই দম্পতি আবারও জিন তাড়ানোর নামে সাড়ে তিন বছরের সুমাইয়াকে নির্মম নির্যাতন করেন এবং ঘটনাস্থলে সুমাইয়ার মৃত্যু হয়।
সকালে ওই দম্পতি ঘরের দরজা না খুললে বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হয়। তাঁরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজা খুলে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় সুমাইয়ার বাবা-মা পাশেই বসা ছিলেন। এরপর পুলিশ তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আগের দিন ওই দম্পতিকে ছেড়ে না দিলে হয়তো সুমাইয়া এমন নির্মমভাবে খুন হতো না।



সাতদিনের সেরা