kalerkantho

শনিবার ।  ২৮ মে ২০২২ । ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৬ শাওয়াল ১৪৪

গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

মাদারীপুরে ইমামের যৌন নির্যাতনের শিকার এক শিশু

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

৩১ মে, ২০১৫ ১৬:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাদারীপুরে ইমামের যৌন নির্যাতনের শিকার এক শিশু

মাদারীপুর সদর উপজেলার চরঘুনসি গ্রামে সাত বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতন করেছে মসজিদের ইমাম ওবাইদুর (২৫)। শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় রবিবার সকালে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে ঘটনার পর থেকে যৌন নির্যাতনকারী ওবাইদুর পলাতক।
স্থানীয়, হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চরঘুনসি গ্রামের হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম ওবাইদুর এর কাছে ওই মসজিদে প্রতিদিন ভোরে গ্রামের অন্য শিশুদের সাথে আরবি পড়তে যায় চরঘুনসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী।

বিজ্ঞাপন


শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আরবি পড়া শেষে বাড়ি যাবার জন্য মসজিদ থেকে শিশুটি বের হতেই ওবাইদুর মসজিদ ঝাড়ু দিতে বলে। একে একে অন্যরা চলে গেলেও শিশুটি মসজিদ ঝাড়ু দেওয়ার জন্য থেকে যায়।
এ সময় শিশুটিকে একা পেয়ে ওবাইদুর মসজিদের সাথে লাগানো বারান্দায় তাকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে। এরপর শিশুটির মুখ বেঁধে যৌন নির্যাতন করে। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এ সময় ওবাইদুর শিশুটিকে বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি না জানাতে বলে। জানালে তাকে মেরে টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেবো। এ সময় ভয়ে শিশুটি চুপ থাকে।
পড়ে গিয়ে এই অবস্থা হয়েছে জানালে এক প্রতিবেশী তাকে বাড়িতে পৌছে দেয়। বাড়িতে গিয়ে শিশুটি সব ঘটনা তার মাকে জানায়। মা দ্রুত তাকে গ্রাম্য এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়।
বাবা ঢাকায় ফেরি করে। সে খবর পেয়ে দ্রুত মাদারীপুরে চলে আসে। রাতে শিশুটির আরো গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরের দিন রবিবার সকালে তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।
শিশুটি জানায়, হুজুর মসজিদ ঝাড়ু দেওয়ার কথা কয়। পড়া শেষ হওয়ায় সকলে চইল্যা যায়। আমি ঝাড়ু দিতে গ্যালে হুজুর আমার মুখ চ্যাইপা ধরে, আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। আমি চিৎকার করতেও পারি নাই। পরে আমাকে কয় এই কথা কাউকে কইলে আমারে কাইটা নদীতে ভাসাইয়া দিবে।
শিশুটির বাবা বলেন, আমি ঢাকা ছিলাম। খবর পাইয়া দেশে আসি। এসে মেয়ের এই অবস্থা দেইখ্যা মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়া আছি।
মামলা দিবেন কিনা এই ব্যাপারে জানতে চাইলে শিশুটির বাবা বলেন, মামলা করার মতো বা মামলা করার পর তা চালানোর মতো টাকা আমাদের নেই। তাই মামলা করবো কিনা এখনও বুঝতেছি না। দেখি কি করা যায়। তবে যেভাবেই হোক আমি ওই হুজুর ওবাইদুরের বিচার চাই। ওর শাস্তি হওয়া উচিত।
শিশুটির মা বলেন, আমার এতটুকু মেয়েকে যে ধর্ষণ করলো তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। তাতে করে ওই হুজুর যেন অন্যকোনো জেলায় গিয়ে মসজিদের ইমামতি করা আড়ালে কোনো শিশুকে ধর্ষণ করতে না পারে।
শিশুটির মা আরো বলেন, ওই ধর্ষক হুজুরের বাড়ি বরিশালের নাজিরপুরে। এর থেকে আর পরিচয় আমাদের জানা নেই। মসজিদের লোকজনদের কাছে তার পরিচয় জানতে চাইলে তারা আমাদের কাছে ওই হুজুরের পরিচয় দেয় না। বলে ও খুব ভালো ছেলে। আমি এর বিচার চাই।
চরঘুনসি হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাজি মোবারক হাওলাদার বলেন, আমরাও ওর পুরো পরিচয় জানি না। অনেক দিন ধরে এখানে মসজিদে নামাজ পড়াচ্ছে। যতটুকু জানি ওর বাড়ি বরিশালের নাজিরপুরে। ঘটনার পর থেকে ও পালিয়ে গেছে। ওকে খোঁজার ও পরিচয়ের ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।
মাদারীপুর মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহামুদা আক্তার কণা বলেন, আমি ট্রেনিং এর জন্য ঢাকাতে আছি। ঘটনার কথা শুনে মাদারীপুর সদর থানার ওসির সাথে কথা হয়েছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মাদারীপুর সদর থানার ওসি মো. জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। ওর পরিবার থেকে এখনও মামলা করেনি। তবুও আমরা ওই ধর্ষক ওবাইদুরকে আটকের চেষ্টা করছি। হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে পুলিশও পাঠাচ্ছি।
এ ব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার পাল ও সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. মনিরুজ্জামান ফকির জানান, বিষয়টি আমরা প্রাথমিকভাবে শুনেছি। অপরাধীকে ধরার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হবে।



সাতদিনের সেরা