kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

জলঢাকার সেই হিন্দু পরিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৫ ১৬:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলঢাকার সেই হিন্দু পরিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে

বাড়িতে ফেরেনি নীলফামারীর জলঢাকা পৌর শহরের মাথাভাঙ্গা কাচারীপাড়া গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র বর্ম্মণের (৮০) পরিবার। জমি দখলের কবলে বাড়ি থেকে বিতারিত হয়ে রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সকালে মানববন্ধন করে সেখানে অবস্থান নেয় পরিবারের সদস্যরা। জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে দুপুর  সোয়া একটার দিকে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করে।
গত শুক্রবার বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে পরিবারটি অবস্থান নেয় জেলা শহরে। এরপর শনিবার স্থানীয় চৌরঙ্গী মোড়ে  মানববন্ধন করে সেখানে অবস্থান করে রাত ১০টা পর্যন্ত। রবিবার পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে সেখানে অবস্থান নেয়।
লক্ষণ চন্দ্র বর্ম্মণের পুত্রবধূ সত্য রাণী বর্ম্মণ বলেন,‘বাড়ি থেকে বিতাড়িত হবার পর থেকে বৃদ্ধ শ্বশুর, শাশুরি এবং স্বামী সন্তান নিয়ে পথে পথে রাত দিন কাটাচ্ছি। অনেকে বিচারের আশ্বাস দিয়ে আমাদেরকে বাড়িতে ফেরার কথা বললেও নিরাপত্তার অভাবে যেতে পারছি।’
লক্ষণ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, ‘বিচারের আশায় আমরা পথে পথে ঘুরছি। রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেই। দুপুরে বিচারের আশ্বাসে জেলা প্রশাসকের পক্ষে আমাদের কাছ থেকে জমির কাগজপত্র চেয়ে নেয়।’
তিনি জানান, কাগজ নেয়ার পর সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয় তাদেরকে। এরপর আগামী মঙ্গলবার জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখ করার জন্য বলা হয় তাকে।
এব্যাপারে জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন বলেন,‘ওই পরিবারের অভিযোগ জেনেছি। তাদের পক্ষের কাগজপত্র চেয়ে নিয়েছি। জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলেছি।’
লক্ষন চন্দ্র বর্ম্মণ অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবা মৃত গোরকু বর্ম্মণের কাছ খেকে ১৯৬৯ সালে জলঢাকা মৌজার জেএল নম্বর ৫৭ সিএস খতিয়ান ১৩৮ ও ১৬৬ এসএ খতিয়ানের তিন দাগে মোট দুই একর ৪৬ শতক জমি ক্রয় করে বসতভিটা নির্মাণ করে ববাসসহ চাষাবাদ করে আসছি।
এরই মধ্যে একটি প্রভাবশালী মহলের কুনজর পড়ে ওই জমির ওপর। জমির জন্য তারা বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে শেষে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি লাঠিসোঠা, ধারালো অস্ত্রসহ একই গ্রামের সপুল্লা মামুদ, এলিয়ান, রফিকুল, ছাইদুল, মোখলেছার, মোতালেব, গোলাপ দেড় শতাধিক লোকজন এনে বাড়ির ভিটার সঙ্গে ২৫ শতক জমি দখল করে বাঁশ ও টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করে। এরপর শুক্রবার ধারালো অস্ত্রসহ আমার বাড়ির সামনে এসে  প্রাণে মেড়ে ফেলার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে আমাকেসহ পরিবারের সদস্যদের। এখন বাড়ি ছাড়া হয়ে পথে পথে পরিবারে সদস্যদের নিয়ে দিনাতিপাত করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা