kalerkantho

শনিবার ।  ২৮ মে ২০২২ । ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৬ শাওয়াল ১৪৪

মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তির গুজব

কুমিল্লার হোমনায় ৩৫টি বাড়িঘর, একটি মন্দির ভাঙচুর

হামলায় অংশ নেয় পাঁচটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,কুমিল্লা   

২৭ এপ্রিল, ২০১৪ ২১:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুমিল্লার হোমনায় ৩৫টি বাড়িঘর, একটি মন্দির ভাঙচুর

কুমিল্লার হোমনার বাকসীতারামপুরে ফেইসবুকে মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তির গুজব ছড়িয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩৫টি বাড়িঘর ও একটি মন্দির ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ লোকজন ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। রবিবার দুপুর ২টায় অন্তত দুই হাজার লোক হামলা চালিয়ে এ ঘটনা ঘটায়। ভাঙচুরের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। হামলার সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

তারা এখন আত্মগোপন করে আছে।
স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা জানান, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের বাকসীতারামপুরের পাশের মুরাদনগর উপজেলার বাঁশকাইট্টা এলাকার কিছু লোক শনিবার মাগরিবের নামাজের পর বাকসীতারামপুরের চান মোহন দাসের ছেলে উদ্ভব চন্দ্র দাস ও অনিল দাসের ছেলে ছিনিবাস চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে মহানবী (সা.)কে কটাক্ষ করার অভিযোগ তুলে মিছিল করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজন রাতেই বৈঠক করে মীমাংসার চেষ্টা করে কিন্তু বৈঠকে মীমাংসা না হওয়ায় রবিবার দুপুর ২টার দিকে আবার বৈঠক আহ্বান করে। কিন্তু দুপুরে আর বৈঠক হয়নি। হঠাৎ করে মুরাদনগরের বাঁশকাইট্টা ও আশপাশের বিক্ষুব্ধ লোকজন ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জড়াও হয়ে বাকসীতারামপুরের হিন্দুপরিবারের ৪০টি ঘরের মধ্যে ৩৫টি ঘর ভাঙচুর ও তছনছ করে। এর মধ্যে এ সময় তারা চান মোহন দাসের ছেলে উদ্ভব চন্দ্র দাস ও অনিল দাসের ছেলে ছিনিবাস চন্দ্র দাসের বাড়িঘর, ডা. রামপদ, স্বপন, তপন, প্রহলাদ, সহদেব সাহার বাড়িঘর সহ অন্যদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় ডাক্তার বাড়ির রাধাকৃষ্ণ সমাধি মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর করে। হামলার সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের তৈজসপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ হামলাযজ্ঞ চলে। ঘটনার খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে তিন প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম শিকদার জানান, পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের লোকজন এ হামলা চালিয়েছে। ফেইসবুকে দুই ছেলে কিছু লিখেছে বলে প্রিন্ট কপি নিয়ে কিছু লোক শনিবার রাতে মিছিল করে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য সে দিন রাতে স্থানীয় মেম্বারদের নিয়ে বৈঠক হয়। কিন্তু বৈঠকে মীমাংসা না হওয়া রবিবার দুপুর ২টায় আবার বৈঠক বসার কথা ছিল। তিনি বলেন, এ সব ঘটনার কোনোটিই তারা পুলিশকে জানায়নি। রবিবার দুপুরের পর হামলায় পাঁচটি মাদ্রাসা ও স্থানীয় বিএনপি জামাত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা অংশ নেয়। সংখ্যায় তারা দেড় হাজার থেকে দুই হাজার হবে।
স্থানীয় নঈম মোল্লা বলেন, 'চান মোহন দাসের ছেলে উদ্ভব চন্দ্র দাস ও অনিল দাসের ছেলে ছিনিবাস চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে মহানবী (সা.)কে কটাক্ষ করেছে বলে শুনেছি। '
জানা গেছে, এরা দুজনেই এইচএসসি পাস। উদ্ভব চন্দের বাবা চানমোহন দাস বাহরাইন থাকেন। আর ছিনিবাসের বাবা অনিল চন্দ্র মাছের ব্যবসা করেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ উঠেছে ব্লগে বা ফেইসবুকে কিছু লেখা হয়েছে কিন্তু আমার প্রাথমিকভাবে এর প্রমাণ পাইনি। বিষয়টি গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি জামায়াতের লোকজন জড়িত বলে তিনি জানান।

 



সাতদিনের সেরা