kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১০ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৮ সফর ১৪৪৪

হাটে না ঘেঁটে গরু কিনুন নেটে

অনলাইন ডেস্ক   

৬ জুলাই, ২০২২ ১৫:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাটে না ঘেঁটে গরু কিনুন নেটে

কোরবানিতে ন্যায্য দামে গরু বিক্রি করে ভাগ্যের চাকা ঘুরাবে বলে, ১০টি গরু কিনেছিলেন শাহজাদপুরের মোবারক মিয়াঁ। তাই সারাবছর গরুগুলো লালন-পালন করেছেন অতিআদরে। অধিক লাভের আশা না করে দিয়েছিলেন উৎকৃষ্টমানের সব প্রাকৃতিক খাবার। যার ফলাফলও পেয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কোরবানি ঈদের আগে গরুগুলি হয়েছে বেশ মোটা-তাজা।

মহাখুশিতে ঢাকার কোরবানি হাটের উদ্দেশে গরুগুলো নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু যাত্রাপথে নানারকম সমস্যা ও অনেক হাট ঘুরে দালালের চক্করে পরে বেশ আশাহত হতে হয় তাকে। অবশেষে যখন গরুগুলি হাটে রাখার ব্যবস্থা করলেন, ততক্ষণে সারাদিনের ধকলে গরুগুলো বেশ দুর্বল ও রোগাক্রান্ত হয়ে গেছে। এর ফলে হাটে অনেক ক্রেতাই আর কেনার আগ্রহ দেখালেন না। শেষে ৪টি গরু নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয় তাকে। সারাবছর গরু লালন-পালন করে যেখানে তিনি লাভের আশা করছিলেন, এখন তিনি পরবর্তিতে খামার করবেন কিনা তা নিয়েই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।  

কোরবানির হাটে গরুর ন্যায্য দাম না পাওয়া যেনো এক চিরাচরিত সমস্যা। এর ফলে সারাবছর পরম যত্নে গরু লালন-পালন করে সঠিক দাম না পেয়ে হতাশ হতে হয় মোবারক মিয়াঁর মতো অসংখ্য খামারিকে। তাছাড়াও জায়গাভেদে মধ্যস্থতাকারী থাকার কারণে গরু বিক্রির পর লাভ পান অতি সামান্য। বছরের পর বছর এই সমস্যা যেনো খামারিদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলছে। ফলাফল, দিন দিন কমে যাচ্ছে খামার ও খামারির সংখ্যা।

মোবারক মিয়াঁর মতো খামারিদের এই সমস্যা সমাধানে আদর্শ প্রাণিসেবা কাজ করছে ভিন্ন আঙ্গিকে। খামারিদের জন্য তারা এনেছে 'যৌথ খামার প্রকল্প'। এর আওতায় অ্যাপের মাধ্যমেই গবাদিপশুর লালন-পালন থেকে ক্রয়-বিক্রয়- সবকিছুই সম্পন্ন হচ্ছে। এভাবে খামারিদের মুখে হাসি ফুটিয়ে, দেশে খামারের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে আদর্শ প্রাণিসেবা।

আদর্শ প্রাণিসেবার কর্মকর্তারা জানান, বিনিয়োগকারীর টাকা দিয়ে তারা নিজেরা বাছাই করে গরু কেনেন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের তত্ত্বাবধানে। প্রথমেই আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গবাদিপশুগুলোকে আনা হয় বীমাসেবার আওতায়। তারপর স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে ও যেকোনো ধরনের রোগ এড়াতে গরুগুলোকে টিকা ও ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর পাঁচ থেকে ছয় মাস গরু লালন পালনের সময় প্রাণিসেবা ভেটের চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন।   

লালন-পালনের সময় গরুগুলোর চিকিৎসার খরচ বহন করে প্রাণিসেবা ও ওষুধের খরচ খামারি। গরুগুলো যখন বিক্রি করা হয়, তখন লাভের ৬০ শতাংশ দেওয়া হবে খামারিকে। এর ফলে প্রান্তিক খামারিরা গরু না কিনেই শুধু লালন পালন করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, আদর্শ প্রাণিসেবা খামারিদের থেকে সরাসরি আঞ্চলিক হাটের পাশাপাশি,  অনলাইনেও ক্রেতাদের কাছে গরু বিক্রি করে থাকে। যার ফলে কোনো মধ্যস্থতাকারী না থাকায় খামারিরা সর্বোচ্চ লাভ পেয়ে থাকেন।

আদর্শ প্রাণিসেবার কর্মকর্তারা বলেছেন, এবারের কোরবানি ঈদ ২০২২-কে সামনে রেখে প্রাণিসেবা যৌথ খামার প্রকল্পের আওতায় থাকা গরুগুলো বিক্রি করা হবে প্রাণিসেবা শপের (http://pranishebashop.com.bd/qurbani_haat) মাধ্যমে।

এ বিষয়ে আদর্শ প্রাণিসেবার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিদা হক বলেন, যৌথ খামার প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রান্তিক ক্ষুদ্র খামারিদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে খামার পদ্ধতিকে সহজ করা। সর্বোপরি আমাদের পল্লী অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি খামারি ভাইদের ভাগ্যোন্নয়নেও কার্যকরী ভূমিকা রাখা।



সাতদিনের সেরা