kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

ফ্রিজ সংযোজন শিল্পকে উৎসাহ দান

দেশীয় উৎপাদন শিল্প নিয়ে অনেকের উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক   

১১ জুন, ২০২২ ২২:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশীয় উৎপাদন শিল্প নিয়ে অনেকের উদ্বেগ

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ সংযোজন শিল্পে খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যহারে শুল্ক কমানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে ফ্রিজ উৎপাদন পর্যায়ে সংযোজনকারী বা অ্যাসেম্বলারদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। দেশের অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এই বাজেট প্রস্তাবনায় সুফল পাবেন ফ্রিজ উৎপাদন পর্যায়ে স্থানীয় অ্যাসেম্বলাররা। এতে করে দেশীয় ফ্রিজ উৎপাদন অ্যাসেম্বলিং শিল্পে খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি পরিমাণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যা কিনা ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ঠেকাতে সরকারের নেওয়া আমদানি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিপরীত।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট বক্তৃতা এবং বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'দেশের ভেতর যেসব পণ্য উৎপাদন করা যায়, সেগুলো বিদেশ থেকে আনা আমরা নিরুৎসাহিত করছি। দেশের ভেতরে যেসব পণ্য উৎপাদন হয়, সেগুলো যদি আমাদের ব্যবহারে লাগে, তাহলে উৎপাদন আরো বাড়ানো হোক। ওই সব পণ্য বিদেশ থেকে আনা আমরা ভালোভাবে দেখি না। আমরা এভাবেই মেড ইন বাংলাদেশ কনসেপ্টকে এগিয়ে নিয়ে যাব। ' কিন্তু বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজেট উপস্থাপনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করে। এসআরও তে রেফ্রিজারেটরের উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। এসআরও অনুযায়ী রেফ্রিজারেটরের প্রধান অংশ (মেইন পার্টস) এবং যেকোনো দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উৎপাদন করলে কোনো প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরি-১ এর উৎপাদক হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায়, ফ্রিজের বডি কেবিনেট উৎপাদন করলেই (বাকিটা আমদানি করে) রেফ্রিজারেটর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরি-২ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে অতি অল্প বিনিয়োগ এবং লোকবল ব্যবহার করেই তারা উৎপাদকের সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

খাতসংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশীয় উদ্যেক্তারা পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনমুখী শিল্পের পরিবর্তে সংযোজন শিল্প স্থাপনে বেশি আগ্রহী হবেন। তারা বলছেন, ফ্রিজ উৎপাদনে বাংলাদেশ এর মধ্যেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সরকারের দেওয়া শিল্পবান্ধব সহায়ক নীতি ও কর সহায়তায় উৎপাদনশীলতার দিকে এগিয়ে গিয়েছে দেশের ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য শিল্প খাত। বর্তমানে দেশে ফ্রিজ, টিভি, এসির মতো ইলেকট্রনিক্স পণ্যের পুরোপুরি উৎপাদনমুখী বেশকিছু শিল্প বিকাশ লাভ করেছে। দেশীয় শিল্পোদ্যাক্তারা বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে কারখানায় ব্যাপক পরিসরে অত্যাধুনিক সব মেশিনারিজ স্থাপনের মাধ্যমে ফ্রিজ ও এর আনুষঙ্গিক সকল যন্ত্রাংশ এখন দেশেই তৈরি করছে। স্থানীয় বাজারে ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি পণ্যের সিংহাভাগ চাহিদা মিটাতে সক্ষম হচ্ছেন এ খাতের উৎপাদনমুখী দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা। শুধু তাই নয়; দেশে তৈরি উচ্চ গুণগতমানের ফ্রিজ এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় ফ্রিজ উৎপাদন শিল্পের তৈরি 'মেইড ইন বাংলাদেশ' খ্যাত পণ্য বিশ্ববাজারে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছে।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, দেশীয় কম্প্রেসর ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদন শিল্পে সরকার যেহেতু নতুন উৎপাদকদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, তার মানে সরকার এই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে যারা স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান অবশ্যই তাদের প্রাধান্য দেওয়া উচিত।



সাতদিনের সেরা