kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

'ডেল্টা প্ল্যান নতুন প্রজন্মের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সেরা উপহার'

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ মে, ২০২২ ২১:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'ডেল্টা প্ল্যান নতুন প্রজন্মের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সেরা উপহার'

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য দেশ নির্মাণে সবাইকে নিয়ে কাজ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে শতবর্ষী বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান-২১০০।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত বাংলাদেশ বির্নিমাণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আবাসযোগ্য দেশ প্রতিষ্ঠায় ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ গ্রহণ করা হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অধিকাংশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওপর।

বিজ্ঞাপন

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে চলছে।

প্রতিমন্ত্রী আজ রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে ডেল্টা প্লান বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০' গ্রহণ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে সেরা উপহার। এই মহাপরিকল্পনায় ২০৩০ সালে আমাদের কি অর্জন করতে হবে; ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ বির্নিমাণে করণীয় এবং ২০৫০ সাল পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে দেশের পানিসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমের ব্যপ্তি বহুগুণে বেড়েছে এবং একই সঙ্গে কাজের গুণগত মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্ত সংস্থাসমূহের কার্যক্রমে গতিশীলতা এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ডেল্টা প্ল্যানে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ছয়টি হটস্পট। যেগুলো রয়েছে মূলত পানি ও জলবায়ু উদ্ভুত অভিন্ন সমস্যাবহুল অঞ্চলে। এগুলো হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, নদী অঞ্চল এবং মোহনা ও নগরাঞ্চল। পরিকল্পনায় হটস্পট-ভিত্তিক সমস্যাগুলো আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, হাওরাঞ্চলে টেকসই প্রকল্প গ্রহণের ফলে এ বছর কৃষকরা হাসিমুখে ফসল ঘড়ে তুলতে পেরেছে। উপকূলেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। নদী বা খালের ন্যাব্যতার লক্ষ্যে ড্রেজিং, বনায়ন করা হচ্ছে। বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যার দৃঢ়তা, সাহসিকতার ও অগাধ দেশপ্রেমের জন্য।

তিনি আরো বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের পানি এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নানাবিধ উন্নয়ন ধারায় আমাদের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। সকল ক্ষেত্রে পানির সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে আমাদের টেকসই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার পানিসম্পদ উন্নয়নে ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা প্রদান করবে এবং পানির দূষণ কমাতে সক্ষম হবে।

সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য খান মো. নুরুল আমিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান।



সাতদিনের সেরা