kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

'চর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন'

অনলাইন ডেস্ক   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ২২:০৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



'চর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন'

রংপুরে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক আঞ্চলিক চর সম্মেলনে উপস্থিত সুধীজন উল্লেখ করেন, চর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন।

ইউএসএআইডির অর্থায়নকৃত ও কেয়ার বাংলাদেশ কর্তৃক পরিচালনাধীন সৌহার্দ্য ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স (এনসিএ) যৌথভাবে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। চর অঞ্চলে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের বর্তমান চিত্র তুলে ধরা এবং বিভিন্ন অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে উন্নয়নের প্রধান ক্ষেত্র সম্বলিত একটি 'ইনগেজমেন্ট প্ল্যান ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভস্ ফর চর রিজিওন' তৈরি করার জন্য সকলের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করা ছিল এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ কে এম এনামুল হক শামীম, এমপি, উপমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রাণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে চলমান 'সফল মডেলস ও সম্ভাবনাসমূহ' ও 'বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশসমূহ' বিষয়ক দুটি আলোচনায় যথাক্রমে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মাননীয় সংসদ সদস্য (গাইবান্ধা ১), সদস্য, স্ট্যান্ডিং কমিটি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এম এ মতিন, মাননীয় সংসদ সদস্য (কুড়িগ্রাম ৩) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রমেশ সিং, কান্ট্রি ডিরেক্টর, কেয়ার বাংলাদেশ সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনটি সভাপতিত্ব করেন।

চর সম্মেলন ২০২১ কে কেন্দ্র করে কেয়ার বাংলাদেশ এনসিএর সাথে যৌথভাবে চর অঞ্চলে বিদ্যমান সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রাইভেট সেক্টর, ব্যবসা সম্প্রদায়, উন্নয়নকর্মী এবং সিএসও/এনজিওর সাথে বেশকিছু প্রি-ইভেন্ট কনসালটেশনের আয়োজন করে। এই প্রি-কনসালটেশন সভাগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল চর অঞ্চলে চলমান উন্নয়নকার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হওয়াসহ এই অঞ্চলের উন্নয়নের সম্ভাবনা, কার্যকর মডেলসমূহ সম্পর্কে জানা ও উন্নয়নকে কেন্দ্র করে একটি এনগেজমেন্ট প্ল্যান তৈরির দিক-নির্দেশনা পাওয়া। চর সম্মেলন ২০২১ এর উদ্দেশ্যসমূহ নির্ধারণের জন্য এই প্রি-ইভেন্ট কনসালটেশনগুলো বিশেষভাবে সহায়তা করেছে। এর ফলে সকল অংশীজনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সর্বাঙ্গীন ও সমন্বিত উন্নয়ন প্রচেষ্টার দিকে ধাবিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং প্রস্তাবিত উন্নয়নকার্যক্রম ও তাদের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার জন্য প্রধান প্রধান অংশীজনদের নিয়ে একটি ইনগেজমেন্ট প্ল্যান ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভস ফর দি চর রিজিওন এর প্রস্তাবনা গৃহীত হওয়া সম্ভব হয়েছে।

ড. আতিউর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স ও প্রাক্তন গভর্নর, চর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় বরাদ্দকৃত ১০০০ কোটি টাকার মধ্যে ২১৭ কোটি টাকা চরে বসবাসকারী ৯৪০০০ জন মানুষের জন্য। তিনি চরবাসীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের কমপক্ষে ২০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি রাখেন। তিনি মনে করেন, এডিপির আওতায় এই বরাদ্দ কমপক্ষে ৩০% হওয়া উচিত।

বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে চীনের পরপরই বাংলাদেশে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ মাইগ্রেশনের শিকার হন এবং জলবায়ুজনিত প্রভাবে শিশুদের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনার দিক দিয়ে বাংলাদেশ প্রথম। তিনি বলেন, চর অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকারের আওতাধীন চর ফাউন্ডেশন/বোর্ড গঠন করা উচিত যা সমস্ত উন্নয়ন কার্যক্রমকে সমন্বয় করবে। পাশাপাশি, চর উন্নয়নের সহায়ক নীতির ধারবাহিকতা থাকা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথি জনাব এ কে এম এনামুল হক শামীম চর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়িত চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট প্রজেক্ট-৫ এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি মুজিব ফোর্ট (আশ্রয়কেন্দ্র) কে একটি ইনোভেটিভ কার্যক্রম বলে উল্লেখ করে। জনাব শামীম এ উন্নয়নে অংশগ্রহণকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন চরের মানুষদের উন্নয়নের জন্য সকলের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।  

মার্ক নসব্যাক, চিফ অব পার্টি, সৌহার্দ্য, কেয়ার বাংলাদেশ বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ না করতে পারা নারী ও কিশোরীরা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ক্ষতির শিকার হয়। তিনি আরো উল্লেখ করেন, উন্নয়নের নানান পরিকল্পনা ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হলেও চরের মানুষ অনেক সময়ই এই প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যায়।

সৌহার্দ্য কর্মসূচি ও রাইমস জুলাই ২০১৯ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত যৌথভাবে 'ইমপ্রুভড ওয়েদার অ্যান্ড ফ্লাড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর কমিউনিটি বেজড রিস্ক এবং রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ' প্রকল্প পরিচালনা করেছে। বাংলাদেশের চর ও হাওড় অঞ্চলে অবস্থিত, সৌহার্দ্য কর্মসূচির আওতাধীন আটটি জেলার ১৩টি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে বসবাসকারী ১০,১৯১ জন মানুষের মধ্যে কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হয়েছে। কমিউনিটি-ফোকাসড এবং মাল্টি-সেক্টোরাল অ্যাকশন-ওরিয়েন্টেড পূর্বাভাস প্রদানের মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষদেরকে ঝুঁকি ও তাদের সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে, অতি সম্প্রতি শেষ হওয়া এই প্রকল্প/কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ শিখনসমূহ ইউএসএআইডি ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।



সাতদিনের সেরা