kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

অদম্য কর্মস্পৃহা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব মজিবর রহমান

অনলাইন ডেস্ক   

৪ আগস্ট, ২০২১ ১৮:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অদম্য কর্মস্পৃহা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব মজিবর রহমান

বলা হয়ে থাকে, দেহের বয়স কেবলই একটি সংখ্যা, মনের বয়সই আসল বয়স। অথচ, বয়স চল্লিশের কোঠা পেরোলেই মুষড়ে পড়েন অনেকে। তবে, সেই দলের নন ময়মনসিংহের মজিবর রহমান (হাদিউল)। বয়স পঞ্চাশ ছাড়িয়ে গেলেও মুখে প্রাণোচ্ছল হাসি আর মনে অনিঃশেষ প্রাণশক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ফুডপ্যান্ডার রাইডার হিসেবে। আজকের গল্পটা তাঁকে ঘিরেই।

গৃহিণী মা, ব্যবসায়ী বাবা ও ছয় ভাই-বোনের পরিবারে মজিবর রহমান দ্বিতীয়। দারিদ্র থেকে উঠে আসা মজিবর স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে পরিবারের অভাব-অনটন দূর করবেন, ছোট ভাই-বোনদের পড়ালেখা করাবেন। সেই লক্ষ্যেই ১৯৮৬ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় পড়াশোনা বাদ দিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ ছেড়ে ঢাকা আসেন তিনি। কিন্তু বিধি বাম! ভাগ্যে জোটেনি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি। গার্মেন্টস ও দীর্ঘ সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেলস বিভাগে কাজ করার পর একসময় চাকরি ছেড়ে নামেন ব্যবসায়। নিজ উদ্যোগে পোশাক ও কসমেটিক্সের ব্যবসা শুরু করেন।

সততা ও ন্যায়পরায়ণতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মজিবর রহমানের কাছে। সৎভাবে উপার্জনই সুখে থাকার মূলমন্ত্র বলে মনে করেন তিনি। আর এজন্যই, ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায় সময় বিপাকে পড়তে হয় তাকে। এমনি একদিন রাস্তায় তার চোখে পড়ে ফুডপ্যান্ডার রাইডারদের। তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে রাইডার হিসেবে কাজ করতে আগ্রহ জাগে তার মনে। তৎক্ষণাৎ তিনি এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তার পরিচিত এক ফুডপ্যান্ডা রাইডার থেকে ফুডপ্যান্ডা সম্পর্কিত সকল তথ্যাদি জোগাড় করেন। সে সময় নিজস্ব সাইকেল থাকলেও, ছিল না কোন স্মার্টফোন। তাই, একটি স্মার্টফোন কিনে নিয়ে তা চালানো শিখে নেন সেই রাইডার থেকে। এরপর ২০১৮ সালে দিকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তিনি যোগ দেন ফুডপ্যান্ডায়। বর্তমানে, তিনি ফুডপ্যান্ডার বেইলি রোড জোনে একজন গর্বিত রাইডার হিসেবে কাজ করছেন।

‘মানুষ চাইলে করতে পারে না এমন কোন কাজ নেই। ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব’ – ফুডপ্যান্ডায় রাইডার হিসেবে যোগদানের সময় কাজ করতে পারবেন কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে হাসিমুখে এমনটাই বলেছিলেন মজিবর রহমান। বয়সের কারণে পিছিয়ে থাকতে রাজি নন তিনি। সামনেই ফুডপ্যান্ডা থেকে ঋণ নিয়ে মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা করছেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি আরও দ্রুত কাজ করতে পারবেন এবং কম সময়ে গ্রাহকদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে পারবেন।

সকাল দশটা থেকে সাইকেল নিয়ে ঢাকার অলিগলি ঘুরে মানুষের বাড়ির দোরগোড়ায় খাবার পৌঁছে দেন মজিবর রহমান। দিনে কয়েক ঘণ্টা বিরতি নিয়ে রাতে আবার কাজ করেন। এ কাজকে তিনি এক ধরনের সেবা হিসেবে দেখেন। ক্লান্তি যেনো তাকে ছুঁতে পারে না। ফুডপ্যান্ডায় রাইডারদের নিজের সুবিধামতো সময়ে কাজ করার সুযোগ থাকায় নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারেন। কাজ ও উপার্জন দুই

নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট। করোনা প্রকোপের ফলে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করা হলে অন্যান্য রাইডারদের সাথে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরবন্দি মানুষের কাছে অর্ডারকৃত খাবার পৌঁছানোর কাজ করেন তিনি। এই কঠিন সময়ে মানুষের সেবায় কাজ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত।

বর্তমানে, মজিবর রহমান ঢাকার মগবাজারে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। তার স্ত্রী তাহেরা আক্তার শিশুদের আরবি শিক্ষা দেন এবং দুই মেয়ে মাদ্রাসায় যথাক্রমে পঞ্চম ও সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। এই বয়সেও মজিবরের উদ্যমী মনোভাব ও কর্মোদ্দীপন অনুপ্রাণিত করে অনেক তরুণদের।

ফুডপ্যান্ডায় রাইডার হিসেবে কাজ করে মজিবর রহমানের মতো আরও অনেকেই পরিবার নিয়ে স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন। এসব রাইডারদের ক্ষেত্রে বয়স, লিঙ্গ, আর্থিক অবস্থা কোন কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি, সকল পরিস্থিতিতে ফুডপ্যান্ডার রাইডাররা দিন-রাত কাজ করছেন বলেই বাসার বাইরে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য বা খাবার সংগ্রহে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিতে হচ্ছে না ক্রেতাদের। আর এভাবেই মজিবরের মতো হাজারো মানুষের জন্য উপর্জনের সুযোগ তৈরী করে দিচ্ছে ফুডপ্যান্ডা এবং অন্যান্য অনলাইন ডেলিভারী প্ল্যাটফর্ম। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।



সাতদিনের সেরা