kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

হিরোর দেশ বাংলাদেশ

সজীব আহমেদ   

২১ জুন, ২০২১ ১০:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হিরোর দেশ বাংলাদেশ

নাগেন্দ্র দিবেদী, সিওও, এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেড।

‘বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪০টি দেশে হিরো  মোটরসাইকেল চলছে। পুরো বিশ্ববাজার টার্গেটে রেখেই আমরা এগোচ্ছি। বাংলাদেশে আমাদের বছরে তিন লাখ ইউনিট উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে আমাদের কোনো ঘাটতি নেই। বাংলাদেশের মার্কেটে বিশাল সম্ভাবনা আছে আমাদের। অর্থনৈতিকভাবে এই দেশ দ্রুত খুব ভালো করছে। মাথাপিছু আয় বাড়ছে। ফলে মোটরসাইকেল ব্যবসার জন্য এটি ইতিবাচক নির্দেশক।’

সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন, এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেডের সিওও নাগেন্দ্র দিবেদী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ স্বভাবতই মোটরসাইকেলপ্রিয়। মোটরসাইকেলের প্রতি তাদের যথেষ্ট আগ্রহ আছে। ভারতের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সেখানে ১০০ সিসি সর্বোচ্চ বিক্রি হয়। এখানে তা নয়; ১২৫, ১৫০ ও ১৬০ সিসির মোটরসাইকেল অনেক ভালো বিক্রি হয়। এটা প্রমাণ করছে, এখানকার তরুণরা মোটরসাইকেলপ্রিয়। এটা দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই আনন্দিত। মোটরসাইকেলের জন্য বাংলাদেশে সড়ক ও অবকাঠামো সক্ষমতা যথেষ্ট ভালো। এই রোডগুলো মোটরসাইকেল চালানোর জন্য যথেষ্ট উপযোগী।’

নাগেন্দ্র দিবেদী বলেন, ‘বাংলাদেশে ২০১৭ সালের জুনে প্রথম হিরো মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু হয়। করোনার আগে ভারতে বছরে দুই কোটি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে হিরো মোটরসাইকেল বিক্রি হতো ৯০ লাখ। ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি মার্কেট শেয়ার হিরোর দখলে। হিরো বিশ্বমানের ও নির্ভরযোগ্য পণ্য সরবরাহ করে, গ্রাহক যার ওপর আস্থা রাখতে পারে। গ্রাহকদের যাতায়াত সুবিধার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনায় আমরা বিশ্বাস করি।’

হিরোর কারখানায় চলছে মোটরসাইকেল তৈরির কাজ

তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে গ্রাহককে সেবা প্রদানে আমরা মূল্য দিই। ফলে যেসব পণ্য এই দেশে সরবরাহ করছি, যেসব পণ্য ইউরোপ-আমেরিকায় যাচ্ছে—সবই একই মানের। কোনো দেশের ক্ষেত্রেই আমরা গুণগত মানে ছাড় দিই না। গ্রাহক হচ্ছে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। বাংলাদেশে আমাদের ১০টি মডেলের মোটরসাইকেল আছে। ১০০ সিসি থেকে শুরু করে ১৬০ সিসি বর্তমানে উৎপাদন করছি।’

করোনা মহামারিতে ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি আমাদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে। সুযোগ এই কারণে যে বর্তমানে মানুষ ব্যক্তিগত বাহনের কথা বেশি ভাবছে। করোনার প্রভাব কমলেও মোটরসাইকেলশিল্প চাঙ্গা হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য বড় একটি সুযোগ।’

হিরোর বড় অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় মাইলফলক হচ্ছে, হিরো মোটোকর্প বিশ্বে ২০১০-২১ সাল পর্যন্ত ১০ কোটির বেশি মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে। অর্থাৎ মাত্র ১১ বছরে এই মাইলফলক স্পর্শ করল হিরো, যা বিশ্বের যেকোনো কম্পানির জন্য প্রথম।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যখন প্রথম কোনো বাহন কেনে, মোটরসাইকেলের প্রতিই তাদের আগ্রহ বেশি থাকে। ফলে এই দেশের মার্কেটে বছরে দুই লাখ ইউনিট আমরা বিক্রি করতে পারব। সেই সময় বেশি দূরে নয়। বিক্রয়োত্তর সেবার ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু উদ্যোগ আছে। ‘জয়রাইড’ কার্ড-এর মাধ্যমে গ্রাহকরা দীর্ঘমেয়াদী বিক্রয়োত্তর সেবা পাবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ সম্পর্ক তৈরি হবে।’ এরই মধ্যে আমরা দিচ্ছি পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি এবং আমাদের ২০০টির বেশি চ্যানেল পার্টনার রয়েছে। ওয়াকর্শপগুলো পর্যাপ্ত সরঞ্জামসমৃদ্ধ। শুধু বিশেষ সার্ভিস সেন্টার ও প্রদর্শনীকেন্দ্র আছে ১৮০টির ওপরে। আমরা ২০ বছর ধরে মার্কেটে নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ড। দীর্ঘ এই নেতৃত্ব কম্পানির জন্য একটা বড় অর্জন।’

এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেডের সিওও বলেন, ‘আমরা মোটরসাইকেল যখন বিক্রি করি, নিরাপত্তার বিষয়ে গ্রাহকদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করি। যেমন—সড়কের নিয়ম মেনে চলতে হবে, লাইসেন্স থাকতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য আমরা ডিজিটাল কোর্স চালু করেছি। গ্রাহক নিজেই নিজের মোটরসাইকেলের যত্ন নিতে পারবে।’

বিশ্ব মোটরসাইকেল দিবস নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব মোটরসাইকেল দিবস মানে হচ্ছে, আমার ব্যক্তিগত জীবনে মোটরসাইকেলের গুরুত্ব স্বীকার করছি। আমি মনে করি, মোটরসাইকেল হচ্ছে চলাচলের অত্যন্ত টেকসই একটি বাহন। ট্রাফিক জ্যাম, পার্কিং সমস্যা—সব ক্ষেত্রেই এটি সুবিধাজনক। এটি রাখতে খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। জ্বালানি কম খরচ হয়, চলাচলে অর্থের সাশ্রয় হয়। তাই সার্বিকভাবে মোটরসাইকেলের গুরুত্ব আছে।’

বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল উৎপাদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বৈদ্যুতিক বাইক নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। ভারতে এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশে আরো সময় লাগবে।’



সাতদিনের সেরা