kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

তরুণ আঁকিয়েদের প্রতিভার বিকাশে বার্জার পেইন্টস

অনলাইন ডেস্ক   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তরুণ আঁকিয়েদের প্রতিভার বিকাশে বার্জার পেইন্টস

চিত্রকলাকে একটি দেশের ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক ও বাহক বিবেচনা করা হয়। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ও জাতিসত্ত্বা বিকাশের সুদীর্ঘ পথচলার নানান বিষয়গুলো চিত্রশিল্পীদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে। ফলে, এই চিত্রকর্মগুলো হয়ে উঠেছে আমাদের সমাজ, সভ্যতা ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

চিত্রের ভাষা চিরন্তন। দেশ-কালের সীমানা ছড়িয়ে তা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। যেহেতু চিত্রকলায় ছবির মাধ্যমে কোন একটি ধারণাকে ফুটিয়ে তোলা হয় তাই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মানুষ সহজেই এর ভাষা বুঝতে পারেন। এ কারণেই বলা হয়ে থাকে একটি চিত্র বা ছবি হাজার শব্দের চেয়ে বেশি কথা বলে।

১৯৪৮ সালে ঢাকায় চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এদেশে আধুনিক চিত্রকলার যাত্রা শুরু হয়েছিল। তবে, বাংলাদেশের চিত্রকলা পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি পর্বে এসে আধুনিক আঙ্গিক পেতে থাকে। এ সময় বাংলাদেশের চিত্রকলার অগ্রগতি সাধনে নিরীক্ষাধর্মী কাজ শুরু করেন চিত্রশিল্পীরা। যার নেতৃত্বে ছিলেন জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, আনোয়ারুল হক ও সফিউদ্দিন আহমেদ এর মতো শিল্পীরা। পরবর্তীতে, আরো অনেক চিত্রশিল্পী বিভিন্ন ধরনের বিষয়কে তাদেরকে চিত্রকর্মের উপজীব্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিখ্যাত চিত্রকর শেখ মোহাম্মদ সুলতানের কথা। তিনি তাঁর জীবনের মূল সুর-ছন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, কৃষক এবং কৃষিকাজের মধ্যে। আবহমান বাংলার সেই খেটে খাওয়া কৃষিজীবী মেহনতি মানুষের ইতিহাস-ঐতিহ্য, দ্রোহ-প্রতিবাদ, বিপ্লব-সংগ্রাম এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার ইতিহাস তার শিল্পকর্মকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে।

এই সব প্রথিতযশা শিল্পীদের ঐতিহ্যকে বহন করে বাংলাদেশের চিত্রকলাকে সমৃদ্ধ করার জন্য তরুণ চিত্রশিল্পীদের বিকাশে বিদ্যায়তনিক পর্যায়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, এই সব তরুণ চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্মগুলোকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে। বাংলাদেশে উদীয়মান চিত্রশিল্পীদের বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৬ সাল থেকে তরুণ চিত্রশিল্পীদের বিকাশে চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তরুণ চিত্রশিল্পীদের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ নিয়ে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) এ কে এম সাদেক নাওয়াজ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে, দেশের উদীয়মান চিত্রশিল্পীদের উৎসাহ দেয়ার জন্যই আমরা এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। আমরা বহুদিন ধরে লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশের মেধাবী ও দক্ষ তরুণ চিত্রশিল্পীরা নিজেদের সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য সঠিক জায়গা, যথেষ্ট উৎসাহ ও বেশি পরিমাণে জনগণের কাছে নিজেদের কাজগুলোকে উপস্থাপন করতে পারছে না বলে সঠিকভাবে তাদের সম্ভাবনাসমূহেরও বিকাশ ঘটছে না। তাই, এ সকল তরুণদের সম্ভাবনা উন্মোচনে আমরা এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে তরুণ চিত্রশিল্পীরা যেনো তাদের দুর্দান্ত শিল্পকর্মগুলোর মাধ্যমে সারাদেশে জনপরিচিতি অর্জন করতে পারেন।’

এই আয়োজনটির যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিবছরগুলোতেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ্রগহণকারীর সংখ্যা ও চিত্রকর্ম জমা পড়ার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের তরুণদের সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে এই প্রতিযোগিতাটির যথার্থতাকে ও তরুণ চিত্রশিল্পীদের সহায়তায় বার্জার পেইন্টসের ইতিবাচক মনোভাবকেই প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য, ২৫তম বার্জার তরুণ শিল্পী চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতা ২০২০-এ ৩৯২ জন প্রতিযোগী অংশ নেন এবং এতে ৭৭২টি চিত্রকর্ম জমা পড়ে। বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে প্রাইজ মানি, ক্রেস্ট, সনদ প্রদান করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা