kalerkantho

শনিবার । ২১ ফাল্গুন ১৪২৭। ৬ মার্চ ২০২১। ২১ রজব ১৪৪২

রজত জয়ন্তীতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

আসমা আক্তার   

২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৬:৪২ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



রজত জয়ন্তীতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

দেশে বর্তমানে শতকেরও ঊর্ধ্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠাতাদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও ইচ্ছার স্বতন্ত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য । ব্যক্তি মাত্রেরই নিজস্ব চিন্তা ধারা থাকে। সেই চিন্তাধারার স্পর্শ ঘটে তার কর্মে-ধ্যানে ও সামগ্রিক পথ চলায়। ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক হলেন সেই রকম একজন মানুষ যিনি তার কর্ম, ধ্যান, নিষ্ঠা ও শ্রমের দ্বারা এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেন শিক্ষার নব দিগন্ত উন্মোচন করার লক্ষ্যে। প্রফেসর ডঃ আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য। আগামী ৪ঠা জানুয়ারি ২০২১,আমাদের এই প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় ২৫ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। সেজন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ড. সাদেক স্যারকে শুভেচ্ছা জানাই। ১৯৯৬ সালের ৪ঠা জানুয়ারি যে বীজ ড. সাদেক বপন করেছিলেন এই দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে তা আজ পূর্ণ যৌবনা। আজ তা ডালপালা মেলে এক বিশালাকায় বৃক্ষে পরিণত হয়েছে । মাত্র ২৯৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আলোকের অভিসারে যাত্রা করা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ হাজারের অধিক (২০১০ এর হিসাব অনুযায়ী)। আজ তা আরো বিস্তার লাভ করেছে।

বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা শিক্ষা অর্জন করার সুযোগ পান না। আবার দেখা যায় শিক্ষা অর্জন করতে এসে অনেকেই বাস্তবতার কারণে শিক্ষাজীবন পূর্ণ করতে পারেন না। তারপরও যারা এগিয়ে যায় তাদের একটা অংশ উচ্চ মাধ্যমিকের পরে ঝরে পড়ে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা পেশাগত জীবনে ঢুকে ইতি টানে শিক্ষাজীবনের। আবার আমরা জানি আমাদের দেশে বাল্যবিবাহের হার এখনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রয়েছে। অনেক মেয়েকে স্কুল-কলেজের গণ্ডী পেরোনোর আগেই তাদের সংসারের গুরুদায়িত্ব বুঝে নিতে হয়। ফলে তারা শিক্ষা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। আবার অনেকে আছেন জীবনের নানা জটিলতার সম্মুখীন হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে পারেন না। উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবই মূলত এর কারণ। এই চিত্র আজ থেকে ২৫ বছর আগে আমাদের দেশে ব্যাপক হারে প্রতীয়মান ছিল। তবে শিক্ষা সমস্যার সমাধানে বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষণে পরিচিত তাদের শিক্ষা বাজেট রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত। তাই স্বল্প খরচে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন সহজ। কিন্তু পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন ও সুযোগ সেখানে হয় না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সেই অপর্যাপ্ততা দূর করার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মূলত এগিয়ে এসেছে। দেশে এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৩টি। এগুলোর মধ্যে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ অন্যতম। এই বিশ্ববিদ্যালয় অনন্যতার স্বাক্ষর রেখেছে এর চালুকৃত কোর্স নির্বাচনে, টিউশন ফি নির্ধারণে আর দরিদ্র ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে।

অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী লাভজনক কোর্স চালু রাখে। মূলত শিক্ষা ও অর্থায়ন যোগ্যতা এই দুয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অবকাঠামো। এই কারণেই যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বাজারমুখী পেশাভিত্তিক বিষয়ের আধিক্য দেখা যায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে। এখানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি আর সবার থেকে আলাদা। এ বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধনী কোর্সসমূহের মাঝেই বাজারমুখী পেশাভিত্তিক বিষয়সমূহের সাথে সাথে অবাজারমুখী নিরেট শিক্ষা-মননশীল কোর্সও চালু করে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে সুনামের সাথে। এখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ানো হয়:- বাংলা, ইংরেজি, ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামিক ইতিহাস ও সভ্যতা , ইকোনমিকস, সমাজ কর্ম, সোসিওলজি এন্ড এনথ্রপলজি, সরকার ও রাজনীতি, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সাইন্স ও বিএড। শুধু স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ানো হয় তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা। বাজার মুখী পেশাভিত্তিক বিষয়সমূহের শিক্ষার খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। এজন্য এসব বিষয়ে টিউশন ফিও বেশি। তবে এই টিউশন ফি অন্য যেকোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে কম।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের মধ্যে এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতেই প্রথম চালু করা হয় দূরশিক্ষণ পদ্ধতি। ক্যাম্পাস এবং দূরশিক্ষণ এই দ্বৈত শিক্ষা পদ্ধতি একই সাথে চালু রেখে এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিয়েছে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লাস এবং বয়সের কোন বাধ্যবাধকতা না থাকার ফলে কর্মজীবী, গৃহবধূ ও নানা কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বপ্নচারী শিক্ষার্থীরা সকলেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে এবং তা সম্পন্ন করছে অত্যন্ত আনন্দ চিত্তে। এছাড়াও এশিয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের রয়েছে ক্রেডিট ট্রান্সফারের বিশেষ সুযোগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেডিট ট্রান্সফারের সমঝোতা চুক্তি রয়েছে। তার মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র; অ্যাসল্যান্ড ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; ইউনিভার্সিটি অব জর্ডান, জর্ডান; তেহরান ইউনিভার্সিটি , ইরান; ইউনিভার্সিটি তুন আব্দুর রাজ্জাক, মালয়েশিয়া উল্লেখযোগ্য। চুক্তি ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ রয়েছে।

যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু শিক্ষা প্রদানই লক্ষ্য থাকে না। এর পাশাপাশি শিক্ষা-সাহিত্য, গবেষণা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও খেলাধুলা এগুলো চালানো হয়। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি এসব বিষয়ে সফলতার অনেক স্বাক্ষর রেখেছে দেশে এবং বিদেশে। এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে কয়েক লক্ষাধিক বইয়ের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় পাঠাগার এবং বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বেশ উন্নত আর আধুনিক মানসম্মত কম্পিউটার ল্যাব। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের শিক্ষার্থীরাও জ্ঞান অর্জনের জন্য আসে । শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়ে তারা নিজেদেরকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করছে। বর্তমানে ৫০ এরও অধিক বিদেশি শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত রয়েছেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এমন বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা একশরও অধিক।

জাতির শিক্ষার হার উন্নতির মাধ্যমেই একটি জাতি অগ্রগতির ধারায় এগিয়ে যায়। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি জাতির এই অগ্রগতির হার ত্বরান্বিত করেছে শিক্ষা সুলভ ও সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে। এই করোনাকালীন সময়ে এই ভার্সিটি একদিনের জন্যও তার শিক্ষা কার্যক্রম থামিয়ে রাখেনি। এখানে অনলাইনে পাঠদান ব্যবস্থা, কোর্স ম্যাটিরিয়ালস সরবরাহ এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। শুধু তাই নয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই করনাকালীন সময়ে হতাশ না হয় তাই তাদের জন্য অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কো-কারিকুলাম কার্যক্রমেরও ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। যেমন ওয়েবিনার(অনলাইন সেমিনার), ওয়ার্কশপ, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাহিত্য আড্ডা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সুতরাং এই পঁচিশ বছরের এশিয়ান ইউনিভার্সিটিকে নিয়ে আজ আমরা বলতে পারি, এই ইউনিভার্সিটি অনেকের না পাওয়াকে পাওয়ায় পরিণত করেছে, হতাশাকে আশায় রূপান্তরিত করেছে, সুপ্ত বাসনাকে প্রস্ফুটিত করেছে এবং তাদের নতুন করে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-
তুমি এগিয়ে যাও রজত থেকে সুবর্ণতে,
সুবর্ণ থেকে হিরকে, হিরক থেকে প্ল্যাটিনামে,
প্ল্যাটিনাম থেকে শতবর্ষে আর শতবর্ষ থেকে অসীমে।
তুমি তোমার জ্ঞানের আলোয় আমাদেরকে আলোকিত করো
আলোকিত করো এই বিশ্বকে।

শুভেচ্ছা জানাই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ও এর প্রতিষ্ঠাতাকে। আরো শুভেচ্ছা জানাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ভালোবাসায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এগিয়ে চলেছে।

(লেখক- সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা