kalerkantho

রবিবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৫ রজব ১৪৪২

করোনা টিকার জন্য জেএমআই'র দেড় কোটি সিরিঞ্জ ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি

অনলাইন ডেস্ক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৪:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা টিকার জন্য জেএমআই'র দেড় কোটি সিরিঞ্জ ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি

করোনার টিকা দেয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ থেকে দেড় কোটি সিরিঞ্জ নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতের দেশীয় প্রতিষ্ঠান জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস লিমিটেড বিশেষ ধরনের এই সিরিঞ্জ সরবরাহ করছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সবশেষ চালানে ৬৯ লাখ পিস সিরিঞ্জ ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে জাহাজে তোলা হচ্ছে।

জানা গেছে, জেএমআই গ্রুপ মিয়ানমার, ভুটান, ইউরোপ-উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ও ভিয়েতনামসহ বিশ্বের ৩৬টি দেশে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী রপ্তানি করে থাকে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস-এ রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বিনিয়োগ। দেশে এই প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কারো করোনার টিকা দেয়ার উপযোগী সিরিঞ্জ উৎপাদনের সক্ষমতা নেই। মাত্র পাঁচ মাস সময়ের মধ্যে দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য টিকা দেয়ার সিরিঞ্জ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস লিমিটেডের।

এ প্রসঙ্গে জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস লিমিটেডের প্ল্যান্ট ম্যানেজার আব্দুল মজিদ জানান, করোনার টিকা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হয় অটো ডিজেবল (এডি) সিরিঞ্জ, বাংলাদেশে যার একমাত্র উৎপাদনকারী জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ করোনার টিকা কার্যক্রম হাতে নেয়ায়, নানা দেশ থেকে ক্রয় প্রস্তাব পাচ্ছি আমরা। ইন্দোনেশিয়াতে দেড় কোটি সিরিঞ্জ বিক্রির মাধ্যমে এরই মধ্যে রপ্তানি শুরুও হয়েছে। প্রায় ২৬ লাখ একই ধরনের সিরিঞ্জের ক্রয়াদেশ পেয়েছি পাকিস্তান থেকে। এছাড়াও অন্যান্য দেশের সাথে দর নির্ধারণের আলোচনা চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ০৩ ডিসেম্বর প্রথম চালানের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে ৮১ লাখ সিরিঞ্জ পাঠানো হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর দ্বিতীয় চালানের মাধ্যমে বাকি ৬৯ লাখ সিরিঞ্জ রপ্তানি (জাহাজীকরণ) সম্পন্ন হবে।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারি মহাব্যবস্থাপক ও কোয়ালিটি আসিওরেন্স বিভাগের প্রধান মঈনুল ইসলাম জানান, করোনার মধ্যে আমাদের কারখানা একদিনের জন্যও বন্ধ ছিলো না। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নিয়ম মেনে কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই কারখানা চালু রেখেছি। ২০১২ সাল থেকে জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস-এর রয়েছে আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইএসও এর সনদ; যার মাধ্যমে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। আর এ বছরই করোনার টিকা কার্যক্রমে ব্যবহৃত এডি সিরিঞ্জ, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাজারজাতের অনুমতির পূর্বশর্ত (সিই০০৬৮ সনদ) নিয়েছি আমরা। পণ্যের মানের ব্যাপারে কোনো ছাড় দিচ্ছি না আমরা।

দীর্ঘদিন ধরে ইপিআইসহ সরকারের নানা ধরনের টিকা প্রদান কার্যক্রমে সিরিঞ্জ সরবরাহ করছে জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস। এই মুহূর্তে রপ্তানি কার্যক্রম চালালেও দেশের প্রয়োজনে অগ্রাধিকার দিয়ে সিরিঞ্জ উৎপাদনে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা