kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দুই তরুণের

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ নভেম্বর, ২০২০ ২০:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দুই তরুণের

একটি উন্নত সমাজ গঠন ও স্বনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরির পথে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে দেশের সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ জরুরি। কারণ, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যে কোন লক্ষ্যে খুব সহজেই পৌঁছানো যায়। আর এক্ষেত্রে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে, তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, দেশের এক-তৃতীয়াংশই তরুণ এবং আজকের তরুণরাই সামনের দিনে ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে দেশকে নেতৃত্ব দিবে। এই প্রতিশ্রুতিশীল ও উৎপাদনমুখী তরুণদের সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে খুব দ্রুতই বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধশালী অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে পারবে।

বর্তমান সময়ে সামাজিক ব্যবসার ধারণাটি তরুণদের মাঝে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করছে। আইডিয়া (ধারণা), ইনফরমেশন (তথ্য) ও টেকনিক (কৌশল) এর মাধ্যমে তরুণরা নিত্য নতুন ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে হাজির হচ্ছেন। এ ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিয়ে তারা নিজেরা যেমন উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হচ্ছে, তেমনি সমাজের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই চলমান কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারি সঙ্কটের মধ্যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করেছে টাইকি নামের একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। টাইকি একটি ক্লথিং বা পোশাক ব্র্যান্ড। নতুন এ ব্যবসায়িক উদ্যোগটি চালু করেছে ১৭ বছর বয়সী দুই তরুণ। এদের একজন শের এ মোহাম্মদ তাবিব এবং অন্যজন ইউসুফ আনাস। তারা দুজনেই রাজধানীর (ডিপিএস এসটিএস স্কুল ঢাকার) শিক্ষার্থী। এ যৌথ মালিকানাধীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বাজারে ‘টাই ডাই’ পোশাক নিয়ে এসেছে। বিশেষ ধরণের এ পোশাকগুলো বাজারে আসা মাত্রই তরুণদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলে এবং ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তাদের উৎপাদিত পোশাকগুলো বিক্রি হয়ে যায় এবং তারা মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়।

এ নিয়ে এই ব্যবসায়িক উদ্যোগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শের এ মোহাম্মদ তাবিব বলেন, ‘সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা নতুন এ ভিন্নধর্মী উদ্যোগটি শুরু করেছি। এ ব্যবসা থেকে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত মুনাফা দিয়ে আমরা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে বেশ কিছু উপকরণ ক্রয় করেছি। আগামী বছর বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এ ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত মুনাফা দিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের এক হাজারেরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। আমাদের প্রত্যাশা, এ সামাজিক ব্যবসার উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের অন্যান্য তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারবো।’

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতে গত মাসেই টাইকি ডিপিএস এসটিএস স্কুল ঢাকার সাথে পার্টনারশিপ করেছে। আমাদের দেশের তরুণদের এই ধরণের সামাজিক ব্যবসা শুরু করতে উৎসাহ প্রদান করা উচিৎ। কারণ, এ প্রয়াসগুলোই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা