kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আইইউবিএটিতে দেশের প্রথম ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম চালু

অনলাইন ডেস্ক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:৪১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আইইউবিএটিতে দেশের প্রথম ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম চালু

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত গ্রিন ক্যাম্পাস খ্যাত দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

বাংলাদেশে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট-জোয়ারটা শুরু হয়েছে মূলত আইইউবিএটির হাত ধরে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আইবিএর সাবেক পরিচালক শিক্ষাবিদ ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান ১৯৯১ সালে আইইউবিএটি  প্রতিষ্ঠা করেন।দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুলতে ২০০০ সালে বাংলাদেশে আইইউবিএটি সর্ব প্রথম ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক প্রগ্রাম শুরু করে। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়টি নতুন হলেও সমাজে ও কর্মক্ষেত্রে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় এর প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে আইইউবিএটি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সুনাম সর্বত্র।

বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকার জন্য আমাদের বোঝা প্রয়োজন, কোন পেশার পথে পা বাড়ালে আমরা সেরাটা দিতে পারব। সেভাবে চিন্তা করতে গেলে পর্যটন বা ভ্রমণের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে ভ্রমণ করতে হয়। শুধু বিনোদন নয়,পেশাগত কাজেও কম-বেশি সবাইকেই ভ্রমণ করতে হয়। এই ভ্রমণের সময়েই হোটেলে, রেস্টুরেন্টে, রিসোর্টে, মোটেলে সেবা দেওয়ার জন্য দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। যে দক্ষতা মিলবে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। ভবিষ্যতে সারা বিশ্বই পর্যটন সেবায় গুরুত্ব দেবে। কেননা প্রতিটি দেশই তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস, জীবনযাপন ও প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম সৌন্দর্য সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চায়। যার মূল সুর হবে এই পর্যটন খাত। তাই ভবিষ্যতে এই খাতে বিপুল পরিমাণে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে।

ঢাকায় এখন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আন্তর্জাতিক মানের চেইন হোটেল চালু হচ্ছে। ভ্রমণকালে  সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে পারদর্শী জনবল। তাই এই সেবা–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্যারিয়ার গড়ার অঢেল সুযোগ থাকছে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের। বাংলাদেশ বিমান থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানে কেবিন ক্রু,স্টুয়ার্ড হিসেবে কাজ করছে আইইউবিএটির  শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশের বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক মানের হোটেলে সুপারভাইজার পর্যায়েও কাজ করছে তারা। এ ছাড়া শিক্ষকতা পেশাসহ সরকারি, বেসরকারি, প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে কাজ করছেন আইইউবিএটির গ্রাজুয়েটগণ।

তবে এই বিভাগে পড়া মানে যে শুধু পর্যটনসেবার ক্ষেত্রগুলোই কাউকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে হবে,তা নয়। যেকোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানেও কাজ করার সুযোগ থাকছে। আমাদের এই বিভাগ থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থীই স্নাতক শেষ করে সরকারি চাকরি করছে। তাই দক্ষতা গড়ে তুলতে পারলে নানা রকম সুযোগই আছে।

আইইউবিএটির পাঠ্যক্রম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থীই উচ্চমাধ্যমিক শেষে এই বিভাগে পড়তে পারেন। সারা বিশ্বেই প্রায় এই এক পদ্ধতিতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের পাঠ্যক্রম সাজানো হয়। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আওতায় চারটি মূল বিষয় (মেজর) নিয়ে পড়াশোনা করা যায় ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্ট, হাউস কিপিং ম্যানেজমেন্ট, কালিনারি আর্টস বা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন আর ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট। এ ছাড়া ট্রাভেল ম্যানেজমেন্ট, রিক্রিয়েশন ম্যানেজমেন্ট, লেইজর ম্যানেজমেন্ট এই কোর্সগুলোও আছে এর আওতায়।

বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পুরুষদরে পাশাপাশি নারীরাও পর্যটন শিল্পে নিজেদেরকে নিয়োজিত করছেন। অতীতের ধ্যান-ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে আজকের মেয়েরা এগিয়ে আসছেন পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য। অনেক মেয়েরা আছেন যারা দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল-রিসোর্টগুলোতে বড় বড় পদে র্কমরত আছেন।

শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ১০৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আইইউবিএটির সমঝোতা চুক্তি রয়েছে। এই সমঝোতা চুক্তির ফলে গবেষণা কার্যক্রম এবং স্বল্পমেয়াদি শিক্ষার্থী-ক্যাম্প পরিচালনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষক বিনিময় করা হয়।

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পথিকৃৎ আইইউবিএটি  করোনাকালীন এ সময়ে অনলাইন ক্লাসেও সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। করোনার বৈশ্বিক মহামারীর কারণে সরাসরি ক্লাস নিতে না পারলেও তথ্য প্রযুক্তির এই ডিজিটাল সময়ে বাসায় বসেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের স্বাদ পাচ্ছে অন লাইন ক্লাসের মাধ্যমে।

আইইউবিএটি ‘প্রত্যয় : যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচ্চশিক্ষার নিশ্চয়তা প্রয়োজনে মেধাবী তবে অসচ্ছলদের জন্য অর্থায়ন। এসএসসি এবং এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ১০০% পর্যন্ত মেধা বৃত্তি। মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় উৎসাহিত করতে ১৫% স্পেশাল বৃত্তিসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৯০টি বৃত্তি দেওয়া হয়।

করোনা মহামারিতে নতুন ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশের অন্যতম এই বিশ্ববিদ্যালয়। ‘ফল সেমিস্টারে’ ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফির ওপর শতকরা ৭৫ ভাগ এবং টিউশন ফির ওপর শতকরা ১৫ ভাগ ফি কমানোর ঘোষণা দিয়েছে আইইউবিএটি। এ ছাড়া মেধাবী তবে অসচ্ছলদের জন্য অর্থায়ন। মোট কথা এখানে পড়াশোনা করার জন্য অধিকাংশ শিক্ষার্থীই আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন।

আইইউবিএটি সম্পর্কে আরো  জানতে ঘুরে আসতে পারেন উত্তরা মডেল টাউন (আশুলিয়া অভিমুখী হাইওয়ে) সেক্টর ১০,উত্তরা ঢাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিশাল সবুজ ক্যাম্পাস। আইইউবিএটির ওয়েবসাইট www.iubat.edu -এ যাবতীয় তথ্য দেওয়া আছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা