kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

দেয়াল রাঙিয়ে সচেতনতার আহবান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৯:২৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেয়াল রাঙিয়ে সচেতনতার আহবান

কারও কাছে ঢাকা জাদুর শহর, আবার কারও কাছে প্রাণের। কিন্তু তীব্র যানজট, অত্যধিক জনসংখ্যার ঘনত্ব, বাতাসে বিষাক্ত সীসা, বৃক্ষ নিধন সব মিলিয়ে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেয়ার জো নেই এই শহরে। চারশ’ বছরের পুরনো এই নগরীটি ধীরে ধীরে বিষণ্ন ধুলোয় চাপা পড়ে যাওয়ার উপক্রম। 

কিন্তু সম্প্রতি বিষাদগ্রস্ত মেঘময় প্রাচীন এই শহরের রুগ্ন দেয়ালগুলো সেজে উঠেছে নতুন করে। বেশ কদিন ধরেই ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ভবনের দেয়ালজুড়ে শোভা পাচ্ছে নানা দেয়ালচিত্র। শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, চোখ ধাঁধানো এই চিত্রগুলোতে ফুটে উঠেছে দারুণ সব জনসচেতনতামূলক বার্তা। রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম নিউ এয়ারপোর্ট রোড। এই রোডের কাকলী-বনানীতে পা ফেলতেই চোখে পড়বে ’দালানের ভিড়ে শেষ কবে দেখেছি চাঁদ’ শিরোনামে একটি দেয়ালচিত্র। একটু এগোতেই একই এলাকায় চোখে পড়বে ’শহর হোক সবুজ’ শিরোনামের আরেকটি দেয়ালচিত্র। শহরবাসীকে সবুজায়নের গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দিতেই একটি ভবনের দেয়াল রাঙানো হয়েছে সবুজায়নের ধারণাকে সামনে রেখে। 

ঢাকা শহরে এখন চিত্তবিনোদনের জন্য পার্ক একদম নেই বললেই চলে। তাই, শিশুরা এখন সেখানে যেয়ে দুরন্তপনা করতে পারে না। উপরন্তু, তাদের কাঁধে হালে ভর করেছে বইয়ের বোঝা। কিন্তু শিশুদের বিকাশে বিনোদন খুবই জরুরি। রাজধানীর বনানী বাজারের একটি ভবনে ’বইয়ের বোঝা নয় বিকাশে চাই বিনোদন', এই শিরোনামের বাক্যগুলো আমাদের বিষয়টির প্রয়োজনীয়তার কথাই মনে করিয়ে দেয়। আবার মিরপুরের সেনপাড়ায় দেখা গেলো ’বদ্ধতা নয়, বেড়ে ওঠায় চাই মুক্ত মাঠ’ শিরোনামে একটি চিত্র। এছাড়াও, আরো দু’টি চিত্রে প্রকৃতি বাঁচানোর মাধ্যমে বিশুদ্ধ বাতাসের গুরুত্ব বুঝিয়েছে। রাজধানীর শাহজাদপুরে যেতেই চোখে পড়লো ’এসো জানালা বাড়াই মনের ঘরে’ শিরোনামের রঙিন চিত্র। সচেতনতা তৈরির ভিন্নধর্মী এই উদ্যোগটি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো এর পেছনে রয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড।

নগরায়নের প্রভাবে আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছু। ধীরে ধীরে শহরের বুকে উঁকি দিচ্ছে সুউচ্চ ভবন। আমাদের দেশের সমৃদ্ধির জন্য উন্নয়নের বিকল্প নেই। কিন্তু এই উন্নয়ন যেনো টেকসই ও পরিকল্পনামাফিক হয়। অর্থাৎ সমাজের প্রতিটি সত্তাকে বাঁচিয়ে রেখে এই উন্নয়ন করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে এ দেশে পরিকল্পনামাফিক উন্নয়ন সুদূরপরাহত। ক্লাস-পরীক্ষা, কাঁধে বইয়ের ঝোলা মিলিয়ে শিশুদের জীবন আজ ওষ্ঠাগত। কিন্তু আমরা বারবার ভুলে যাই পড়াশোনাই শিশুদের বিকাশের একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়। শিশুদের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় খেলাধুলা, দুরন্তপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলো আমাদের অভিভাবকের ক্রমান্বয়ে ভুলে যাচ্ছে। প্রকৃতিই আমাদের প্রাণ। বিভিন্ন সময় প্রকৃতিই আমাদের বাঁচিয়ে দেয়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ, সুন্দরবন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সুন্দরবনই নিজের বুক পেতে দিয়ে আমাদের রক্ষা করে। কিন্তু মানুষই এই প্রকৃতিকে বিভিন্নভাবে ধ্বংস করছে। বর্তমানে, শহরে বিশুদ্ধ বাতাসের সংকট বেশ ভালোভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। দূষিত বায়ুর তালিকায় ঢাকার অবস্থান শীর্ষে রয়েছে। আর এর মাঝেই শহরে  গাছ কেটে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। যান্ত্রিক শহরে আমাদের মনও ধীরে ধীরে যান্ত্রিক হচ্ছে। স্বাধীনভাবে চিন্তা যেনো আমরা করতেই পারছিনা।   

তাই, আমাদের রোজকার এই ভুলগুলো থেকে আমাদের নিজেদের শোধরাতেই ’রং (ভুল) বদলে রঙিন করি’ শিরোনামের এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমাদের জীবনকে রাঙিয়ে তোলার পথে বাধাগুলো সম্পর্কে সচেতন করে তুলতেই নগরের দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে রঙের ছটা। ইতিমধ্যে, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও শিল্পনগরী খুলনায় এই কর্মসূচিটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকার দেয়াল সচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে রাঙালো বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। দেয়ালচিত্রগুলো এঁকেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। 

এ প্রসঙ্গে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লি.-এর মার্কেটিং বিভাগের গ্রুপ ক্যাটাগরি ম্যানেজার নোমান আশরাফী রহমান বলেন, ’অপরিকল্পিত নগরায়ন আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে খেলার মাঠের অভাব ও পর্যাপ্ত বিনোদনের অভাবকে। এছাড়া, গাছপালা কেটে ফেলার কারণে আমরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছি। সবুজায়নের অভাবে আমরা প্রাণ খুলে বিশুদ্ধ বাতাস নিতে নিতে পারছি না। সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এ ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করে তুলতেই আমরা বেছে নিয়েছি দেয়ালচিত্রের মতো দারুণ এই মাধ্যমটি।’

পরিশেষে বলা যায়, গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র বিশ্বব্যাপী শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। দেয়ালচিত্রে যেমন স্থান পায় ব্যক্তির নিজস্ব অনুভূতি, তেমনি এর মাধ্যমে ফুটে ওঠে সমাজ, দেশ, জাতি এমনকি বিশ্বের সম্প্রতিক নানা বিষয়। আর সে ধারাবাহিকতায় রাজধানীবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বার্জারও উদ্ভাবনী এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 

পরিশেষে বলা যায়, গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র বিশ্বব্যাপী শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। দেয়ালচিত্রে যেমন স্থান পায় ব্যক্তির নিজস্ব অনুভূতি, তেমনি এর মাধ্যমে ফুটে ওঠে সমাজ, দেশ, জাতি এমনকি বিশ্বের সাম্প্রতিক নানা বিষয়। আর সে ধারাবাহিকতায় রাজধানীবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বার্জারও উদ্ভাবনী এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা