kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

মো. আবদুল হামিদ বললেন

মানুষকে সেবা দাও, নিশ্চিতভাবে তুমিও সমৃদ্ধ হবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মার্চ, ২০১৯ ১৯:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানুষকে সেবা দাও, নিশ্চিতভাবে তুমিও সমৃদ্ধ হবে

নীতি ও আদর্শ মেনে চলে দেশের চলমান উন্নয়ন টেকসই ও গতিশীল রাখতে এবং দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

গত বৃহস্পতিবার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর ২০তম সমাবর্তনে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

আইইউবি’র ২০তম এই সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি স্কুলের ২৯টি প্রোগ্রামের অধীন ১১৬৬ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। এই ১১৬৬ জনের মধ্যে ৮২৫ জন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং ৩৪১ জন শিক্ষার্থী মাস্টার্স প্রোগ্রামের আওতাধীন। এ বছর ভ্যালেডিক্টোরিয়ান এবং চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল অর্জন করেন স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেস এর ছাত্রী সামারা তাওজিয়াত চৌধুরী। এ ছাড়া নিয়মিত পাঠক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের জন্য ৪ শিক্ষার্থীকে মেডেল ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

ভাষণের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর আপসহীন এবং অসাধারণ নেতৃত্বের কারণে আমরা স্বাধীনতা লাভ করি এবং বর্তমানে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। 

রাষ্ট্রপতি ও আইইউবি’র চ্যান্সেলর মোঃ আবদুল হামিদ বিশ্ববিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি একে উচ্চশিক্ষায় দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে উল্লেখ করেন। আইইউবি’র গবেষণা কার্যক্রম ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম নিয়েও ভূয়সী প্রসংশা করেন তিনি। আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে আইইউবি এগিয়ে চলছে জেনে আমি খুবই আনন্দিত।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। লেখাপড়ার কোনো শেষ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন আজীবনের। এতে সবকিছু সহজ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

২০তম সমাবর্তনের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী। উচ্চশিক্ষায় আইইউবি’র বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টি শুরু থেকেই দায়িত্ববান নাগরিক তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আইইউবি’র জন্য সকল ধরণের সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি। 

আইইউবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিটেজ চেয়ারম্যান জনাব এ মতিন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। আইইউবি’র গ্র্যাজুয়েটরা ন্যায়নীতি, একাগ্রতা এবং দৃঢ়তার সাথে তাঁদের নিজেদের এবং একইসাথে জনকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক এম. ওমর রহমান। লক্ষ্যে অটুট থেকে দায়িত্ব নিয়ে সমাজের উন্নয়নে কাজ করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ দেন উপাচার্য। আইইউবি থেকে অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন গ্র্যাজুয়েটরা আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন আইইউবি’র ইএসটিসিডিটি’র চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল হাই সরকার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব রাশেদ চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মিলান পাগন। বর্ণাঢ্য ২০তম সমাবর্তনে নতুন গ্র্যাজুয়েটবৃন্দ, তাঁদের পিতা-মাতা ও অভিভাবক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ, আইইউবি’র শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। সকলের পদচারণায় আনন্দ মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা আইইউবি প্রাঙ্গণ। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা