kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বিসিসি সদস্যভুক্ত ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা

এমসিকিউ পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিসিসি) সদস্যভুক্ত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ‘সিনিয়র অফিসার’ (সাধারণ) পদে নিয়োগের সমন্বিত বাছাই পরীক্ষা (এমসিকিউ) হবে ১০ মে। এক হাজার ২২৯ পদের জন্য আবেদন করেছে এক লাখ ৬৭ হাজার ২৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্য থেকে এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে আনুমানিক ১২ হাজার প্রার্থীকে পরবর্তী ধাপের জন্য (লিখিত পরীক্ষা) বাছাই করা হবে। এমসিকিউ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন পাঠান সোহাগ

৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এমসিকিউ পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

কোন ব্যাংকে কতজন

চূড়ান্ত ধাপে এক হাজার ২২৯ জন প্রার্থীকে বাছাই করার পর সোনালী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হবে ২৬০ জন, জনতা ব্যাংকে ৪০০ জন, কৃষি ব্যাংকে ৩৯৭ জন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ১২ জন, কর্মসংস্থান ব্যাংকে ১০৭ জন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে ৩৬ জন। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশে ৫ জন এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে ১২ জনকে চাকরি দেওয়া হবে। 

 

তিন ধাপে বাছাই

বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিসিসি) সদস্যসচিব নুরুন নাহার জানান, বাছাই পরীক্ষা হবে তিন ধাপে। প্রথমে এমসিকিউ (১০০), এরপর লিখিত (২০০); সব শেষে মৌখিক (২৫)।

 

পরীক্ষার মানবণ্টন

এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকবে ৮০টি, প্রতিটির মান ১.২৫ করে মোট ১০০ নম্বর। উত্তর দিতে হবে এক ঘণ্টায়। বাংলা, ইংরেজি, গণিতে ২৫ করে ৭৫; সাধারণ জ্ঞানে (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক) ১৫ এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে ১০ নম্বরের প্রশ্ন হবে।

 

এ পরীক্ষায় একটা নির্দিষ্ট পাস নম্বর থাকবে। এমসিকিউতে যাঁরা পাস করবেন, তাঁরাই লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি), তথ্য-প্রযুক্তির ওপর প্রশ্ন থাকে। উত্তর দিতে হবে ১ ঘণ্টায়। লিখিত পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ৫০ নম্বর করে থাকে। বাকি ৫০ নম্বর থাকে অনুবাদে (বাংলা থেকে ইংরেজি, ইংরেজি থেকে বাংলা)। লিখিত পরীক্ষা টপকাতে পারলেই মৌখিক পরীক্ষায় বসা যাবে।

 

এমসিকিউ পরীক্ষার প্রস্তুতি

♦ বাংলা : বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জৈনাবাজার শাখার সিনিয়র অফিসার মো. সেলিম জানান, এমসিকিউ পরীক্ষার বাংলা অংশে ব্যাকরণ ও সাহিত্য  থেকে প্রশ্ন করা হয়। সাহিত্য অংশে বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের জীবনী, সাহিত্যকর্ম, বিভিন্ন গ্রন্থের নাম, উপন্যাস বা গল্পের বিভিন্ন চরিত্রের নাম, বিখ্যাত পঙক্তিমালাসহ সাহিত্যের অন্যান্য অংশ থেকে প্রশ্ন আসে। কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী অংশ চোখ বুলিয়ে নিতে হবে। ব্যাকরণ অংশে বাগধারা, শুদ্ধ-অশুদ্ধ, বচন, সমাস, উপসর্গ, এককথায় প্রকাশ, সন্ধিবিচ্ছেদ, প্রবাদ-প্রবচন, সমার্থক, বিপরীতার্থক ও পারিভাষিক শব্দ, পদ, সমোচ্চারিত শব্দ, বিপরীত শব্দ, কারক, বিভক্তি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।

♦  ইংরেজি : অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত সিনিয়র অফিসার মতিউর রহমান জানান, Correction, Fill in the blanks, Appropriate word, Appropriate preposition, Word meaning, Synonyms, Antonyms, Transformation of sentence, Phrases and idioms, Right forms of verb -এর ওপর প্রশ্ন থাকতে পারে। অনেক সময় একটি টপিক বা বিভাগ থেকে একাধিক প্রশ্ন হয়। এ ছাড়া ইরেজি সাহিত্য থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা আছে।

♦ গণিত : পাটিগণিত ও বীজগণিতের ওপর প্রশ্ন হবে। পাটিগণিতের শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদকষা, অনুপাত-সমানুপাত, ঐকিক নিয়ম, লসাগু, গসাগু এবং বীজগণিতের উত্পাদক নির্ণয়, সমীকরণ, মূলদ, অমূলদ, সূচক ও লগারিদমের সূত্রের প্রয়োগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জ্যামিতি, পরিমিতি থেকেও প্রশ্ন আসে। অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটির ওপরও অনেক সময় প্রশ্ন থাকে। গণিতের প্রশ্ন ইংরেজিতে হবে।

♦ সাধারণ জ্ঞান : বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ওপর প্রশ্ন আসবে। সাম্প্রতিক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যমূলক ঘটনাবলির পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্য, অর্থনীতি, জিডিপি, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বিভিন্ন সংস্থা ও জোট, মুদ্রা, বিশ্ব রাজনীতি, দিবস, সম্মেলন, খেলাধুলা, পুরস্কার, সম্মাননার খুঁটিনাটি জানা থাকলে এ অংশে ভালো করা যাবে। 

♦ সহায়ক বই : বাংলার জন্য দেখতে পারেন নবম ও দশম শ্রেণির ব্যাকরণ পাঠ্য বই।

ইংরেজি গ্রামারের বেসিকের জন্য বাজারে বেশ কিছু বই পাওয়া যায়। সাধারণ মানের বইগুলো দেখলেই চলবে। নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্য ‘ইংলিশ গ্রামার’ বইটাও বেশ কাজের।

গণিতের জন্য ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ইংরেজি সংস্করণের পাঠ্য বই থেকে পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি অংশগুলো দেখতে পারেন। ইংরেজি সংস্করণের পাঠ্য বই পাওয়া যাবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ওয়েবসাইটের (www.nctb.gov.bd) ‘পাঠ্যপুস্তক’ অংশে।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জন্য দৈনিক পত্রিকা বা নিউজ পোর্টালগুলোতে চোখ রাখবেন। সাধারণ জ্ঞানের জন্য ‘নতুন বিশ্ব’ বা ‘এমপিথ্রি’ বইয়ের সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক) অংশ পড়তে পারেন।

তথ্য-প্রযুক্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বইটি দেখলেই চলবে। এ ছাড়া ইজি কম্পিউটার বইটি পড়তে পরেন।

এ ছাড়া ব্যাংকের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য বাজারের বেশ কিছু ‘সহায়ক বই’ পাওয়া যায়। সেগুলোর মধ্যে প্রফেসর, সাইফুরস, ওরাকল প্রকাশনীর বইগুলো দেখতে পারেন।

 

পরীক্ষার সূচি ও সময় বণ্টন

রাজধানীর ৫৪টি কেন্দ্রে এমসিকিউ পরীক্ষা হবে ১০ মে ২০১৯ (শুক্রবার) সকাল ১০.৩০টা থেকে ১১.৩০টা পর্যন্ত। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

এমসিকিউ পরীক্ষায় ৬০ মিনিটে ৮০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। গণিতের উত্তর দিতে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই অন্যান্য অংশের উত্তর ৩০ মিনিটের মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা করতে হবে। তা না হলে গণিতের উত্তর সময়মতো দেওয়াটা কঠিন হবে। 

 

নির্দেশনা

অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা প্রবেশপত্রের প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখতে হবে। মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ ও কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না।

 

♦ বাছাই পরীক্ষা (এমসিকিউ) হবে ঢাকার ৫৪টি কেন্দ্রে,

১০ মে সকাল ১০.৩০টা থেকে ১১.৩০টা পর্যন্ত।

কেন্দ্র তালিকা এই লিংকে : erecruitment.bb.org.bd/career/apr282019_bscs_55.pdf

মন্তব্য