kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

যেভাবে চাকরি পেলাম

সপ্তাহে ১-২ ঘণ্টা করে প্রস্তুতি নিয়েছি

আবু মো. আদ্ নাহিয়ান চৌধুরী সিনিয়র অফিসার এবি ব্যাংক লিমিটেড, লোহাগড়া (চট্টগ্রাম) শাখা

১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সপ্তাহে ১-২ ঘণ্টা

করে প্রস্তুতি নিয়েছি

অনার্স, মাস্টার্স করেছি বোটানি ও মাইক্রোবায়োলজিতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পড়াশোনা করা অবস্থায়ই চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার উপযোগী করে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকি। পড়াশোনার বিষয় ভিন্ন হলেও কেন জানি ব্যাংকের চাকরির প্রতিই ঝোঁক ছিল।

বাসায় দুটি পত্রিকা রাখতাম, বাংলা ও ইংরেজি। প্রতিদিনের খবরাখবর জানা হতো, সঙ্গে ইংরেজি চর্চাটাও। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ঘটনা জানার পাশাপাশি খেলাধুলা, পুরস্কার, তথ্য, পরিসংখ্যান কোনো কিছু চোখে পড়লে নোট করে রাখতাম। নোট করার সময় তারিখ উল্লেখ করে রাখতাম। পরবর্তী সময়ে এই নোটগুলো বেশ কাজে লেগেছে। ক্লাসের চার-পাঁচজন সহপাঠীর একটা গ্রুপ ছিল। সবার লক্ষ্য নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়া। সবাই যেভাবে আড্ডা দেয়, সাম্প্রতিক সময়ের বিষয়াবলি নিয়ে সেভাবেই আলাপ করতাম। তখন মনে হতো না যে আলাদা করে কোনো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি, মাথায় চাপও পড়ত না।

ওই গ্রুপের আরো দুজনেরও ব্যাংকে চাকরি হয়েছে।

অন্যান্য বিষয়ের প্রস্তুতিও অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছি। অনার্স প্রথম বর্ষ থেকেই নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতি সপ্তাহে গড়ে এক-দুই ঘণ্টা করে সময় দিয়েছি। বলতে গেলে হেসেখেলেই বাংলা, ইংরেজি, গণিত, আইসিটি, সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতিপর্ব সেরেছি। গণিতের ওপর বাড়তি জোর দিয়েছি। এভাবে একদিকে মাস্টার্সও শেষ হলো, অন্যদিকে ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার জন্যও পুরোপুরি প্রস্তুত হলাম। কোন কোন বিষয়ে ঘাটতি আছে—বের করলাম। সময় ও পরিশ্রম দিয়ে সে ঘাটতি পূরণ করেছি।

সরকারি-বেসরকারি উভয় ব্যাংকের জন্যই প্রস্তুতি নিয়েছি। বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় সরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সহজ হয়; কিন্তু সরকারি ব্যাংকের পরীক্ষা হয় হাড্ডাহাড্ডি, প্রতিযোগীও অনেক বেশি। বিভিন্ন ব্যাংকের আগের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঘেঁটে দেখি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ), ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের প্রশ্নপত্রের আদলে করা। পুরনো প্রশ্নপত্র দেখার পর প্রশ্ন পদ্ধতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা হয়। চাকরির প্রস্তুতি এগিয়ে রাখতে একটি কোচিংয়ে ভর্তি হই। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নিয়োগ প্রস্তুতির জন্য বাজারে কিছু গাইড পাওয়া যায়, সেগুলোও দেখেছি। বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও বইগুলো কাজের। এরপর এবি ব্যাংকে চাকরির জন্য আবেদন করি। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করি, ভাইভাও টপকে যাই। ২০১৩ সালে কাজে যোগ দিই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোন কোন যোগ্যতাকে বেশি প্রাধান্য দেয়, সেটা চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর আরো ভালোভাবে জেনেছি।

 

অনেকের মতে, নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করলেই ব্যাংকের নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আমার কাছে এমনটা মনে হয়নি। ভালো রেজাল্ট ও ভালো সাবজেক্টের পাশাপাশি চলন-বলনে স্মার্ট হলেই মিলে যেতে পারে চাকরি! প্রার্থী তরুণ, উদ্যমী কি না সেটাও দেখা হয়। ভালো ব্যাংকার হতে গেলে সত্ আর সবার সঙ্গে মেশার যোগ্যতা থাকতে হবে।

অনুলিখন : জাকারিয়া জামান

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা