kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

যেভাবে চাকরি পেলাম

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় যতবার অংশ নিয়েছি, ততবারই টিকেছি

মো. মশিউর রহমান খান (১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় মেধাতালিকাভুক্ত ও ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত)

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় যতবার অংশ নিয়েছি, ততবারই টিকেছি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পাইলট হাই স্কুল থেকে ২০০২ সালে এসএসসি পাস করি। ২০০৪ সালে সাঈদ আলতাফুন্নেছা সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় এইচএসসি শেষ করি। এরপর ভর্তি হই অনার্সে, ইংরেজিতে; জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভর্তি হওয়ার কথা শুনে পরিচিতরা বলতে লাগল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে সহজে পাস করা যায় না। আর কোনোমতে পাস করলেও থার্ড ক্লাস আসে! এসব শুনে চিন্তায় পড়ে গেলাম। কিন্তু আশা ছাড়িনি। পছন্দের বিষয় হওয়ায় পড়াশোনায় ঘাটতি পড়েনি। অবশেষে ২০০৮ সালে হায়ার সেকেন্ড ক্লাস পাই। নিজেকে তখন সফল মনে হলো, আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গেল। মাস্টার্সও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই করলাম। ঢাকা কলেজ থেকে আমার ব্যাচের অল্প কয়েকজন মাস্টার্সে (২০০৯) হায়ার সেকেন্ড ক্লাস পায়, আমি তাদের একজন। সিদ্ধান্ত নিলাম, শিক্ষকতা করব।

 

এদিকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্যও প্রস্তুতি নিতে থাকি। ছাত্রদের পড়ানোর জন্য নিজের যতটা চর্চা করতে হতো, তাতেই প্রস্তুতির অনেকটা হয়ে গেল।

২০১২ সালে সপ্তম নিবন্ধনে ‘কলেজ’ পর্যায় এবং ২০১৪ সালে নবম নিবন্ধনে ‘স্কুল’ পর্যায়ে পাস করি। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন তালিকার শিক্ষকদের নিয়োগের নিয়ম থাকলেও ওই সময় কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগপ্রক্রিয়া চালু হয়নি। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ‘ম্যানেজিং কমিটি’ নিজেদের ইচ্ছামতো নিয়োগ দিত। এ কারণে এমপিওভুক্ত কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও চাকরি হয়নি। ২০১৪ সালে ঢাকার ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিই। লিখিত ও ভাইভা—দুটোই ভালো হয়। ৬০০ জন প্রার্থীর মধ্যে আমি ১৪তম হই। সেখানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগ দিই। ২০১৭ সালের দিকে খবর পেলাম—নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষকরা এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ পাবেন, অর্থাত্ এখন আর ম্যানেজিং কমিটির কারসাজির সুযোগ নেই! নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাক্রমে ওপরের দিকে থাকারাই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরকারি সুপারিশপ্রাপ্ত হবেন। তাই ঠিক করি ১৩তম নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেব।   

 

প্রথম ধাপে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পালা। এ পরীক্ষার জন্য বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের মধ্যে ইংরেজি ও গণিতের বেসিক পাঠের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিই।

ইংরেজির জন্য Grammar-এর বেসিক Ask Sentence, Tense, Voice, Right form of verb, Preposition, Narration, Similar Word এবং ইংরেজি সাহিত্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখা ও লেখকের জীবনী আয়ত্ত করি। আর গণিতের জন্য ভগ্নাংশ, ঐকিক নিয়ম, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, দশমিক হিসাব ও লসাগু-গসাগু অধ্যায়গুলো পুরোপুরি দখলে আনি।

বাংলার জন্য সন্ধি, বাক্যতত্ত্ব, কারক, সমাস, বাক্যসংকোচন, বিরাম চিহ্ন ও বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কিছু লেখা ও লেখকের জীবনী আয়ত্ত করি।

সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাংলাদেশ বিষয়াবলি, যেমন—মুক্তিযুদ্ধ, শিল্প-বাণিজ্য, সংবিধান, বাংলাদেশের ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার চেষ্টা করি। এভাবে প্রস্তুতি নিয়ে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করি।

 

দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষা। বিষয়ভিত্তিক ১০০ নম্বরের পরীক্ষা। আমার ‘ইংরেজি’ বিষয় নির্ধারণ করা ছিল। গ্রামার অংশের জন্য নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি এবং ইংরেজি সাহিত্যের জন্য অনার্স কোর্সের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাঠ ভালোভাবে পড়ি। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাসে গ্রামার অংশে যেসব পাঠ আছে, শুধু সেগুলোই পড়ি।

পরীক্ষার হলে প্রথমে গ্রামার অংশের উত্তর আগে দিই। কারণ এই অংশের উত্তর অল্প সময়েই দেওয়া যায়, ঠিক হলে গোটা নম্বর! এরপর ডত্রঃরহম, চধত্ধমত্ধঢ়য, পড়সঢ়ড়ংরঃরড়হ অংশের উত্তর দিই। লিখিত পরীক্ষায়ও টিকে যাই।

 

সব শেষে ভাইভা। আমার বিষয় ‘ইংরেজি’। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিয়েছি, প্রশ্ন ইংরেজিতে করতে পারে। তাই ইংরেজিতে কথা বলার জড়তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। ভাইভা বোর্ডে শুরুতেই নিজের সম্পর্কে ইংরেজিতে বলতে বলা হলো। উত্তরে আমার জন্ম কোথায়, কোথায় কোথায় পড়াশোনা করেছি, চাকরির বৃত্তান্ত—সব কিছু গুছিয়ে বলেছি। এরপর ইংরেজি সহিত্য ও গ্রামার থেকে ঠড়রপব, Right form of verb, Narration, Transformation-এর প্রশ্ন করা হয়। দু-একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি, তবে ঘাবড়ে যাইনি।

 

ফল বেরোনোর পর দেখি, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) উপজেলার মধ্যে মেধাতালিকায় ইংরেজি বিষয়ে আমি তৃতীয়। মেধাক্রম অনুসারে আমি একজন ‘সহকারী শিক্ষক’ (ইংরেজি) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হই।

 

এ পর্যন্ত তিনটি (সপ্তম, নবম ও ১৩তম) শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি, সবগুলোতেই তালিকাভুক্ত হয়েছি।

মন্তব্য