kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

যেভাবে চাকরি পেলাম

দুই মাসের পড়াশোনাই ছিল জীবনের সেরা প্রস্তুতি

মো. রুবেল হক (৩৬তম বিসিএস), সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), বাংলাদেশ পুলিশ

১০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই মাসের পড়াশোনাই ছিল

জীবনের সেরা প্রস্তুতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি (জিপিএ ৫) এবং আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজ থেকে ২০০৭ সালে এইচএসসি (জিপিএ ৪.৮০) পাস করি। ভর্তি হই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগে। অনার্স-মাস্টার্সে পড়ার সময়ই মন থেকে স্থির করি ‘সিভিল সার্ভিসেই জয়েন করব’। ওই সময় নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি প্রচুর পত্রিকা পড়তাম; চাকরির জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বই পড়া হতো না। জাতীয়-আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি, সন্ত্রাসবাদ, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তা—এসব নিয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বিষয়ে কৌতূহলী হয়ে পড়ি। ২০১৪ সালে মাস্টার্স শেষ করে নিয়োগ পরীক্ষার জন্য তৈরি হই। কিছুদিন জব কোচিং করি। মূল লক্ষ্য বিসিএস; পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নন-ক্যাডারের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে থাকি। চাকরির জন্য বহু পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। অবস্থাটা এমন হলো—প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনোটার পরীক্ষা থাকত। মাসে তিন-চারবার রাজশাহী থেকে ঢাকায় আসতে হতো পরীক্ষার জন্য।

জীবনের প্রথম বিসিএস (৩৫তম) দিই ২০১৫ সালে।

পরীক্ষার আগের দুই মাসের পড়াশোনাই ছিল জীবনের সেরা প্রস্তুতি।

প্রিলিতে টিকে যাই। এবার লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির পালা! প্রফেসর গাইড, ডাইজেস্ট ও আনুষঙ্গিক সব বই সংগ্রহে ছিল। সঙ্গে ছিল ইন্টারনেট, পত্রিকা, ল্যাপটপ। গ্রুপ স্টাডির জন্য পাশে ছিল তিন বন্ধু। তাদেরও লক্ষ্য বিসিএস। প্রস্তুতির এক মাস যাওয়ার পর মনে হলো ‘আমি কিছুই পারি না। আমার দ্বারা হবে না।’ যখন বই ধরে বন্ধুরা একজন আরেক জনকে প্রশ্ন করে প্রস্তুতির টেস্ট নিল, তখন দেখা গেল আমার চেয়ে কেউ ভালো অবস্থানে নেই। অযথাই ভেবে কনফিডেন্স লেভেলকে কমিয়ে ফেলেছি! এটা পরীক্ষার জন্য খুব ক্ষতিকর। সব ঝেড়ে প্রস্তুতির দিকে মন দিই। রিটেইনেও ভালো করি। এবার ভাইভার পালা। শরিফ এনামুল কবীর স্যার ছিলেন ভাইভা বোর্ডে; মোটামুটি দিয়েছি। চূড়ান্ত ফল বেরোলো; ক্যাডারে পাইনি, নন-ক্যাডার পেয়েছি।

ওই বছর (২০১৫) আনোয়ারা ম্যাডাম এনবিআরের ভাইভায় বললেন, ‘রুবেল তো নন-ক্যাডার, তাকে ফেল করিয়ে দিই!’ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ভাইভায় বললেন, ‘ফুল মার্কস দিলেও চাকরি হবে না!’ পরে (অক্টোবর-২০১৬) দেখি ডাকযোগে পত্র পাঠিয়েছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ভাইভা পরীক্ষায় বোর্ডে ঢুকতেই একের পর এক প্রশ্ন, ‘রসায়নের ছাত্র হয়ে ব্যাংকে কেন?’ বললাম, ‘ইদানীং বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা ব্যাংকে ভালো করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগের প্রধানও পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন।’

পরের বছর (২০১৭) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে অফিসার পদে চাকরি হয়; জীবনের প্রথম চাকরি।

আনসার সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট পদে ভাইভাও ভালো হয়; চূড়ান্ত মেধাতালিকায় ৩০২ জনের মধ্যে আমি ১২তম। বাংলাদেশ এয়ারফোর্সে শর্ট কোর্সে অংশ নিই; ভাগ্য খারাপ! পরপর দুইবার (২০১৫, ২০১৬) রেড কার্ড।

 

এরপর ৩৬তম বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। আগের বারের (৩৫তম) প্রস্তুতিই কাজে লাগে! প্রিলিতে টিকে যাই। লিখিত পরীক্ষার ঠিক আগে ‘শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি’ ও ‘পরীক্ষার হলে করণীয়’ নিয়ে প্ল্যান সাজালাম। হলে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে মনে হলো, সব কয়টির উত্তরই নাগালে। বিজ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি, আন্তর্জাতিক, বাংলাদেশ ও বিষয়ভিত্তিক—একটা একটা করে উত্তর শেষ করলাম। লিখিত পরীক্ষায়ও টিকে গেলাম। 

৩৬তম বিসিএসের ভাইভার সময় এলো। কামরুননেসা ম্যামের বোর্ডে ভাইভা দারুণ হলো। ভাইভার শেষ দিকে এসে ম্যাম প্রশ্ন করলেন, ‘বাবা, তুমি এত হাসিখুশি মুডে কেন?’ বললাম, ‘টেনশন নিয়ে অনেক ভাইভা দিয়েছি, কিন্তু জব হয়নি। তাই ঠিক করলাম আর টেনশন করব না।’ শুনে বোর্ডের সবাই হাসলেন। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দিন দেখলাম—পুলিশ ক্যাডারে মেধা কোটায় আমার অবস্থান ৫০তম। জয়েন করি বাংলাদেশ পুলিশে। এখন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে (সারদা, রাজশাহী) এক বছর মেয়াদি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিচ্ছি।

 

নতুনদের উদ্দেশে বলব, সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) প্রণীত সিলেবাসটাই হচ্ছে বিসিএসের প্রথম দিকনির্দেশনা। সিলেবাসটা আগে ভালো করে দেখুন, তারপর সামনে বাড়ুন।

     অনুলিখন :

     রাজীব চন্দ্র ভদ্র

 

মন্তব্য