kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

প্রিলিমিনারি

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি

১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ এপ্রিল। স্কুল, স্কুল-২ ও কলেজ পর্যায়ের সিলেবাস প্রায় একই, তবে কলেজ পর্যায়ের জন্য একটু বেশি খাটতে হবে। শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে আরো জানাচ্ছেন ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মেধাতালিকা থেকে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক মো. মিকাইল ইসলাম নিয়ন

১০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি

পরীক্ষা পদ্ধতি

১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। অনেকটা বিসিএসের আদলেই পরীক্ষা হচ্ছে। বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে তিনটি ধাপ পেরোতে হবে—প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা। প্রিলিমিনারিতে ১০০ নম্বরের বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানে ২৫ করে মোট ১০০ নম্বর। পাস নম্বর ৪০। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১, ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর করে কাটা পড়বে।

লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের নির্ধারিত স্ব-স্ব বিষয়ের ওপর পরীক্ষা দিতে হবে।

মৌখিক পরীক্ষার পর জাতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এর ওপর ভিত্তি করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাবেন শিক্ষকরা।

 

প্রস্তুতি যেভাবে

♦  বাংলা : বাংলা অংশে সাধারণত ব্যাকরণের ওপর প্রশ্ন আসে। স্কুল ও কলেজ—উভয় পর্যায়েই

ভাষারীতি ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহার, বাগধারা ও বাগবিধি, ভুল সংশোধন বা শুদ্ধকরণ (শুদ্ধ বানান), যথার্থ অনুবাদ, সন্ধিবিচ্ছেদ, কারক-বিভক্তি, সমাস, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, বাক্য সংকোচন ও লিঙ্গ পরিবর্তন থেকে বেশি প্রশ্ন হয়ে থাকে।

স্কুল পর্যায়ের জন্য নবম ও দশম শ্রেণির বোর্ড প্রণীত ব্যাকরণ বইটি ভালোভাবে পড়তে হবে।

কলেজ পর্যায়ের জন্য নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বইয়ের পাশাপাশি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বইও দেখতে হবে। গদ্য ও পদ্যের লেখকের নাম, পরিচিতি জানা থাকতে হবে।

 

♦  ইংরেজি : ইংরেজি অংশে ভালো করতে হলে গ্রামারের খুঁটিনাটি জানতে হবে, বিশেষ করে Completing Sentences, Use of Article, Uses of Verbs, Translation From Bangali to English, Synonyms and Antonyms, Idioms and Phrases। বাজারে প্রচলিত যেসব বইয়ে গ্রামারের বেসিক বিষয়গুলো সহজভাবে দেওয়া থাকে, সেগুলো দেখতে পারেন। গত এক-দুই বছরের বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো (‘জব সলিউশন’ বইয়ে পাবেন) থেকে কমন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

 

♦  গণিত : গণিতে ভালো করতে হলে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো দখলে রাখতে হবে।

বিগত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার (ষষ্ঠ থেকে চতুর্দশ) স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের প্রশ্নপত্রে গণিতে এসব টপিকের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন এসেছে—

পাটিগণিত : গড়, ঐকিক নিয়ম, লসাগু ও গসাগু, শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত-সমানুপাত।

বীজগণিত : উত্পাদক, বর্গ ও ঘন সংবলিত সূত্রাবলি ও প্রয়োগ, গসাগু, বাস্তব সমস্যা সমাধানে বীজগাণিতিক সূত্র গঠন ও প্রয়োগ, সূচক ও লগারিদমের সূত্র ও প্রয়োগ।

 

জ্যামিতি : স্কুল পর্যায়ের জন্য রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, ক্ষেত্রফল ও বৃত্ত সম্পর্কিত সাধারণ ধারণা, নিয়ম ও প্রয়োগ।

কলেজ পর্যায়ে—পরিমিতি ও ত্রিকোণমিতি সম্পর্কিত সাধারণ ধারণা, নিয়ম ও প্রয়োগ।

পরীক্ষায় মাঝে মাঝে এমন সব অঙ্ক আসে, যেগুলো সমাধান করতে অনেক সময় লেগে যায়। তাই অঙ্ক বা সমস্যা সমাধানে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতির প্রয়োগ জানতে হবে।

♦  সাধারণ জ্ঞান : সাধারণ জ্ঞানের কয়েকটি অংশ—

ক)   বাংলাদেশ বিষয়াবলি

খ)   চলতি ঘটনাবলি বাংলাদেশ

গ)   আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

ঘ)   চলতি ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক

ঙ)   বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং রোগব্যাধি সম্পর্কিত মৌলিক জ্ঞান।

 

সাধারণ জ্ঞানের জন্য সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ভালোভাবে জানতে হবে। অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে সাধারণ জ্ঞানের গণ্ডি বড়। নিয়মিত পত্রিকা পড়লে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবরাখবর রাখা যাবে।

 

‘বাংলাদেশ বিষয়াবলি’ অংশে যেসব বিষয়বস্তুর ওপর প্রশ্ন থাকতে পারে—

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, পরিবেশ, সম্পদ (বন, কৃষি, শিল্প, পানি), যোগাযোগব্যবস্থা, বাংলাদেশের সমাজজীবন, সমস্যা, জনমিতিক পরিচয়, রাষ্ট্র, নাগরিকতা, সরকার ও রাজনীতি, সরকারি ও বেসরকারি লক্ষ্য, নীতি, পরিকল্পনা (অর্থনৈতিক, সামাজিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা), কর্মসূচি, প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও সভ্যতা, সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম, নদ-নদী, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সম্পদ।

 

‘আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি’র জন্য গুরুত্বপূর্ণ—বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক পরিচিতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ, জাতিসংঘ, আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সংগঠন, মুদ্রা, দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা, প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞান, তথ্য-প্রযুক্তি, রোগব্যাধি, খেলাধুলা ইত্যাদি।

 

খেয়াল রাখতে হবে

♦ বিগত পঞ্চম ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্ন এবং দশম ৩৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্ন দেখে প্রস্তুতি নিলে ৪০ শতাংশ প্রশ্ন কমন পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

♦ প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ নম্বর পেলেই লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে।

 

♦ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এটি পরবর্তী ধাপে (লিখিত পরীক্ষা) অংশ নেওয়ার যোগ্যতা প্রমাণের পরীক্ষা শুধু।

 

♦ প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির জন্য সহায়ক বই হিসেবে প্রফেসর’স বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন প্রস্তুতি, এমপিথ্রি সিরিজের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সংগ্রহে রাখতে পারেন।

 

সিলেবাস

১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার স্কুল, স্কুল-২ ও কলেজ পর্যায়ের সিলেবাস (প্রিলিমিনারি) পাওয়া যাবে এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে (www.ntrca.gov.bd) ‘পরীক্ষাসংক্রান্ত’ অংশে। ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

মন্তব্য