kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

নোবেল পুরস্কার ২০১৭

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে সবচেয়ে সম্মানজনক নোবেল পুরস্কার প্রবর্তিত হয় ১৯০১ সালে। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিত্সাশাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য ও শান্তিতে প্রতিবছর নোবেল দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের নোবেল বিজয়ীদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন। লিখেছেন আরাফাত শাহরিয়ার

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নোবেল পুরস্কার ২০১৭

শান্তি

পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের আন্দোলনের জয়
চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস—আইসিএএন। বিশ্বের ১০১টি দেশের ৪৬৮টি বেসরকারি সংগঠনের আন্তর্জাতিক মোর্চাটির যাত্রা শুরু ২০০৭ সালে। স্বল্প পরিচিত এই জোটের সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। আইসিএএনের চেষ্টায় গত জুলাইয়ে জাতিসংঘের ১২২টি সদস্য দেশ পরমাণু অস্ত্র নিরোধ চুক্তির পক্ষে সমর্থন দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পারমাণবিক অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ৯টি দেশ তাতে সাড়া দেয়নি। নরওয়ের নোবেল কমিটি জানায়, পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় আইসিএএনকে নোবেল দেওয়া হচ্ছে।

সাহিত্য

কাজুয়ো ইশিগুরোর বাজিমাত্
সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জাপানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক কাজুয়ো ইশিগুরো। তাঁর লেখা বই অনূদিত হয়েছে ৪০টি ভাষায়। তাঁর উপন্যাস ‘দ্য রিমেইনস অব দ্য ডে’ ও ‘নেভার লেট মি গো’র ছায়া অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রও জনপ্রিয় হয়েছে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘এ পেইল ভিউ অব হিলস’ প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে। দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অ্যান আর্টিস্ট অব দি ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ডে’র পটভূমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের নাগাসাকি। ‘দ্য রিমেইনস অব দ্য ডে’ উপন্যাসের জন্য ১৯৮৯ সালে বুকার পান এই লেখক।

পদার্থ

আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তরঙ্গের গবেষণায় নোবেল
পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন রাইনার ভাইস, কিপ এস থর্ন ও ব্যারি বারিশ। যুক্তরাষ্ট্রের এই তিন বিজ্ঞানীর গবেষণায় আলবার্ট আইনস্টাইনের অপেক্ষবাদ তত্ত্বের মহাকর্ষীয় তরঙ্গ বাস্তবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্ল্যাক হোলে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করার যুগান্তকারী ঘোষণা দেওয়া হয়। এই তরঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব কি না—সে বিষয়ে সত্তরের দশকেও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত ছিলেন না। অ্যাস্ট্রোনমি ম্যাগাজিন বলছে, আইনস্টাইন নিজেও একসময় ওই তত্ত্ব নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।

রসায়ন

ক্রাইয়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কপি গবেষণায় সাফল্য
রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন সুইজারল্যান্ডের জ্যাকস ডুবোশেট, জার্মানির জোয়াকিম ফ্রাঙ্ক ও যুক্তরাজ্যের রিচার্ড হ্যান্ডারসন। তাঁরা ক্রাইয়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কপি বিষয়ে গবেষণায় সাফল্যের জন্য এ পুরস্কার পেলেন। নোবেল কমিটি বলছে, ক্রাইয়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপির মাধ্যমে জৈবিক অণুর উন্নতমানের প্রতিচ্ছবি ধারণ আগের চেয়ে অনেক সহজে করা যাবে। এর ফলে জীবদেহের জটিল সব কলকবজা সম্পর্কে গভীরভাবে জানা সম্ভব হবে। এ কৌশল প্রাণরসায়নের পাশাপাশি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরির গবেষণাকেও এগিয়ে নেবে।

চিকিত্সা

দেহঘড়ি গবেষণার জয়যাত্রা
চিকিত্সাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী জেফ্রি সি হল, মাইকেল রসবাস ও মাইকেল ডাব্লিউ ইয়ং। মানুষসহ সব প্রাণী ও উদ্ভিদের সব জীবিত কোষ যে সময়সূত্র মেনে চলে বিজ্ঞানীরা তাকে বলেন সার্কেডিয়ান রিদম। আমাদের মনোভাব, হরমোনের মাত্রা, দেহের উষ্ণতা ও সার্বিক বিপাকীয় কার্যাবলির ওপর এই সার্কেডিয়ান রিদমের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। দেহঘড়ির বিজ্ঞান বা ক্রোনোবায়োলজির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই তিন বিজ্ঞানীর।

অর্থনীতি

অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে মনস্তত্ত্বের প্রভাব
অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মনস্তত্ত্বের প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড এইচ থেলার। সীমিত মিতব্যয়িতা, সামাজিক অগ্রাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাবের মতো বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এগুলো কিভাবে বাজারের ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে মানুষের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে তা দেখিয়েছেন অধ্যাপক থেলার। মানুষ কিভাবে বাজে পছন্দটাই বেছে নেয় কাস সানস্টেইনের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা বেস্ট সেলার বই ‘ন্যুজ’-এ তা দেখিয়েছেন থেলার। অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মনস্তত্ত্বের প্রভাব নিয়ে কাজ করে আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন রিচার্ড থেলার। তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছেন আচরণগত অর্থনীতির তাত্ত্বিক হিসেবে।

মন্তব্য