kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

অ্যাথলেটকন্যা তামান্না

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্রী আনিকা রহমান তামান্না। অ্যাথলেটিকস ছাড়াও হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল, হকিও খেলেন। অংশ নিয়েছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। জিতেছেন অনেক পুরস্কার। লিখেছেন আতিকুর রহমান অনি

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




অ্যাথলেটকন্যা তামান্না

সুনামগঞ্জের মেয়ে তামান্না। স্কুলে পড়ার সময় খেলাধুলার সঙ্গে সখ্য হয় তাঁর। একবার স্কুলে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দৌড়, উচ্চ লম্ফ, দীর্ঘ লম্ফসহ কয়েকটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে সেরা হয়েছিলেন। ওই সময় জাতীয় দলের এক কোচ স্প্রিন্ট ও হার্ডলস দলের কোচ কেতাব আলী তামান্নার খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

কেতাব আলী সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে তামান্নাকে নিয়ে এলেন ঢাকায়। ভর্তি করালেন বিকেএসপিতে। তামান্না বলেন, ‘সেই কোচ সম্পর্কে আমার নানু হন। বিকেএসপিতে তিনিই আমাকে ক্লাস সেভেনে ভর্তি করিয়ে দেন।’ সেখানে চলতে থাকে তামান্নার প্রাকটিস ও পড়াশোনা। ধীরে ধীরে নিজেকে করে তোলেন দুর্বার। সুনামগঞ্জ জেলার হয়েও খেলেছেন। পুরো নাম আনিকা রহমান তামান্না। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি বড়। বাবা সাবেক উদ্দিন সৌদি প্রবাসী। মা রাশিয়া বেগম গৃহিণী। খেলাধুলায় মা সব সময় উত্সাহ দিয়েছেন। বললেন, ‘বাবা চাইতেন না আমি খেলি; কিন্তু তিনি কখনো আমাকে বাধাও দিতেন না। মামা আর খালাদের খুব সাপোর্ট পেয়েছি। সত্যি কথা বলতে কী, তারা না থাকলে হয়তো এই পর্যন্ত আসা সম্ভব হতো না।’

২০১৩ সালে এসএসসি পাস করেন। এ-গ্রেড পেয়েছিলেন। পরের বছর প্রথমবারের মতো বিদেশ যাওয়ার সুযোগ মেলে তামান্নার।  সেবার তাইওয়ানে অনুষ্ঠিত চায়নিজ কাপে জুনিয়র অ্যাথলেট হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে সেমিফাইনালে পর্যন্ত গিয়েছিলেন। তবে ২০১৫ সাল কাটে স্বপ্নের মতো। প্রথমবারের মতো জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাজিমাত করেন। ১০০ মিটার দৌড়ে জুনিয়র ক্যাটাগরিতে ‘দ্রুততম মানবী’ হয়েছিলেন। পুরো প্রতিযোগিতায় মোট ছয়টি স্বর্ণপদক জেতেন তিনি। সেবার প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই বছর ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইনভাইটেশন গেইমেও ২০০ মিটারে স্বর্ণপদক ও ৪০০ মিটারে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন এই তরুণী। ফলে সুযোগ মেলে কাতারে অনুষ্ঠিত স্প্রিন্ট ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার। দেশি-বিদেশি কোচদের কাছে শিক্ষা নেন সেখানে। দেশে ফিরেই পান আরো একটি সুখবর—বিকেএসপির অ্যাথলেটিকসে ২০১৫ সালের ‘বর্ষসেরা খেলোয়াড়’ তিনি। এর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চলে আসে। জিপিএ ৩.৮৯ নিয়ে পাস করেন তিনি।

২০১৬ সালে ভর্তি হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। প্রথম বষের্র পরীক্ষায় সিজিপিএ চারের মধ্যে ৩.২২ পেয়েছেন। তামান্না বলেন, ‘খেলার সুবাদে বেশির ভাগ সময় ঢাকাতেই থাকতে হয়। তবে বিভাগের শিক্ষক ও সহপাঠীরা সব সময় আমাকে হেল্প করেন।’

২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডে ইয়ুথ কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন তামান্না। সেখানেও ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে সেমিফাইনালের বাধা টপকাতে পারেননি। একই বছর থেকে ‘সিনিয়র অ্যাথলেট’ হিসেবে খেলা শুরু করেন। মূলত ১০০, ২০০ ও ৪০০ মিটার দৌড়, লং জাম্প ও হার্ডলসসহ একাধিক ইভেন্টে অংশ নিয়ে নিজের ঝুলিতে ভরতে থাকেন একের পর এক পুরস্কার। ২০১৮ সালে জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায়। টানা দশবারের চ্যাম্পিয়ন হার্ডলসের সুনিতা রানীকে হারিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন তিনি। কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হওয়া বঙ্গবন্ধু স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচটি স্বর্ণসহ ছয়টি পদক পেয়ে ইভেন্ট সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন। পুরস্কার নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে।

অ্যাথলেটিকসের পাশাপাশি হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল ও হকিও খেলেন। তামান্না বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাকটর আসাদ স্যার আমাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেন।’ ভবিষ্যতে ফিজিক্যাল ইন্সট্রাকটর হওয়ার ইচ্ছা আছে তাঁর। বিদেশে খেলাধুলা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে চান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা