kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

আয়োজন

বিজ্ঞান কংগ্রেসে সেরাদের সেরা

২৬-২৭ এপ্রিল রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস-২০১৯। এতে সেরাদের সেরা হওয়া তিনটি গবেষণার গল্প শোনাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিজ্ঞান কংগ্রেসে

সেরাদের সেরা

কসমিক আর্টিফিশিয়াল ইনটিলিজেন্স রোবট

কসমিক রোবটটি মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে পারে এবং মানুষকে সাহায্য করতে পারে। বেশির ভাগ রোবট সাধারণত সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করলে এর উত্তর দেয়। কিন্তু এই রোবটটির ভেতর মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে কেউ কোনো প্রশ্ন করলে রোবটটি নিজে একটা উত্তর বানিয়ে কথা বলতে পারবে। মানুষের মস্তিষ্কে যে নিউরাল নেটওয়ার্ক আছে, এ রোবটের ভেতর তেমন একটা নকশার অনুকরণ করা হয়েছে। ফলে এটি ‘চিন্তা’ করতে পারবে। কসমিক আর্টিফিশিয়াল ইনটিলিজেন্স রোবটটির উদ্ভাবক অষ্টম শ্রেণিতে পড়া মো. আরাফ ইশরাক।

‘চাকরির সূত্রে অনেক মা-বাবা তাঁদের বাচ্চাদের একা বাসায় রাখেন। কিন্তু তাদের একা রাখা বিপজ্জনক। অন্যদিকে ইদানীং আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে বেশি। এই রোবটের মাধ্যমে যেখানে আগুন লেগেছে, সে স্থান দেখা ও আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এই রোবটে একটি সার্ভার ও একটি ক্যামেরা থাকায় অফিসে বসেও এটি দেখা এবং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’ জানাল আরাফ। এ ছাড়া একাকিত্ব অনুভব করা শিশুদের বন্ধু হতে পারে এটি। আরাফের এ প্রকল্প প্রজেক্ট অব দ্য কংগ্রেস নির্বাচিত হয়।

 

দুটি নির্দেশক ব্যবহার করে সব টাইট্রেশন

২০১৮ সালে মাকসুদুল আলম সায়েন্স ল্যাবে কাজ করছিল তিন বন্ধু সিয়াম, আবির ও নিবিড়। তারা বিভিন্ন টাইট্রেশন করার জন্য ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশক পেত না (রসায়ন গবেষণাগারে বিভিন্ন অম্লক্ষারের ঘনমাত্রা জানার প্রয়োজন হয়। এর একটি প্রচলিত উপায় হচ্ছে টাইট্রেশন)। তারপর ভাবতে থাকে কিভাবে দুটি নির্দেশক ব্যবহার করে সব টাইট্রেশন করা যায় এবং প্রকৃত ফলাফল পাওয়া সম্ভব। দিন-রাত চলে গবেষণা। সময় পেলেই চলে যেত ল্যাবে। সফলও হয়। তৈরি করে ফেলে বিজ্ঞান পেপার। এবার এসএসসি দেওয়া তিন বন্ধুর পেপারটির নাম নির্দেশক অনির্ভর অম্লক্ষার টাইট্রেশনের পদ্ধতি বের করা।

একেক টাইট্রেশনের জন্য একেক নির্দেশকের প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণ ল্যাবরেটরিগুলোতে এত নির্দেশক সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। তা ছাড়া এত নির্দেশক সরবরাহ করার খরচও বেশি। তাদের গবেষণাপত্রে সবচেয়ে পরিচিত দুটি নির্দেশক—ফেনোফথ্যালিন এবং মিথাইল অরেঞ্জের মাধ্যমে যেকোনো অম্লক্ষার টাইট্রেশন করার একটি উপায় বের করার চেষ্টা করেছে। এ জন্য তারা টাইট্রেশনের পিএইচ বনাম ক্ষারের আয়তনের লেখচিত্রের গাণিতিক সমীকরণটিকে কাজে লাগিয়েছে। গাণিতিকভাবে প্রাপ্ত উত্তরের সঙ্গে পরীক্ষণ থেকে প্রাপ্ত উপাত্তের তুলনা করে পদ্ধতিটি যাচাই করেছে।

গাণিতিক কাজটি সহজে করতে সি++ ভাষা ব্যবহার করে একটি প্রগ্রাম লিখেছে ওরা। তাদের পেপারের পদ্ধতিটি অনুসরণে খরচ যেমন বেঁচে যাবে, তেমনি পরে অন্যরা এ পদ্ধতি সহজে ব্যবহারও করতে পারবে।

 

বাংলাদেশের নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য উপকরণ ব্যবহারসংক্রান্ত অজ্ঞতা

ঋতুস্রাব শব্দটা শুনলেই অনেকে এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করে। অথচ এটি একটি সহজ-স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা একটি মেয়ের শরীরকে গর্ভধারণের জন্য তৈরি করে। একটা মেয়েকে তার জীবনে অনেকটা সময় এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই কিছু স্যানিটেশন প্রডাক্ট ব্যবহার করতে হয়। এতে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে না। স্যানিটারি প্যাড তার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু আমাদের দেশে মাত্র ১১ শতাংশ নারী এটি ব্যবহার করে। দেশের ৬৩ শতাংশ নারীই প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার আগে এ সম্পর্কে কিছুই জানত না। এসব তথ্যই খুঁজে পাই এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী অয়ালিদ হাসানের তৈরি করা পোস্টারে। জাতীয় শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেসে তার গবেষণাটি পোস্টার অব দ্য কংগ্রেস নির্বাচিত হয়।

‘আমি এসব তথ্য জানতে পেরে অবাক হই এবং বাংলাদেশে মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য উপকরণের ব্যবহার সম্পর্কিত অজ্ঞতাকে বোঝার এবং বিষয়টি প্রকাশ করার জন্য গবেষণা করেছি। পরে আমার গবেষণাটি একটি পোস্টারে উপস্থাপন করেছি।’

অয়ালিদ মূলত দেশের নানা প্রান্তে পরিচালিত জরিপ ও জাতীয় সার্ভে থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলাদেশে মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য উপকরণ কম পরিমাণ ব্যবহারের কারণ ও দেশে বর্তমান ঋতুস্রাব সম্পর্কিত তথ্যের অবস্থা জানতে পেরেছে। বিদ্যমান অবস্থার উন্নতির জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপড়কেই সঠিক পরিষ্কার পদ্ধতি মেনে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে তুলে ধরা হয়েছে তার পোস্টারে।

 

এক নজরে বিজ্ঞান কংগ্রেস

বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আয়োজন করে বিজ্ঞান কংগ্রেসের। সারা দেশ থেকে ধাপে ধাপে বাছাইকৃত প্রায় ৪০০ জন শিক্ষার্থী মূল পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। শিক্ষাথীরা একক ও দলীয়ভাবে কংগ্রেসে মোট ৪৮টি পেপার, ৮১টি প্রজেক্ট এবং ৪২টি পোস্টার উপস্থাপনা করে। তাদের মধ্য থেকে পেপারে ১৯ জন, পোস্টারে ২১ জন এবং প্রজেক্টে ২০ জন বিজয়ী হয়। কংগ্রেসে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আগামী ২ থেকে ৪ মে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনের ষষ্ঠ জগদীশ চন্দ্র বসু ক্যাম্প।

মন্তব্য