kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

১০ টাকায় পুরো ক্যাম্পাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে রাইড শেয়ারিং সেবা চালু করেছেন মাসুদ পারভেজ। তিনি মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে ক্যাম্পাসের যেকোনো স্থানে পৌঁছে দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের। লিখেছেন আলী ইউনুস হূদয়। ছবি : অন্তর রায়

১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১০ টাকায় পুরো ক্যাম্পাস

চাচাতো বোনের দেওয়া স্কুটি দিয়ে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতেন মাসুদ। কিছু দিন পরে মাথায় আসে, উবার, পাঠাওর মতো ক্যাম্পাসে স্কুটি দিয়ে রাইড শেয়ারিং করলে কেমন হয়। বন্ধুদের সঙ্গে নিজের ভাবনা শেয়ার করলে তারাও সায় দেয়। ২ এপ্রিল ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ গ্রুপে নিজের ভাবনা তুলে ধরে একটি স্ট্যাটাস দেন মাসুদ। সেখানে ইতিবাচক সাড়া পেলে পরদিন থেকে রাইড শেয়ারিং সেবা চালু করেন। তখন থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের যেকোনো জায়গায় শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। খরচ নিচ্ছেন মাত্র ১০ টাকা করে। ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই সেবা গ্রহণ করা যাবে। মুঠোফোনে (০১৭২৮৮৬০৫০০) খুদে বার্তা কিংবা কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করলেই হলো। স্কুটি নিয়ে মাসুদ পৌঁছে যাচ্ছেন কলারের কাছে। পরে ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট জায়গায় নামিয়ে দিয়ে আসছেন।

মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এমন উদ্যোগের কারণ কী? ‘রাজশাহী শহরে খুব একটা টিউশনি পাওয়া যায় না। পেলেও খুব কম টাকায় করাতে হয় সেগুলো। তাই টিউশনির বিকল্প হিসেবে রাইড শেয়ারিংয়ের আইডিয়া। ভাবলাম, এটা শুরু করতে পারলে ক্যাম্পাসের অন্তত ১০-১৫ জন ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারব। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ দুটিই কম লাগবে।’ হাসিমুখেই জবাব দিলেন মাসুদ।

ক্যাম্পাসে রাইড সার্ভিস শুরুর পর থেকেই দারুণ সাড়া মিলেছে। প্রথম দিনই ২৩ জনকে পৌঁছে দিয়েছেন গন্তব্যে। আবার কয়েকজনকে ‘না’-ও করতে হয়েছে। তাঁর একার পক্ষে সবাইকে রাইড দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। মাসুদ বলছিলেন, ‘আমি তো একা মানুষ। প্রথম দিকে এত কল আসত যে সবার ডাকে সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।’ তবে সবাই যে কাজটাকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে তা-ও নয়। কেউ কেউ তাচ্ছিল্যের সুরেও কথা বলত—মানুষ নিয়ে আসা, নিয়ে যাওয়া, এটা কোনো কাজ হলো! তুমি ভাড়া খাটবে?’ এসব কথায় কান দেননি মাসুদ।

মাসুদের বাইকে মোটামুটি নিয়মিতই চড়েন নওয়াব আব্দুল লতিফ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাজ্জার হোসাইন। তিনি বললেন, প্রায়ই ক্লাসে আসার সময় রিকশা পাওয়া যায় না। বাইকের তুলনায় রিকশা ভাড়াও বেশি। বাইকে সময়ও লাগে কম।’

মাসুদের রাইড শেয়ারিং শুরু করার কিছু দিন পর আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম এবং ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সাজু মিয়া যোগাযোগ করেন তাঁর সঙ্গে। একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মাসুদও সায় দেন। সাইফুলের নিজের বাইক আছে; অন্যদিকে মাসুদ যখন ক্লাসে থাকেন তখন সাজু রাইড দিয়ে থাকেন। এখন এভাবেই তিনজন মিলে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ক্যাম্পাসে। তিনজন একসঙ্গে কাজ শুরুর পর মনে হলো পুরো সিস্টেমকে একটা অ্যাপসের আওতায় নিয়ে এলে ভালো হয়। কারণ অ্যাপসের ব্যবহার সুবিধাজনক। তা ছাড়া ক্যাম্পাসে আরো অনেকের নিজের বাইক আছে। চাইলে তারাও এই কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে। পরে মাসুদ রুয়েটের বন্ধু জাহিদের সঙ্গে অ্যাপস তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেন। এখন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাসুদের জন্য ‘ঘুড়ি’ নামের অ্যাপস তৈরি করছে। এই মাসের শেষের দিকে অ্যাপসের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন বলে জানালেন মাসুদ। এখন পর্যন্ত শুধু ছেলেরাই মাসুদের যাত্রী। অ্যাপসের কাজ শেষ হলে দুজন মেয়ে রাইডারের মাধ্যমে মেয়েদের জন্যও দুটি বাইক রাখবেন বলে জানালেন তিনি। রাজশাহীর স্থানীয় কিছু বাসিন্দাও এরই মধ্যে মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বললেন, ‘ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসের বাইরে রাজশাহী শহরেও রাইড শেয়ারিং কার্যক্রম চালাতে চাই। দেশের অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের সেবা চালুর ইচ্ছা আছে আমার।’


খবরটি ইউনিকোড থেকে বাংলা বিজয় ফন্টে কনভার্ট করা যাবে কালের কণ্ঠ Bangla Converter দিয়ে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা