kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

আয়োজন

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নববর্ষের আনন্দ

এ দেশে অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে, যারা নববর্ষের আনন্দ কী জিনিস তা বুঝতেই পারে না। নতুন পোশাক কিংবা মজার খাদ্য যেন তাদের জন্য নয়! কিন্তু এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আনন্দে মেতে উঠেছিল দুই শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু। তাদের হৈ-হুল্লোড় আর কলরবে মুখরিত ছিল পুরো একটি দিন। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মতিউর রহমান মুন্না ও আদীব আরিফ

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নববর্ষের আনন্দ

পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব আয়োজন করে ‘আনন্দমেলা সারাবেলা’। সহযোগিতা করে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। ১২ এপ্রিল হাজির হয় জাগো ফাউন্ডেশন, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন, স্পৃহা ও তরী থেকে আসা দুই শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু। তাদের নিয়ে আয়োজন করা হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ম্যাজিক শো, পাপেট শো, বিভিন্ন রকম খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ভোর থেকেই শিশুদের কলরব বাড়তে থাকে। ঠিক সকাল ১০টায় বিতরণ করা হয় নাশতা ও টি-শার্ট। লাল টি-শার্টের সঙ্গে কমলা, কেক এবং জুসে ভরা নাশতার প্যাকেট পেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুদের খুশি আর ধরে না। ভলান্টিয়ারদের দেওয়া হয় সাদা টি-শার্ট। কিছুক্ষণের মধ্যেই লাল-সাদা রঙে ভরে যায় বিশাল মাঠটি। রংবেরঙের মুখোশ, চকোলেট, রং পেনসিল, বোর্ড, আর্ট পেপার, ফাইলসহ আরো অনেক কিছু পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে।

মাঠের ভেতর বসানো হয় হরেক রকম খেলনা। সেগুলোতে চড়ে খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে অনুষ্ঠানে আসা শিশুরা। তাদের কেউ গাইছে তো কেউ নাচছে, কেউ এদিকে ছোটে তো কেউ ওদিকে।

দুপুর হতে না হতেই বাচ্চাদের হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া হয় দুপুরের খাবার। বিরিয়ানি, মুরগির রোস্ট, ডিম, কোক ছিল দুপুরের খাবারের মেন্যুতে।

বিড়ালের মুখোশ পরে ছিল তরী থেকে আসা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী স্মৃতি। একটা খেলনা সিঁড়ি বেয়ে সড়াত্ করে নিচে এসে পড়ল। কেমন লাগছে জানতে চাইতেই উত্তর দিল, লাল জামাটা আমার খুব পছন্দের। এখানে অনেক খেলনা আছে। আমরা অনেক মজা করছি।

জাগো ফাউন্ডেশন থেকে এসেছে সজীব। দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া এই শিশুটি আর্ট পেপারে মস্ত বড় একটি কুমির এঁকে ফেলেছে। পাশেই গান করছে তমা। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া মেয়েটি এসেছে স্পৃহা থেকে।

অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা চারটি সংগঠনের আলাদা আলাদা স্টল ছিল। স্টলগুলোতে বিভিন্ন স্তরের মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।

‘শিশুদের এ আনন্দ শুধু এক দিন নয়, যেন সারা জীবন বয়’—এই স্লোগানকে ধারণ করে অনুষ্ঠিত ‘আনন্দমেলা সারাবেলা’য় উপস্থিত ছিলেন আইডিএলসির সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর আরিফ খান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শম্পা রেজা, তরুণ কার্টুনিস্ট খোরশেদ মিশু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুস্তাফিজুর রহমান এই অনুষ্ঠানে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি জানান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও আনন্দে মেতে উঠতে পারে, দরকার শুধু একটু সহানুভূতির হাত। আমি আমার বিবেকের তাড়না থেকে এখানে এসেছি। ওদের আনন্দে শামিল হতে আমার খুব ভালো লাগে।

অনুভূতি জানতে চাইলে তরুণ কার্টুনিস্ট খোরশেদ মিশু বলেন, আমার কাছে শিশুদের ব্যাপার-স্যাপার সব সময় ভালো লাগে। এদের বন্ধু বানাতে সময় লাগে না। অনেক দিন ধরেই প্ল্যান করছিলাম, জাগো ফাউন্ডেশনের একটা শিশুকে স্পন্সর করব। এখন আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর দায়িত্ব নিতে চাই।

আমাদের দেশে একটি বিশাল অঙ্কের সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে, যাদের নতুন বছর আনন্দ নিয়ে শুরু হয় না। সেই  সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নতুন বছরটিকে আনন্দময় করতে আয়োজন করেছি ‘আনন্দমেলা সারাবেলা’। আয়োজনের উদ্দেশ্য নিয়ে বলছিলেন আইডিএলসির সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর আরিফ খান।

মন্তব্য