kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

প্রথম বিশেষায়িত সরকারি ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়

জুবায়ের আহম্মেদ   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রথম বিশেষায়িত সরকারি ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়

অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ

দেশের প্রথম বিশেষায়িত সরকারি ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই। জাতীয় সংসদে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের। ২০১৮ সালের ৬ জুন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূরকে  বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ২০১৮ সালের ১৩ জুলাই জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেয়। এখন ওই জনবল দ্বারাই প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বছরের ৩১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেটের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দুটি অনুষদের অধীনে দুটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট ফর অনলাইন অ্যান্ড ডিসটেন্স লার্নিং নামে একটি ইনস্টিটিউট রয়েছে। বিভাগ দুটি হলো—প্রকৌশল অনুষদের অধীনে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি) এবং শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের অধীনে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন আইসিটি ইন এডুকেশন। এই দুই বিভাগে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে মোট ১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়েছে। প্রতিটি বিভাগে তিনজন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান।

বাংলাদেশে অনলাইন শিক্ষার নতুন দিক উন্মোচন করতে ইনস্টিটিউট ফর অনলাইন অ্যান্ড ডিসটেন্স লার্নিংয়ের অধীনে সার্টিফিকেট কোর্স অন ডিজিটাল লার্নিং ডিজাইন এবং সার্টিফিকেট কোর্স অন সাইবার সিকিউরিটি চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ইনস্টিটিউট ফর অনলাইন অ্যান্ড ডিসটেন্স লার্নিংয়ে পাঠদান প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইননির্ভর। ফলে যে কেউ-ই অনলাইনে কোর্স সম্পন্ন করতে পারবেন। এরই মধ্যে ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্সের (http://mooc.bdu.ac.bd) কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজও অচিরেই শুরু হচ্ছে। আপাতত কালিয়াকৈরেই দুটি ভাড়া ভবনে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম। ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বিগ ডাটা অ্যানালিসিস ও রোবটিকস বিষয় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর। তিনি বলেন, “সরকারের ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নে ডিজিটাল বাংলাদেশকে টেকসই করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান, গবেষণা ও ডিজিটাল জ্ঞানের উত্কর্ষ সাধনের ব্যবস্থা করে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা। শুরুতে এখানে শুধু বিশেষায়িত বিষয়গুলোই পড়ানো হবে। সে কারণে আমরা আইওটি এবং আইসিটি ইন এডুকেশন বিষয় দুটি নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি। কোর্সগুলো বাংলাদেশে একেবারেই নতুন এবং বাংলাদেশের পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে দেশের ও দেশের বাইরের শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদানের সক্ষমতা রয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, বিদেশি শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এরই মধ্যে আমরা লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে ছয়টি অনুষদের অধীনে ১৫টি বিভাগ খোলার চিন্তাভাবনা আছে।”


খবরটি ইউনিকোড থেকে বাংলা বিজয় ফন্টে কনভার্ট করা যাবে কালের কণ্ঠ Bangla Converter দিয়ে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা