kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

টিফিন আওয়ার

চীনের রংধনু কিন্ডারগার্টেন

চীনের তিয়ানজিনে আছে মজার এক কিন্ডারগার্টেন। দেখতে গোল একটা ডোনাটের মতো এই কিন্ডারগার্টেনে ব্যবহার করা হয়েছে রংধনুর সব রং। জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চীনের রংধনু কিন্ডারগার্টেন

১৮৮০ সালে ফ্রান্সের একটি স্কুলের ছাত্রদের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তোলা ছবি

ভবনটি যেহেতু গোল, তাই প্রতিটি ঘর কিছুটা বাঁকানো। জানালাগুলোও এখানে কিছুটা গোলাকার। গোটা ভবনই রংধনুর সব রঙের মোট আঠারো রকমের শেড দিয়ে রাঙানো। আর ভবনের মাঝের খোলা অংশে আছে খেলাধুলার জায়গা। নিচের তলায়ও খেলাধুলার সব ব্যবস্থা আছে। ছাদেও কৃত্রিম ঘাস ব্যবহার করে বানানো হয়েছে খেলার মাঠ। চার রঙের চারটি সিঁড়ি দিয়ে ছাদে যাওয়া যায় এই অদ্ভুত কিন্ডারগার্টেনে। শুধু তা-ই নয়, গোটা ভবনে নানা রঙের কাচ নানা অবস্থানে বসানোর ফলে আলো-ছায়ার এক দারুণ দৃশ্য তৈরি হয়। ভবনখানা ৪৫ হাজার বর্গফুট আকৃতির। একেক স্থানে একেক রং ব্যবহার করা হয় বলে বাচ্চারা খুব সহজেই বুঝতে পারে, স্কুলের কোন স্থানে তারা রয়েছে।

চীনের তিয়ানজিনে অসংখ্য বিদেশি অভিবাসী বাস করে। চীনা ও বিদেশি পরিবারগুলোর বাচ্চাদের চাহিদা মেটানোর জন্যই বিশেষভাবে বানানো হয়েছে এই রংধনু স্কুল।

১৭

জেনে নাও

কারা পরেছিল প্রথম ইউনিফর্ম?

--সাদা শার্ট, নেভি ব্লু প্যান্টের কথা মনে হলেই ভেসে উঠবে একটি দৃশ্য—স্কুল! স্কুলে গেলেই সবাই এক। পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে কোনো ভেদাভেদ নেই, তারই প্রতীক ওই ইউনিফর্ম। প্রতিষ্ঠানভেদে এতে ভিন্নতা থাকলেও কমবেশি সবারই ইউনিফর্মে একটা ইউনিফর্মিটি—তথা মিল থাকে। আর সেই ইউনিফর্মের বৃত্তান্ত জানাচ্ছেন ফয়সল আবদুল্লাহ

 

কলম, পেনসিলের মতো স্কুলের অনেক কিছুরই আদি উত্স জানা মুশকিল। কিন্তু ইউনিফর্মের ইতিহাসটা সহজ-সরল। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ইতিহাসটা হলো, ১৫৫২ সালে লন্ডনের ক্রাইস্ট হসপিটাল স্কুলে প্রথম ইউনিফর্মের প্রচলন শুরু হয়। একটি লম্বা নীল কোটের সঙ্গে হাঁটু পর্যন্ত ওঠানো হলুদ মোজা। এত দিন পার হয়ে গেলেও ওতে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। সরাসরি স্কুল না হলেও কোনো একটা শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের কথা যদি উদাহরণ দিতে হয়, তবে ১২২২ সালের ক্যান্টারবারির আর্চবিশপের কথা বলতে হয়। তিনি তাঁর অনুসারীদের প্রত্যেককে ‘কাপ্পা ক্লজা’ নামের একটি লাল রঙের আলখাল্লার মতো কাপড় পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর এ দুটির সংমিশ্রণেই পরে ইংল্যান্ডের কলেজগুলোতে পরিপূর্ণ ইউনিফর্মের আবির্ভাব ঘটে। অবশ্য ওই সময় ইংল্যান্ডের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে কাপড় দেওয়ার পর থেকেও ইউনিফর্মের বিষয়টা আরো জেঁকে বসে। এর পরই চলে আসে সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে স্কুলগুলো পর্যন্ত তাদের যার যার সামাজিক মর্যাদাকে আলাদা করে ফুটিয়ে তুলতে নিজেদের মতো করে বানিয়ে নেয় ইউনিফর্ম।

ইংল্যান্ডই মূলত এই ইউনিফর্ম নিয়ে বেশি মাথা ঘামিয়েছে। মাঝে এমনও হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল যে স্কুলের ইউনিফর্মেই প্রকাশ পেতে শুরু করল ছাত্র-ছাত্রীদের সামাজিক মর্যাদা। এতে এক ধরনের বৈষম্য মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হলে অনেক স্কুল-কলেজ তাদের ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনতে শুরু করে। যেমন ১৯৭২ সালে ইংল্যান্ডের ইটন কলেজের ইউনিফর্ম ছিল সাদাসিধে একটা কালো হ্যাট ও কালো স্যুট। সঙ্গে একটা বো-টাই বাঁধলেও তাতে নিষেধ ছিল না স্কুল কর্তৃপক্ষের।

আমাদের দেশে বেশির ভাগ স্কুলে সাদা শার্টের সঙ্গে কালো বা নেভি ব্লু প্যান্টের প্রচলন থাকলেও এখনকার ইউরোপের অনেক স্কুলেই ইউনিফর্মে এসেছে বৈচিত্র্য। সেখানকার অনেক স্কুলে ঋতুভেদে ইউনিফর্মে আসে পরিবর্তন। কখনো টি-শার্ট বা পোলো শার্ট তো আবার কখনো মোটা কাপড়ের ব্লেজার ও টাই। কিছু স্কুলে আবার নকশা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে পরে যেতে হবে এক রঙের জামা। ইংল্যান্ডে ২০১৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী ইউনিফর্মের ক্ষেত্রে ঐতিহ্য বজায় রাখতেই বেশি পছন্দ করে।

ইউনিফর্মের ইতিহাসে বেশ পিছিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯০০ সালের দিকে দেশটির কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন স্কুলে ইউনিফর্ম পরার প্রচলন চালু হলেও সরকারিভাবে শিক্ষার্থীদের গায়ে ইউনিফর্ম চাপাতে হয়েছে ১৯৮০ সালের পর থেকে। দেশটির মেরিল্যান্ড ও ওয়াশিংটন ডিসির স্কুলগুলোতে প্রথম ইউনিফর্ম চালু হয়।

তবে ইউনিফর্মের যে সুফল আছে, সেটা বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত। ওই বছর ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু স্কুলে ইউনিফর্ম-সংক্রান্ত জরিপের ফল দেখে স্কুলগুলো এই বিশেষ পোশাকের ওপর জোর দেওয়া শুরু করে। ওই সময় করা জরিপে দেখা যায়, ইউনিফর্মের কারণে শিক্ষার্থীদের প্রচলিত কিছু অপরাধ কমে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। এর পরও অবশ্য ইউনিফর্মটা যুক্তরাষ্ট্রে দেশজুড়ে চালু হতে পারেনি। ২০১১ সালে গবেষণা সংস্থা পিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৯ শতাংশ সরকারি স্কুলে ইউনিফর্ম পরে আসা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের দেখাদেখি ইউরোপের আরো অনেক দেশই ইউনিফর্ম চালু করে। ১৯২০ সালের দিকে অস্ট্রেলিয়ার স্কুলে শিশুরা ইউনিফর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছিল একটা ক্যাপ আর শর্ট প্যান্ট। মজার বিষয় হলো, তাদের ইউনিফর্মে জুতা ছিল না। কারো মন চাইলে খালি পায়েও ক্লাসে যেতে পারত। এশিয়ায় ইউনিফর্মে এগিয়ে আছে চীন। দেশটিকে স্কুলের ইউনিফর্ম নিয়ে অনেক সমালোচনাও শুনতে হয়েছিল। কারণ তাদের স্কুলড্রেসে ছেলে-মেয়ের আলাদা পোশাক ছিল না। আবার সেটা ছিল কোরিয়ার ফ্যাশন দ্বারা অনুপ্রাণিত। অন্যদিকে জাপানি ইউনিফর্ম ছিল তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের অনুসরণে তৈরি। এ কাজে তারা ইউরোপের কাছ থেকে কিছুই ধার করেনি। ভারতীয় উপমহাদেশে তো ব্রিটিশ শাসনামলের পর থেকে মোটামুটি একই ধরনের স্কুলড্রেস পরতে দেখা যাচ্ছে এখনো।

 


খবরটি ইউনিকোড থেকে বাংলা বিজয় ফন্টে কনভার্ট করা যাবে কালের কণ্ঠ Bangla Converter দিয়ে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা