kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

লিডোর পিস হোম

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লিডোর পিস হোম

পিস হোমের কাছেই খেলায় ব্যস্ত শিশুরা

লিডো রাস্তায় থাকা অসহায় শিশুদের উদ্ধার করে। এ কাজ খুব সহজ নয়। তবে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তারা শিশুদের কাছে পৌঁছতে সক্ষম হয়। বাচ্চারা সহজেই বলতে চায় না ঠিকানা। তখন তাদের আচার-আচরণ, মুখের ভাষা থেকে অনুমান করে নেয় কোথায় হতে পারে তার দেশ। দীর্ঘ কয়েক বছরে প্রায় ৮০০-১০০০ শিশু উদ্ধার করে কাউকে ফেরত পাঠিয়েছে, আবার অনেককে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য উপযোগী তাদের নিজস্ব একটি জায়গাও তৈরি করেছে, যার নাম ‘পিস হোম’।

ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের ওয়াশপুরে লিডোর পিস হোমের অবস্থান। দরদি মানুষের আর্থিক সহায়তা আর আন্তরিকতায় পিস হোমটি পরিচালিত হয়।  এখানে ৫২ জন বাচ্চা নিজেদের পরিবারের দুঃখ ভুলে আপন করে নিয়েছে পিস হোমকে। ৫২ বাচ্চার মধ্যে ২০ জন বিশেষ শিশু। বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়ে এখানে একত্রে ভাই-বোন সম্পর্ককে জড়িয়ে রাখছে। ওরা নিজেদের মতো স্কুলে যায়-আসে। কিশোর বয়সীরা আবার দেখাশোনা করে শিশুদের।

একটি দোতলা বাড়ি। ঢাকার বাসাবাড়ির মতো নয়। সুন্দর ও খোলামেলা। গেট দিয়ে ঢুকতেই গাছপালা, রঙিন পাথর ছড়ানো আর মূল বাড়ির সামনে বাঁশের তৈরি একটি দ্বিতল অপূর্ব স্থাপনা। ওপরের তলায় বাচ্চারা গল্প করে, গান গায় কখনো বা নাচে। নিচতলায় একটু মঞ্চের মতো জায়গায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন হয়।  নিচতলায়ই তাদের থাকা ও খাওয়াদাওয়ার জায়গা। ওপরতলায় পাঠাগার আর ক্লাসরুমও আছে। স্বেচ্ছাসেবক আবু জাবের সিদ্দিক জানান, ‘পুরো ভবনটি বাচ্চাদের মনের মতো করে বানানো হয়েছে। তারা যেমন চেয়েছে, ঠিক সেভাবেই নির্মিত পিস হোম।’ স্কুল করে এসেও শিশুরা ফের পড়াশোনা করে এখানকার শিক্ষকদের কাছে। ইংরেজি শিক্ষক রাদিয়া কাশেম জানান, তিনি পড়ানোর পাশাপাশি ছবি আঁকার দিকটাও দেখছেন। ‘তিন মাস হলো আমি এখানে আছি। বাচ্চারা দারুণ ট্যালেন্ট। দু-একজন একটু দুর্বল। কিন্তু তাদের শেখার ইচ্ছায় কোনো কমতি নেই।’ বললেন তিনি।

পিস হোমে প্রতিটি শিশুর জন্য একজন বাবা ও মা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছেন নিজের সন্তানের মতোই। মায়ের আদর, বাবার শাসন দুই-ই রয়েছে বাচ্চাদের জন্য। লিডোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য এটি। লিডোর প্রধান ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বাচ্চাদের সব সুবিধা দেওয়ার সর্বোত্তম চেষ্টা করেছি। যতখানি সম্ভব মা-বাবার অভাব ঘোচানোর চেষ্টাও করি।’

এক বিদেশি বন্ধুর কথায় এবং বিবেকের তাড়নায় ফরহাদ হোসেন শিশুদের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করেন। ছাত্রজীবনেই শুরু করেন ‘স্কুল আন্ডার দ্য স্কাই’। পড়ানোর পাশাপাশি শুরু করেন শিশু উদ্ধারের কাজ। আস্তে আস্তে স্বপ্ন বাড়তে থাকে, বেড়ে উঠতে থাকে লিডো। আর আজকের সেই লিডোর শিশুরা এখন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে।

মন্তব্য