kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

বিলাত যাচ্ছে পথশিশুর দল

স্ট্রিট চাইল্ড ইউনাইটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে পথশিশুদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। স্ট্রিট চাইল্ড ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ টুর্নামেন্ট ২০১৯ হবে ইংল্যান্ডের লর্ডসে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করবে আট শিশুর একটি দল। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আফরা নাওমী

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিলাত যাচ্ছে পথশিশুর দল

পাসপোর্ট হাতে স্ট্রিট চাইল্ড ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে লিডোর আট শিশু

দূরের পথ। বাস, রিকশা এবং অবশেষে হেঁটে পৌঁছতে পারলাম গন্তব্যে। পেরেশান হয়ে যখন আঙিনার সামনে, তখন পাশেই দেখি লাল-সবুজ জার্সি পরে ১২ থেকে ১৫ বছরের কয়েকজন শিশু ক্রিকেট খেলছে। মাঝেমধ্যে খুব মনোযোগ দিয়ে কথা শুনছে কোচের। আবার খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। খুব প্রাণবন্ত। দেখে আমার ক্লান্তি দূর হয়ে গেল নিমেষেই।

বলছিলাম লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (লিডো) কয়েকজন শিশুর কথা। যারা শিগগিরই লন্ডন পাড়ি দেবে, অংশ নেবে লর্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পথশিশুদের ওয়ার্ল্ডকাপে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ডসহ মোট ১০টি দেশের ৮০ জন ছেলে-মেয়ে অংশ নিচ্ছে এই বিশ্বকাপে। পথশিশুরাও যেন আর সব শিশুর মতোই সুযোগ-সুবিধা পায়, সে জন্য বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নিয়ে থাকে স্ট্রিট চাইল্ড ইউনাইটেড নামের সংস্থাটি। এবারই প্রথম আয়োজন করতে যাচ্ছে স্ট্রিট চাইল্ড ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ টুর্নামেন্ট। এর আগে অবশ্য সংগঠনটি পথশিশুদের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করে। 

গত বছরের শুরুতে লিডো এই আয়োজনের খবর পায়। তারপর মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয় কাগজপত্র বিনিময় এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। অক্টোবরে বিসিবির অনুমতি পায়। তারপর শিশু নির্বাচন। তবে জটিলতা বাধে পাসপোর্ট নিয়ে। কারণ পাসপোর্ট করতে অভিভাবকের পরিচয় দরকার পড়ে। আদালতে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না লিডোর। আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে লিডো শিশুদের অভিভাবক হতে পারছিল না। এতে অনেক সময় চলে গেল। শেষে মিলেছে পাসপোর্ট। ২৭ মার্চ থেকে বিসিবির অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিভিশনাল কোচ রায়হান গাফফার সাইমনের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই উড়াল দেবে পথশিশুর দল। এপ্রিলের ৩০ থেকে ৮ মে পর্যন্ত চলবে খেলা। নির্বাচিত শিশুরা হলো—আরজু রহমান, জেসমিন আক্তার, স্বপ্না আক্তার, সানিয়া মির্জা, রাসেল ইসলাম, আবুল কাশেম, নিজাম হোসেন ও মোহাম্মদ রুবেল।

লিডোর শিশুরা লুডু, দাবা, ছোঁয়াছুঁয়ি, ফুটবল, ক্রিকেট—সব খেলাই খেলে। তবে এখন মেতে আছে ক্রিকেট নিয়ে। লর্ডসে খেলবে বলে কথা! তাদের থাকার জায়গার কাছেই একটু খালি জায়গা আছে। সেখানেই দিনভর ছোটাছুটি। মাঝেমধ্যে আশপাশের মাঠেও খেলে। ‘কখনো ছেলে-মেয়ে আলাদা দল করে, কখনো বা মিলেমিশে দল করে খেলেছি আমরা বিকেলে।’ বলে সানিয়া মির্জা। ব্যাট-বল এবং আর সব কিছু পর্যাপ্ত না থাকলেও খেলায় তারা বিরতি দেয় না। রাসেল যেমন বলল, ‘আমরা ইট দিয়ে স্টাম্প বানিয়েছি, কখনো বা জাম্বুরা দিয়ে বল বানিয়ে খেলেছি।’

টিভিতে খেলা দেখাতেও পিছিয়ে নেই তারা। বাংলাদেশের খেলা চললে তো কথাই নেই। যে যার কাজ বাদ দিয়ে খেলা দেখতে বসে। যেদিন জিতে যায়, সেদিন যেমন আনন্দের শেষ থাকে না, তেমনি হেরে যাওয়ার দিনগুলোতেও ওদের কান্না যেন থামে না। একেকজনের একেক খেলোয়াড় প্রিয়। যেমন—আরজুর পছন্দ তাসকিন, জেসমিন আর স্বপ্নার প্রিয় অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। রুবেল পছন্দ করে রুবেলকেই। আবুল কাশেমের পছন্দের তালিকার এক নম্বরে মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের পর ভারত আর শ্রীলঙ্কা তাদের প্রিয় ক্রিকেট টিম। জেসমিন বলে, ‘যখন জানতে পারলাম, আমরা নির্বাচিত হয়েছি লর্ডসে খেলার জন্য—খুশির সীমা ছিল না। অন্যদিকে স্বপ্না বলে, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে আমরা পারব।’

এই শিশুদের যাত্রাই শুরু হলো লর্ডস দিয়ে। তাই তারা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করতেই পারে। সেখানে গিয়ে খেলার সঙ্গে সঙ্গে অংশ নেবে  নাচ-গানের প্রতিযোগিতায়। এরই মধ্যে রিহার্সাল চলছে। তারা নিজেরাই গান লিখেছে, সুর করেছে। নাটকের রিহার্সাল শুরু করবে জলদিই। তারা বলে, ‘আমরা একসঙ্গে থাকলে সবই সম্ভব। আমরা পারি না এমন কিছু নেই।’

মন্তব্য