kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

দেশের প্রথম রিমোট সেনসিং ইনস্টিটিউট

যেমন চলছে

আবু নাঈম তরুণ   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেমন চলছে

সেমিনার শেষে ‘রিমোট সেনসিং ইনস্টিটিউট’-এর শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষকরা

ক্লাস শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থী আলাপ করছেন, ‘স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের (জিআইএস) ব্যবহারের চল যদি আগে থাকত, তাহলে নদীভাঙনের আশঙ্কায় থাকা অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। মানুষকে ছাড়তে হতো না ভিটামাটি, বিনাশ হতো না ফসলের ক্ষেত।’ এই শিক্ষার্থীরা ‘ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেনসিং’য়ের স্বল্পকালীন কোর্সে পড়েন। মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’র রক্ষণাবেক্ষণ এবং এসংক্রান্ত গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইনস্টিটিউটটি।

সদ্যঃস্বাধীন দেশে দুর্যোগের পূর্বাভাস, কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া চিত্রের মাধ্যমে ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ এবং বায়ুমণ্ডলীয় গবেষণার উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালে মহাকাশ ও বায়ুমণ্ডলীয় গবেষণাকেন্দ্র ‘স্পেস অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক রিসার্চ সেন্টার’ (এসএআরসি) প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। পরে অটোমেটিক পিকচার ট্রান্সমিশন গ্রাউন্ড স্টেশনটিকে এর আওতায় আনা হয়। ভূমিসম্পদ পর্যবেক্ষণে সক্ষম কৃত্রিম উপগ্রহ আবিষ্কারের পর ১৯৭৩ সালে গ্রহণ করা হয় ‘আর্থ রিসোর্স টেকনোলজি স্যাটেলাইট’ কর্মসূচি। ১৯৮০ সালে ‘বাংলাদেশ ল্যান্ডসেট প্রগ্রাম’ নাম দিয়ে এসএআরসির সঙ্গে একত্রিত রূপে গঠিত হয় ‘স্পারসো’। প্রতিষ্ঠার পরপরই ‘স্পারসো’র রক্ষণাবেক্ষণ, এসংক্রান্ত গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেনসিং’ যাত্রা শুরু করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এটি দীর্ঘদিন পূর্ণোদ্যমে কাজ করতে পারেনি। ইনস্টিটিউটটিকে ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের ৩০১তম সিন্ডিকেটসভায় নতুনভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো রেজিস্ট্রার ভবনের নিচতলায় একটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিসকক্ষ নিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম। অনুমোদন পেলেই একাডেমিক প্রগ্রাম (এমএসসি, এমফিল, পিএইচডি), গবেষণাকর্ম, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রকাশনা ইত্যাদি ছাড়াও স্নাতকোত্তর ও উচ্চতর ডিগ্রি দেওয়া যাবে। এখন অনানুষ্ঠানিকভাবে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস), রিমোট সেনসিং (আরএস), জিপিএস অ্যান্ড জিএনএসএস এবং ড্রোন টেকনোলজি—এই চারটি স্বল্পকালীন কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৪টি কোর্স করানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক শেখ তৌহিদুল ইসলাম এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে মুনির মাহমুদ দায়িত্ব পালন করছেন।

নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইনস্টিটিউটটি ২০১৭ সালে আমেরিকার মহাকাশবিষয়ক সংস্থা ‘নাসা’ ও নেপালের ‘আইসিআইএমওডি’র সহযোগিতায় পাঁচ দিনব্যাপী গুগল আর্থ ইঞ্জিনের ওপর আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণসহ ১৮টি প্রশিক্ষণ ও জিওস্পেসিয়াল অ্যাপলিকেশন ইন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন সম্পন্ন করেছে। গত বছর এটির অধীনে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের ‘অ্যাপলিকেশন অন জিআইএস ও রিমোট সেনসিং ইন মিলিটারি নেভিগেশন ও ম্যাপিং’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

রিমোট সেনসিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ইনস্টিটিউট গত দেড় বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভূমিধসের কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণ, হাওর অঞ্চলের বন্যার স্থানিক বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস নিরূপণ, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতার স্থানিক ও সামাজিক বিশ্লেষণের ওপর গবেষণা, বাংলাদেশের তাপমাত্রা বিশ্লেষণ, বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমুদ্রের তাপমাত্রা, পূর্বাভাস নিরূপণসহ বেশ কিছু গবেষণামূলক কাজ করেছে। অধ্যাপক শেখ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা, মাস্টারপ্ল্যান তৈরি, টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভূ-উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্যের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে কাজ করছে ইনস্টিটিউটটি।’

 

মন্তব্য