kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

ক্যাম্পাস টিপস

ধাপে ধাপে রচনা

গরুর রচনা হোক আর ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের অর্থনীতি নিয়ে থিসিস; লিখতে হয় কত্ত কিছু নিয়ে। সুন্দর করে গুছিয়ে একটা বিষয়কে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরাটাও একটা শিল্প। আর এই শিল্পগুণটা আয়ত্ত করারও আছে কাজের কিছু টিপস। ফাস্ট ওয়েব ডটকম থেকে জানাচ্ছেন ফয়সল আবদুল্লাহ

১০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধাপে ধাপে রচনা

টপিক কী?

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তো টপিক দেওয়াই থাকবে। কিন্তু নিজে নিজে টপিক বের করে লেখারও একটা আনন্দ আছে। লেখকদের কথাই ধরো না। তাঁদেরকে তো কেউ এসে গল্পের আইডিয়া দিয়ে যায় না। আবার বড় বড় থিসিস লেখিয়ে যাঁরা, তাঁরাও কিন্তু নিজে ভেবে বের করেন বিষয়বস্তু। এ ক্ষেত্রে যদি তোমাকে বলা হয় এমন একটি বিষয়ে লেখার জন্য, যেটা অন্যের শেখার ক্ষেত্রে কাজে আসবে, তবে এমন টপিক বেছে নাও, যা তুমি আগে থেকেই ভালো করে জানো বা জানার সুযোগ আছে। কোনো বিষয়ে এসে লেখার জন্য ঢালাওভাবে একটা বড় পরিসরের টপিক বাছাই করতে যেয়ো না। টপিকের ভেতরে থাকা ছোটখাটো আরো অনেক বিষয় থাকতে পারে, বেছে নাও ওই ছোট বিষয়টাকেই। যেমন বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক বড় একটা বিষয়, তুমি এটা বেছে না নিয়ে নিতে পারো ‘কৃষিতে ভর্তুকি যেভাবে আমাদের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে’।

 

আইডিয়ার আউটলাইন

মাথায় কতই না তথ্য, কতই না আইডিয়া গিজগিজ করে। মগজ থেকে কাগজে নিয়ে যাওয়াটাই হলো কঠিন কাজগুলোর একটি। তবে এ কাজটা সহজে করার একটা ট্রিক আছে। মূল টপিকটাকে একটা সাদা কাগজের মাঝে গোল বাকশোর মধ্যে লিখে নাও। সেই গোল বাকশো থেকে টেনে বের করো অনেকগুলো হাত-পা। সেই হাত-পা তথা লাইনগুলোর শেষে লিখে নাও ওই বিষয়ের ওপর তোমার যা যা জানা আছে সেসব। সাহায্য নাও ইন্টারনেটের। নকল না করে নিজের মতো করে যোগ করতে থাকো। মনে মনে একগাদা প্রশ্ন বানাও। মূল টপিকের হাত-পায়ের ভেতর সেই প্রশ্নগুলো বসিয়ে দাও। দেখবে মূল আইডিয়াটা ডাল-পালা গজিয়ে একটা বৃক্ষ হয়ে গেছে। অনেক গল্পকারও কিন্তু এভাবে গল্প লেখে। তবে গল্প না লিখলেও তোমার সৃজনশীল রচনায় কিন্তু এমন ডায়াগ্রাম বেশ কাজে আসবে। এ ক্ষেত্রে মূল টপিকের হাত-পা হিসেবে খুব বেশি বাড়তি টপিক না এনে প্রথমত, বড় বড় মজার বিষয়গুলোকেই হাইলাইট করো। পরে দেখা যাবে, ওই সাব-টপিকের ভেতর থেকেই আবার গজাতে শুরু করবে আরো অনেক বিষয়বস্তু।

 

লেখা হোক শুরু

অ্যাসাইনমেন্ট, থিসিস বা রচনা যে নামেই ডাকো না কেন, কোনো বিষয়ে লেখা মানেই তার একটা উদ্দেশ্য আছে। এই উদ্দেশ্যটা লিখে ফেলাকে ইংরেজিতে বলে স্টেটমেন্ট। বাংলা করলে দাঁড়াবে বিবরণ বা বিবৃতি। তবে এই বিবৃতি মানেই সব নয়। এর দুটি অংশ আছে। প্রথম ভাগটা হলো তোমার মূল আইডিয়া, পরেরটা হলো আইডিয়ার মূল পয়েন্ট। ধরো, তোমার আইডিয়া হলো স্কুলজীবন। তো এর মূল পয়েন্টটা হতে পারে স্কুলজীবনে আমার যত দুষ্টুমি ও শিক্ষা।

 

রচনার আপাদমস্তক

আউটলাইন আর টপিক হলো কঙ্কাল। এবার রক্ত-মাংস বসানোর পালা। মানে তৈরি করতে হবে বডি। শুরুতেই একটা সূচনাবাক্য ভেবে নাও। ওই সূচনাবাক্যের সঙ্গে সংগতি রেখেই লিখতে হবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বাক্য। এরপর চলে যাও দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফে। তবে সেটাও প্রথম প্যারাগ্রাফের সঙ্গে সংগতি রেখে।

যেমন এই প্যারাগ্রাফটার কথাই ধরো। প্রথম প্যারাগ্রাফটার পর এই প্যারাগ্রাফটাকে কি খুব অপ্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে? এটাকে বলে প্যারায় প্যারায় সম্পর্ক।

এভাবে প্রতিটি প্যারাগ্রাফের মধ্যে একটা সম্পর্ক থাকলেই দেখবে, তোমার রচনা তথ্যসমৃদ্ধ হোক না হোক, সুখপাঠ্য হবেই।

সূচনার ক্ষেত্রে একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবে। শুরুটা যেন গতানুগতিক না হয়। চেষ্টা করবে, সেটা কোনো একটা সংলাপ, উক্তি, চটকদার কোনো তথ্য দিয়ে যেন আরম্ভ হয়। এর জন্য তোমাকে জানতে হবে বাড়তি কিছু বিষয়। যেমন—তোমার বিষয় যদি হয় ‘সাঁতার’। তখন এটা শুরু করতে পারো একটা ভয়ানক পরিসংখ্যান দিয়ে এভাবে— ‘সাঁতার না জানার কারণে দেশে প্রতিবছর ১৭ হাজার শিশু মারা যায়।’

সব শেষে উপসংহার। যেকোনো লেখার সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ এটা। পাঁচ-সাত লাইনের বেশি না হওয়াই ভালো। তবে অহেতুক কোনো লাইন এতে যেন না ঢোকে। উপসংহারে থাকতে পারে তোমার কোনো যৌক্তিক পরামর্শ। পুরো টপিকটা কী নিয়ে এবং কেন লিখলে, সেটাও থাকতে পারে এ অংশে। থাকতে পারে মূল পয়েন্টগুলোর রিভিউ।

উপসংহারের পরও একটা চূড়ান্ত কিছু থাকতে পারে। সেখানেও তোমার মুনশিয়ানা দেখানোর বিষয় আছে। জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাসগুলো উল্টেপাল্টে দেখো। শেষ লাইনে কিন্তু যেমনই হোক, একটা না একটা চমক থাকেই।

 

মন্তব্য