kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

একটা হেলমেট হবে প্লিজ?

মশিউর রহমান। পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক তৃতীয় বর্ষে। বনানীর অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার অভিযানে তাঁর অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা শুনিয়েছেন আদীব আরিফকে

৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটা হেলমেট হবে প্লিজ?

মশিউর রহমান

তখন দুপুর পৌনে একটা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনে বন্ধুদের সঙ্গে বসে ছিলাম। অগ্নিকাণ্ডের খবরটি পেলাম ফেসবুক লাইভে। ততক্ষণে অন্যান্য গণমাধ্যমেও আগুনের ভয়াবহ রূপের খবর ও ছবি এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুদের বললাম, ‘আমাদের ওখানে যাওয়া উচিত, যদি কোনো কাজে আসতে পারি।’ আবু হানিফ, সাব্বির, আল আমিন, তারেকসহ সাত-আটজন বন্ধু বনানীর উদ্দেশে দুটি সিএনজি-অটোরিকশায় রওনা দিলাম। পৌঁছতে পৌঁছতে দুপুর আড়াইটা। চারপাশে অগণিত মানুষের ভিড় দেখে চমকে গেলাম। এই মানুষগুলোর বেশির ভাগই হয় ছবি তুলছেন, নয়তো ফেসবুক লাইভ দেওয়ায় ব্যস্ত! আমরা সোজা এগিয়ে গেলাম ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দিকে। তাঁদের সঙ্গে পানির পাইপ এগিয়ে নেওয়ার কাজে হাত লাগালাম। আর ভবনের মধ্য থেকে হতাহত কাউকে বের করে নিয়ে আসার সময়ও যতটুকু সম্ভব কাঁধে কাঁধ রাখলাম।

এভাবে টানা দেড় ঘণ্টা কাজ করার পর ভবনের ভেতরে ঢুকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে কাজ করার মতো লোকের স্বল্পতা চোখে পড়ল। ভবনের সামনের রাস্তায় আমাদের মতো ততক্ষণে অনেকেই কাজ করছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী। ভাবলাম, জীবনের ঝুঁকি হলেও এবার আমার ভেতরে ঢোকা দরকার। নিজের মোবাইল ফোনটি বন্ধু সাব্বিরের কাছে রেখে, ঢুকে গেলাম ভবনের নিচতলায়। নিকষ অন্ধকার সেখানে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এক মুহূর্তও টিকে থাকা যেন অসম্ভব। তবু ভেতরটা দেখতে চাই আমি, যদি একটা প্রাণও বাঁচানো যায়! মাথায় হেলমেট নেই বলে আমাকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অবশ্য শুরুতে উঠতে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না, তবু তাঁদের সঙ্গে উঠে গেলাম সপ্তমতলায়। সেখানকার রুমগুলো ভীষণ অন্ধকার। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আলোর অভাবে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে। যে করেই হোক, আলো চাই। তাই একা একা নেমে এলাম নিচে, টর্চের সন্ধানে। ভবনের নিচে এসে টর্চের সন্ধানে সবার কাছে মিনতি করলাম, কেউ দিতে পারলেন না। তখন ভবনের সামনে যাঁরা জড়ো হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকের মাথায়ই হেলমেট ছিল। এবার তাঁদের কাছে হেলমেট ধার চাইলাম আবার ওপরে ওঠার জন্য। কিন্তু কেউ দিল না! অসহায় হয়ে আবার যখন ওপরে উঠতে যাব, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এবার আর হেলমেট ছাড়া উঠতে দিলেন না। তাই ভবন থেকে বেরিয়ে, সামনের রাস্তায় নানা রকম সাহায্যের কাজে আবারও শামিল হলাম।

পাইপের পানিতে পুরো শরীর ভিজে গিয়েছিল। এ অবস্থায়ই রাত আটটা পর্যন্ত কাজ করেছি। এরপর ক্লান্ত শরীর এবং একই সঙ্গে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে বাসায় ফিরেছি।

মন্তব্য