kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

অগ্নি দুর্যোগ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো কোর্স নেই

মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া
প্রভাষক, ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অগ্নি দুর্যোগ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো কোর্স নেই

অগ্নি দুর্যোগ নিয়ে আমাদের এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ কোর্স নেই। তবে প্রতি দুর্যোগগুলোকে আমরা কয়েকটি ভাগ করি। ওই ভাগে আগুন থেকে বাঁচার উপায়ও শেখানো হয়। আমরা দুর্যোগ বিষয়ে চারটা ভাগে পড়াই—প্রস্তুতি, সাড়া দান, প্রশমন ও পুনর্বাসন। কেমন করে দুর্যোগ মোকাবেলা করা যায়, সেই বিবরণ থাকে ‘প্রস্তুতি’ পর্বে। আমরা শেখাই, প্রতিটি দালান নিয়ম মেনে তৈরি করতে হবে। দালানের ভেতর পর্যাপ্ত পরিসর থাকতে হবে। আগুন নির্বাপক থাকতে হবে। অবস্থানকারী সবাইকে দুর্যোগকালীন কার্যক্রম শেখাতে হবে।

অন্যদিকে কেমন করে দুর্যোগে সাড়া দিতে হয়—সেই বিবরণ থাকে ‘সাড়া দান’ পর্বে। এ ক্ষেত্রে একটা মিডিয়া ডেস্ক থাকবে। সেই ডেস্ক থেকে সার্বক্ষণিক সংবাদ দিতে হবে। এমনটা না করলে মিডিয়ার গাড়িই ঘটনাস্থলে জ্যাম বাঁধিয়ে দিয়ে উদ্ধারকাজ ব্যাহত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুর্যোগস্থল ঘিরে একটা সার্কেল করে দেওয়া হবে, যেন তার ভেতর আর কেউ আসতে না পারে। জনবল কম থাকলে উপস্থিত জনতার ভেতর থেকে আগ্রহী ও সক্ষমদের কাজ করার মতো যোগ্য করে তুলতে হবে। আর থাকবে একটা মেডিক্যাল চেকপোস্ট, যেন আহতদের অবস্থা সেখানেই প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করে দেখে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করানো যায়।

‘প্রশমন’ পর্বে আমরা ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় অগ্নিনির্বাপণ শেখাই। গত কোর্সেও মেজর শাকিল এসে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে আগুন নেভানোর উপায় শিখিয়ে গেছেন।

এমন দুর্যোগের শিকার হয়ে যাঁরা বেঁচে থাকেন, তাঁদের অনেককেই সারা জীবন এর ক্ষত বয়ে বেড়াতে হয়। তাই ‘পুনর্বাসন’ পর্বে আমরা আগুন কিংবা অন্যান্য দুর্যোগে ভুক্তভোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার উপায় শেখাই। আমি মনে করি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), রোভার স্কাউট—এদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত, যেন দুর্যোগে এরা হাল ধরতে পারে। তা ছাড়া যত নাগরিক স্বেচ্ছাসেবী আছেন, তাঁদেরও এগিয়ে আসা উচিত। অবশ্য তাঁরা এগিয়ে আসছেনও। এই মানসিকতা অব্যাহত থাকলে আমাদের একাডেমিক পড়াশোনার সুফল পাওয়া যাবে।

 

শ্রুতলিখন : মীর হুযাইফা

মন্তব্য