kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

টিফিন আওয়ার

সাতজনের স্কুল

দুর্গম দ্বীপ আলভা। আর এই দ্বীপের একমাত্র স্কুলটির খবর জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

৯ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সাতজনের স্কুল

দ্বীপের একমাত্র স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কবল থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করল দুই ছাত্র—লিও আর চায়েস রাইট, বয়স সবে পাঁচ। তারা এসে পড়াতেই ছাত্রসংকটটা কিছুটা হলেও দূর হলো কিনা!

ভাবছ, দুইজন ছাত্রেই পুষিয়ে যাচ্ছে, এ কেমন স্কুল? হ্যাঁ, এমন স্কুল সত্যিই আছে। অবশ্য এই দুইজন ছাড়া স্কুলে আগে থেকে আরো পাঁচ ছাত্র-ছাত্রী ছিল। অর্থাৎ স্কটল্যান্ডের মাল দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আলভা দ্বীপের ‘আলভা প্রাইমারি স্কুল’-এর মোট ছাত্রসংখ্যা এখন সাত। এই দুই নতুন শিক্ষার্থী দ্বীপে নতুন বসতি গাড়া দুটি পরিবারের। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও দ্বীপেরই বাসিন্দা। অবশ্য ছাত্র-ছাত্রীদের কয়েকজন অভিভাবকও বিদ্যালয়ের কাজে সাহায্য করেন।

স্কুলে ঘর আছে দুটি। একটায় খাওয়াদাওয়া আর খেলার ব্যবস্থা, আরেকটায় পড়াশোনা। স্কুলের সীমানায় ছোটখাটো বাগানও আছে। প্রায় ৩০ বছর আগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বিদ্যালয়টি। আশপাশের চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্য জায়গাটিকে ভীষণ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা একটু ব্যাখ্যা করি। বেশ কয়েক বছর ধরেই ব্রিটিশ সরকার এই স্কুলখানা তুলে দেওয়ার কথা ভাবছিল। তবে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় আশা করা যায়, তারা নতুনভাবে ভাববে বিদ্যালয়টি নিয়ে। ছোট্ট এই দ্বীপের বেশির ভাগ বাসিন্দাই পাশের বৃহত্তর মাল দ্বীপ থেকে এসেছেন। তাঁদের অনেকেই অবসরপ্রাপ্ত। কাজেই দ্বীপে বাচ্চাকাচ্চাদের সংখ্যা বরাবরই কম।

তবে আলভা প্রাইমারি স্কুলের নির্জনতার দিন বোধ হয় এবার ফুরোল। দ্বীপের বাসিন্দারা ছোটখাটো কটেজ বানিয়ে ভাড়া দিতে শুরু করেছেন। তাঁদের পছন্দের ভাড়াটেরা হচ্ছেন অল্পবয়সী দম্পতি। কারণটা কী বলুন দেখি? দ্বীপের সবাই চান তাদের এখানে বাচ্চারা আরো আসুক। এমন সুন্দর পরিবেশে বড় হলে তারা ভালো মানুষ হিসেবে বড় হবে—এমনটাই সবার চাওয়া। আর এতে স্কুলের ছাত্রসংখ্যাও বাড়বে। জানা গেছে, সামনের দুই বছর এই পরিবারগুলো থেকে আরো চারজন ছাত্র যোগ দেওয়ার কথা স্কুলে। এই খুশিতে সবাই ডগমগ।

মন্তব্য