kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

আমরা ধূমপান, মাদক, নকল ও জঙ্গিবাদমুক্ত

অধ্যাপক মো. আবু সালেহ, উপাচার্য, বিইউবিটি

৯ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমরা ধূমপান, মাদক, নকল ও জঙ্গিবাদমুক্ত

বিইউবিটির বিশেষত্ব?

 

একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের মান তিনটি বিষয় দ্বারা নির্ধারিত হয়ে থাকে। সেদিকে লক্ষ রেখে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছি। প্রথমত, ভালো শিক্ষার জন্য কোর্সের উন্নতি করছি। আমাদের প্রতিটি বিষয়ের কোর্স সময়োপযোগী ও যুগের চাহিদা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে, যাতে সব শিক্ষার্থী তাদের কর্মজীবনে দেশ ও জাতির সেবা করতে পারে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়ন, উন্নত ল্যাব সুবিধাসহ সঠিক শিক্ষাপদ্ধতি পরিচালনা করা। তৃতীয়ত, ভালো শিক্ষার জন্য ভালো ও নিরিবিলি পরিবেশ নিশ্চিত করা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি বিষয়ই বাস্তবায়ন করা হয়।

শিক্ষকদের মান কিভাবে নির্ধারণ করা হয়?

আমাদের প্রতিটি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয়। আমরা একাডেমিক যোগ্যতা ও অর্জন নিশ্চিত হয়ে তাঁদের নিয়োগ দিই। প্রত্যেক শিক্ষককে যোগদানের পর ফলপ্রসূ শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ দিই। আমরা গবেষণা খাতে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের বিইউবিটি রিসার্চ সেন্টার আছে। সেটির ভূমিকা খুব উল্লেখযোগ্য। নতুন শিক্ষকরা নিয়োগ লাভের পর এই সেন্টারের মাধ্যমে গবেষণার ক্ষেত্রে ইনটেনসিভ ট্রেনিং লাভ করেন। তাঁদের সবাইকে এক বছরের মধ্যে ‘রিসার্চ প্রজেক্ট’ও সম্পন্ন করতে হয়। সেসব গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য আমরা বিইউবিটি জার্নাল প্রকাশ করি। এ ছাড়া তাঁদের আরো নানা ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্যতর করে গড়ে তুলি।

শিক্ষার্থীদের গুণগতমান কিভাবে নিশ্চিত করেন?

আমাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি অংশগ্রহণমূলক। তাতে বাস্তবজীবনের উদাহরণ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বোঝানো হয়। প্রথাগত শিক্ষাদান পদ্ধতি শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে এখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কর্মশালা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামসহ নানা ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আরো কর্মোপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। প্রতিটি কোর্সে উন্নত ও মানসম্পন্ন ল্যাবের মাধ্যমে ব্যাবহারিক বিষয়গুলোও ভালোভাবে শেখানো হয়। বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে বিইউবিটির ছাত্র-ছাত্রীরা যেন দেশীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে পারে, জ্ঞান, নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা—প্রতিটি বিষয়েই যোগ্য হয়ে ওঠে, বাস্তবজীবনে তারা যাতে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে; সে জন্য আমাদের পক্ষ থেকে তাদের এভাবে গড়ে তোলা হয়। আমাদের ক্যারিয়ার গাইডেন্স অফিসের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সঠিক ধারণা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গঠন ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, দেশপ্রেম, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে আমাদের নানা পদক্ষেপ রয়েছে। তাদের মধ্যে যাতে দেশপ্রেম জাগ্রত হয় সে জন্য যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলো পালন করি। এসব অনুষ্ঠানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমরা ধূমপান, মাদক, নকল ও জঙ্গিবাদমুক্ত। ধর্মবিদ্বেষ সহ্য করি না। সর্বোপরি এখানে সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুবর্তিতা ও সুষ্ঠু পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।

ফলপ্রসূ শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ককে কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

কার্যকর শিক্ষা প্রদানের জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত একজনের বিপরীতে ২৯ জন। এত কম অনুপাত থাকায় প্রত্যেক শিক্ষক তাঁর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি সমান মনোযোগ দিতে পারেন। এটি আমরা পরিকল্পনা করেই করেছি। আমিসহ যেকোনো শিক্ষকের কাছে যেকোনো শিক্ষার্থী যেকোনো সময় তার সমস্যার কথা খুলে বলতে আসতে পারে। আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে শিক্ষার মান নিশ্চিত করছি।

দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকেই তো এসব করছেন?

দীর্ঘদিন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছি, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছি। সেসব উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া, গবেষণা, পরীক্ষাপদ্ধতি, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি, তা বিইউবিটিতে দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে পারছি। সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিইউবিটিকে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে আমি কাজ করছি।

মন্তব্য