kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

এ বিশ্ববিদ্যালয় মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে

প্রফেসর ড. সফিক আহমেদ সিদ্দিক, চেয়ারম্যান, বিইউবিটি ট্রাস্ট

৯ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এ বিশ্ববিদ্যালয় মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে

এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য?

 

কোনো ধরনের ব্যাবসায়িক লক্ষ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি হয়নি। শুরু থেকেই মানসম্মত শিক্ষাদান ও শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষ সাধনই আমাদের লক্ষ্য। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লোগান হলো—কমিটেড টু একাডেমিক এক্সিলেন্স’। বিইউবিটি ট্রাস্টিদের ১১ জনের মধ্যে আটজনই শিক্ষাবিদ, একজন সাবেক সচিব, আরেকজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও অন্যজন সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান।

প্রতিষ্ঠার পেছনের গল্প?

স্বনামধন্য ঢাকা কমার্স কলেজের তৎকালীন গভর্নিংবডির সদস্যরা পরিকল্পনা করেন, দেশে একটি ভালো মানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। যেখানে স্বল্প খরচে, উন্নত, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ পরিবারের সন্তানদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাদানের মাধ্যমে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা হবে। সে ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ট্রাস্ট থেকে শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করা হয়?

শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা ট্রাস্টিরা সদা তৎপর। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রম, যেমন—গবেষণা ও উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, হিসাব ও নিরীক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা ইত্যাদির জন্য আলাদা আলাদা কমিটি আছে। প্রতি কমিটিতেই ট্রাস্টি বোর্ডের একজন সদস্য উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।

শিক্ষার্থীদের আবাসনব্যবস্থায় কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছেন?

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আবাসনব্যবস্থা তৈরি করব, আমাদের সে পরিকল্পনা আছে। আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি কেনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হলে সর্বপ্রথম আমরা ছাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা করব।

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কতটুকু ভূমিকা রাখছে?

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসনসংকট রয়েছে এবং সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাও নেই। এ অবস্থায় আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা লাভের আশায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলো, যেমন—ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায় যেতে বাধ্য হতো। এখন সে চিত্র পুরো বদলে গেছে। দেশে অনেক মানসম্পন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় ছেলে-মেয়েরা দেশেই শিক্ষা নিচ্ছে। আরো আনন্দের বিষয়, আগে আমরা যেসব দেশে যেতাম, সেই দেশগুলোর ছাত্র-ছাত্রীরাই চিকিৎসা, প্রকৌশল, ব্যবসায় প্রশাসন, কম্পিউটার বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পড়ার জন্য আমাদের দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শর্ত পালনে আমরা যদি আরো আন্তরিক হই ও নিয়ন্ত্রকপ্রতিষ্ঠানগুলো আরো তৎপর ও সহযোগিতাপরায়ণ হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান আরো উন্নত হবে। নজরদারির পাশাপাশি সরকার প্রয়োজনীয় সাহায্য করলে আমি মনে করি, দেশেও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি হবে, সেগুলো উচ্চশিক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা রাখবে।

পরিপূর্ণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কী কী সুযোগ থাকা উচিত?

বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটির অর্থের মধ্যেই আছে, সেটি আন্তর্জাতিক মানে গিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নানা ধরনের গবেষণাগারের মাধ্যমে নতুন কিছু সৃষ্টি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যেমন—সুপরিসর শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, বিশাল ও সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কমনরুম, ক্যাফেটেরিয়া, স্বাস্থ্যসেবা, ক্যারিয়ার অফিসসহ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা থাকা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাসহায়ক, যেমন—খেলার মাঠ, ব্যায়ামাগার, সাঁতার কাটার সুবিধাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধাও থাকবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অবকাঠামো, শিক্ষক, গবেষণাগারের সুবিধার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি, বিইউবিটিসহ ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিনন্দিত করেছে।

বিইউবিটিকে ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে চান?

২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের হিসাব মতে, আমাদের আট হাজার ৫৪৩ জন ছাত্র-ছাত্রী ও ৩০০ জন শিক্ষক, ১৭৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। বর্তমান বিভাগগুলোর পাশাপাশি নতুন, যুগোপযোগী ফ্যাকাল্টি এবং বিভাগ চালু করার প্রক্রিয়াও চলছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে শিক্ষা উন্নয়ন প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে। গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে। আমরা যেভাবে এগিয়ে চলছি, ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে।

মন্তব্য