kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

হলে কেন থাকিস বলে ডাকসু প্রার্থীকে পেটালো ছাত্রলীগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ এপ্রিল, ২০১৯ ১৭:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হলে কেন থাকিস বলে ডাকসু প্রার্থীকে পেটালো ছাত্রলীগ

হলে থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. ফরিদ হাসানকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। সোমবার রাত ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে ওই ঘটনা ঘটে।

এস এম হলের ১৫৯ নম্বর রুমে থাকেন ফরিদ। তিনি গত ১১ মার্চ এস এম হল সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রলীগের জুলিয়াস সিজার তালুকদার।

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হল শাখা ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী ফরিদকে তার রুম থেকে বের করে নিয়ে যান। ফরিদ কেন হলে থাকে, সে বিষয়টি জানতে চান তারা। তখন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা রড, লাঠি দিয়ে ফরিদকে পেটাতে থাকে। এ সময় ফরিদের মাথা ফেটে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
 
এ ব্যাপারে ফরিদ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলাম। তখন ছাত্রলীগের নেতারা আমাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে। যখন আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করি, তখন তারা আমার রুমে ইয়াবা ঢুকিয়ে আমাকে হল থেকে বের করে। পরে আমার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু নির্বাচনের পর সোমবার রাতে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ হল সংসদের সদস্যরা এসে আমাকে মারধর করে।'

তিনি আরো বলেন, 'ছাত্রলীগের নেতারা আমাকে রড, লাঠি দিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করে। মারধর করার সময় তারা বলে, আমি কেন ডাকসুর প্রার্থী হই? হলে থাকি কেন? এ সময় আমাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।'

ফরিদ এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনকে অভিযোগ দেননি বলে জানান। তবে তিনি জানিয়েছেন, দ্রুতই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন তিনি।

মারধরের বিষয়ে ছাত্রলীগের এসএম হল শাখার সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সে (ফরিদ) ইয়াবা খায়। নেশা করে। তাকে হল থেকে বের করে দেয় হল প্রশাসন। তার পরও সে হলে থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সে এত দিন হলে থাকে কি না, তা জানতাম না। কাল যখন জানতে পারি সে হলে থাকে, তখন তাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন তাকে মারধর করে।’

মন্তব্য