kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ছিনতাইয়ের দায়ে জাবির ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছিনতাইয়ের দায়ে জাবির ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কর্মচারীর জামাতাকে তুলে নিয়ে ছিনতাই, মারধর ও মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে হাতেনাতে আটক পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বহিষ্কৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের মো. রায়হান পাটোয়ারী, একই ব্যাচের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মো. আল রাজী, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শাহ মোস্তাক আহমেদ সৈকত, দর্শন বিভাগের মোকাররম হোসেন শিবলু এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সঞ্জয় ঘোষ। 

শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ। এ ছাড়া ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বহিষ্কৃত পাঁচ শিক্ষার্থী কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। অন্যদিকে অপরাধের বিষয়টি তাদের পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বহিষ্কৃতরা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত।

এ প্রসঙ্গে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, আমরাও আমাদের মতো করে তদন্ত করছি, তারা যদি ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে থাকে এবং সে ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

ছিনতাইকারীরা সকলেই নিজেদের ছাত্রলীগকর্মী দাবি করলেও মো. জুয়েল রানা এ বিষয়ে বলেন, তারা স্বীকার করতেই পারে, বিপদে পড়লে অনেকেই নিজেকে ছাত্রলীগকর্মী দাবি করে। সে ক্ষেত্রে আমাদেরকে আমাদের মতো করে বুঝতে হবে।

এদিকে এর আগে এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় গত বছর রায়হান পাটোয়ারীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে বহিষ্কৃত এই পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকার যাত্রী ছাউনির নিচে থেকে বাসচালক মো. আলমগীর হোসেনের জামাতা মনির সরদারকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। আটোরিকশায় করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন পানির পাম্পের কাছে নিয়ে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার কাছে থাকা মূলবান জিনিসপত্র ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইকারীরা মনির সরদারকে জোর করে ইয়াবা কারবারি বানানোর চেষ্টা করেন এবং বাসায় ফোন দিয়ে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। খবর পেয়ে মনিরের শ্বশুর বাড়ির লোকজনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থলে যান। এ সময় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে দুজন পালিয়ে গেলেও তিনজনকে আটক করে গণধোলাই দেয় তাঁরা। পরে প্রক্টোরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা আহত মনিরসহ ছিনতাইকারীদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা