kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

কমিটি বিলুপ্তসহ ৪ দফা দাবি বাকৃবি ছাত্রলীগ একাংশের

বাকৃবি প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৯ ২১:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কমিটি বিলুপ্তসহ ৪ দফা দাবি বাকৃবি ছাত্রলীগ একাংশের

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রলীগের নতুন পদ প্রত্যাশীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার বিচার ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিলুপ্তিসহ ৪ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।

আজ রবিবার দুপুরে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি জানান তারা ছাত্রলীগের একাংশের হয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাকৃবি ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য রাশেদ খান মিলন।

লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, গত ২৪ মার্চ বাকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যক্ষ মদদে নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের ওপর হামলার ঘটনায় সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তায়েফুর রহমান রিয়াদ ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম তপনসহ প্রায় ২০ জনকে আহত করার অভিযোগ করেন। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করলেও জড়িতদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি বলেও ওই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। অনতিবিলম্বে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিবেন বলেও হুঁশিয়ার করেন তারা। তবে ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট করে কোনো ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে করবেন না বলেও জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান কমিটি অতিরিক্ত প্রায় ১ বছর ৪ মাস অতিবাহিত করেছে যা ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক। বর্তমান মেয়াদোর্ত্তীণ কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মাদক ব্যবসা, সিট বাণিজ্য ও নিয়োগ বাণিজ্য, গেস্টরুমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সাথে জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. আনোয়ারুল হক, এ এফ এম আনিসুজ্জামান জনি, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার তায়েফুর রহমান রিয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম তপন, সহ-সম্পাদক সারোয়ার সুইট, সাবেক উপ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক তুহিব্বুল আফওয়ার তুরাগ, সাবেক সহসভাপতি মোস্তফা রহমান, ঈশা খাঁ হলের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মসিউর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের সাবেক সহ-সভাপতি শাকির মিয়া সহ ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশীরা।

লিখিত বক্তব্যের বাইরেও আনোয়ারুল হক বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, গত ২ বছরের অধিক সময় ধরে ছাত্রলীগের নির্দিষ্ট প্রোগাম ও জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে আমাদের একাংশকে অংশ নিতে দিত না। বর্তমান কমিটিতে বিএনপি-শিবিরের অনেককে টাকার বিনিময়ে পোস্ট দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নূরে আলম তপন অভিযোগ করে বলেন, ২৪ তারিখের ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে আমরা শঙ্কিত আছি। আমাদের অনেককে মাসসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে ফাঁকা গুলির আওয়াজও শুনতে পারছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খন্দকার তায়েফুর রহমান রিয়াদ বলেন, আমাদের উপর যারা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। আমরা তাদের নামসহ প্রক্টরকে জানিয়েছি। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ছিল, প্রশাসন চাইলে সেটি দেখে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এ বিষয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহায়তা কামনা করছি। 

বাকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ কাজী বলেন, ছাত্রলীগের একটি পক্ষ ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দেয়ার ব্যবস্থা করব।

মারামারির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল হক বলেন, বাকৃবি ছাত্রলীগে কোনো গ্রুপিং মেনে নেওয়া হবে না। ৭কার্যদিবস এখনও পূর্ণ হয়নি, নিদিষ্ট সময়ের মধ্যেই সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মন্তব্য