kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

শুরু হয়েছে রাবি অফিসার সমিতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৯ ১২:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুরু হয়েছে রাবি অফিসার সমিতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার শ্রেণিভুক্ত ৬৭৩ জন নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার শ্রেণির কর্মকর্তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও যৌক্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করে থাকে। এদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে এক প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদ ও ৯টি সদস্য পদ নিয়ে মোট ১৯টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী প্যানেল রাহী-রাব্বেল পরিষদ থেকে সভাপতি পদে সংস্থাপন শাখার উপরেজিস্ট্রার মোক্তাদির হোসেন (রাহী) ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাডেমিক শাখার উপরেজিস্ট্রার রাব্বেল হোসেনের বিপরীতে বিএনপিপন্থী প্যানেল থেকে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপরেজিস্ট্রার এ কে এম নজরুল ইসলাম (শেলী) এবং ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ডেপুটি চিফ ফিল্ড অফিসার মোক্তার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। 

তবে নির্বাচনে কোনো প্যানেলের বাইরে থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান (চঞ্চল)। তাই সভাপতি পদে দ্বিমুখী লড়াই হলেও সাধারণ সম্পাদক পদে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচনে নিজ নিজ প্যানেল থেকে প্রার্থীরা প্রতিটি পদেই জয়ী হবেন বলে আশাবাদী। রাহী-রাব্বেল পরিষদের রাব্বেল হোসেন বলেন, আমরা বিগত মেয়াদে দায়িত্বে ছিলাম। আমরা সমিতির প্রত্যেকের জন্য কাজ করেছি। আশা করছি এবারও জয়ী হব।

শেলী-মোক্তার পরিষদের এ কে এম নজরুল ইসলামও (শেলী) একই কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) জিয়াউল আলম। মুঠোফোনে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, প্রার্থীরা সুষ্ঠুভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে। আশা করছি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন উপহার দিতে পারব।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীর অভিযোগ
এদিকে নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কামরুজ্জামান চঞ্চল অভিযোগ করে বলেছেন, তার নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উঠেপড়ে লেগেছে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী স্বাক্ষরিত একটি চিঠিও তাকে দিয়েছেন। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ করেন। 

চিঠিতে বলা হয়, আপনার নির্বাচনী ইশতেহারে আপনি এমন কিছু বক্তব্য উত্থাপন করেছেন যার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রচারের মাধ্যমে আপনি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন। 

কামরুজ্জামান লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি যাতে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা সঠিকভাবে চালাতে না পারি তাই আমাকে বিড়ম্বনার সম্মুখীন করতে এই শোকজ পাঠানো হয়েছে। 

তবে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী বলেন, কামরুজ্জামান চঞ্চল নির্বাচনী প্রচারপত্রে 'বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ যাবতীয় বিষয়াদি সিন্ডিকেট ও সিনেটের মাধ্যমে সকল এমপ্লয়ি স্বায়ত্ত্বশাসনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার কথা; কিন্তু স্বায়ত্ত্বশাসনের সুযোগ-সুবিধা শুধুমাত্র একটি গোষ্ঠী ভোগ করছে, যা ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশের পুরোপুরি লঙ্ঘন' কথাটি লিখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা হিসেবে কোনোভাবেই তিনি এ কথা বলতে পারেন না। 

নির্বাচন কমিশনার জিয়াউল আলম এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। এ ধরনের কোনো অভিযোগও আমার কাছে আসেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা