kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

রাবিতে গাছ কাটা বিষয়ে যা বললেন উপ-উপাচার্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ২০:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাবিতে গাছ কাটা বিষয়ে যা বললেন উপ-উপাচার্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে গাছ কাটা নিয়ে প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের পাশে তিনটি গাছ কাটা নিয়ে সমালোচনা আরো তীব্র হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ পেইজে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কি টাকার  খুব দরকার, গাছ কাটার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না’ ইত্যাদি লিখে এক শিক্ষার্থী পোস্টও করেন, পরবর্তীতে যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনোই অর্থনৈতিক মূল বিবেচনা করে গাছ কাটার উদ্যোগ নেয় না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা বিবেচনা করে বাধ্য হয়ে গাছ কাটে।

আজ রবিবার বিকেলে অধ্যাপক আনন্দ কুমার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেন এবং গাছ কাটা বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্তব্য করেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, মন্নুজান হলের সামনে টিম্বার ভ্যালু এবং হলের সৌন্দর্য বিবেচনায় তিনটি মৃতপ্রায় এবং স্কুল ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে একটি পাইকর গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কারণ পাইকর গাছটির শিকড়ের কারণে শেখ রাসেল মডেল স্কুল বিল্ডিংয়ের দেয়ালে ফাটল তৈরির উপক্রম হয়। এ ছাড়াও গাছটির কিছু ডাল স্কুলের চালের উপরে পড়ায় যেকোনো সময় চাল ভেঙে কোমলমতি শিশুদের হতাহতের আশঙ্কা তৈরি হয়। ইতোপূর্বে কয়েকজন অভিভাবকও স্কুল ভবন এবং শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে গাছটি কাটার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মন্নুজান হল কর্তৃপক্ষ গাছগুলো কাটার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে গাছ কাটা এবং বিক্রি সম্পর্কিত যাবতীয় নিয়ম-কানুন মেনে গাছ কাটার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী পাইকর গাছটি কাটার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তি করায় গাছ কাটা স্থগিত করা হয়।

উপ-উপাচার্য বলেন, ২০১৮-১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে প্রায় আড়াই  হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। আমরা সবাই অবগত আছি, ক্যাম্পাসে কয়েক লক্ষ গাছ আছে। এ গাছগুলোর মধ্যে কিছু কিছু গাছ ঝড়ে ভেঙে পড়ে, বয়সের কারণে মারা যায়, আবার এখানকার অধিবাসীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হলে কাটার উদ্যোগ নিতে হয়। তবে যেকোনো কারণেই একটা গাছ কাটা হলে সেখানে সাথে সাথে আরেকটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উপ-উপাচার্য আরো বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল, রোকেয়া হলের পুকুরের পাশে, প্রশাসন ভবনের দু’পাশে এবং প্রথম বিজ্ঞান ভবন ও প্যারিস রোডের দু’পাশে ফাঁকা জায়গায় প্রচুর গাছ লাগানো হয়েছে। ক্যাম্পাসকে একটি সবুজ, জীববৈচিত্রে ভরপুর ক্যাম্পাস হিসেবে এর ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা করছে, উল্লিখিত বক্তব্য গাছ কাটার ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে কোনো প্রকার ভুল বোঝাবুঝির অবসান করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা