• ই-পেপার

৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে দুপুরে বাংলাদেশে ব্যাংকের বিশেষ সভা

বাজেটে দাম বাড়তে ও কমতে পারে যেসব পণ্যের

অনলাইন ডেস্ক
বাজেটে দাম বাড়তে ও কমতে পারে যেসব পণ্যের
ছবি : এআই

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি, চিকিৎসাসামগ্রী, মোবাইল ফোন, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কমতে পারে এসব পণ্যের দাম। অন্যদিকে, বিলাসী পণ্য, কিছু আমদানি পণ্য, রড ও তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বাড়ানো প্রস্তাব আসতে পারে; এতে বৃদ্ধি পেতে পারে এসব পণ্যের দাম।

আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উত্থাপন করা হবে। এদিন বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন। এটি হবে দেশের ৫৫তম ও বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি থাকতে পারে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার। এদিকে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ।

আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের জন্য বাজেটে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে সরকার। এডিপিতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা ও ঋণ সহায়তা বা বিদেশি অর্থায়ন ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

আরো পড়ুন
নবম পে স্কেলে কার কত বেতন বাড়বে, যা জানা গেল

নবম পে স্কেলে কার কত বেতন বাড়বে, যা জানা গেল

 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় করছাড়ের বড় ধরনের সুবিধা প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে শুধু কর অব্যাহতি বা করছাড়ই নয়, বরং ভ্যাট এবং পণ্য আমদানির শুল্ক-করেও উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের :

সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্য

সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামালের ওপর ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিনের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এ ছাড়া সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা করা হতে পারে। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

অ্যালকোহল

দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

রড

দেশে মাইল্ড স্টিল (এমএস) এবং এ জাতীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। ফলে রডের দাম বাড়তে পারে।

হিমায়িত মাছ ও কাজুবাদাম 

উচ্চ মূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ মূসক আরোপ করা হতে পারে। এতে এসব মাছের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। ফলে এ পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

বিলাসী ও আমদানি পণ্য

বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসী পণ্য, আমদানি করা উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্য এবং নতুন ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে। ফলে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে যেসব পণ্যের :

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য

বাজারের মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য কমাতে চাল, ধান, গম, ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে করের হার কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। এ ছাড়া এসব পণ্যে রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার করা হতে পারে। বর্তমানে মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য আমদানি বা সরবরাহের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ কিংবা ১ শতাংশ হারে উৎসে কর পরিশোধ করতে হয়। নতুন বাজেটে এসব হার কমিয়ে ০.৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোজ্যতেল

দেশে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী ব্যবসায়ের জন্য আগামী ১০ বছরের জন্য শূন্য শতাংশ কর হারের প্রস্তাব করা হতে পারে। এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সরিষা বা অন্যান্য তৈলবীজের তেলের দাম ভবিষ্যতে আরো সাশ্রয়ী হতে পারে।

চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ

বাজেটে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কিডনি রোগীদের প্রতিটি ডায়ালাইসিসে খরচ প্রায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। এ ছাড়া ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৬৮টি কাঁচামাল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব আসতে পারে। এদিকে, ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া হার্টের রিং এবং চোখের লেন্সের ওপর থাকা ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে। শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করের হার ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে।

জ্বালানি তেল

রিফাইনারি বা শোধনাগার কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১.৫ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।

শিল্পের কাঁচামাল
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হতে পারে। রেগুলেটরি শুল্কের স্তর ৯টি থেকে কমিয়ে আনা হতে পারে ৬টিতে।
 
মোবাইল ফোন ও টেলিযোগাযোগ খাত

স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২টি কাঁচামালের ওপর উৎসে কর কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। পাশাপাশি এ খাতে মূসক অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে।

মোবাইল সিমের ওপর বিদ্যমান ৩০০ টাকার কর বাতিল করা হতে পারে; এতে কমবে সিমের দাম। এ ছাড়া বিটিআরসির প্রাপ্ত রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি বা চার্জের ওপর প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার করা হতে পারে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা খাতে উৎসে কর কর্তনের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে পারে।

বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ

বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হতে পারে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৫ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা বহাল থাকতে পারে। সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানিতেও ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির প্রস্তাব আসতে পারে।
 
ইলেকট্রিক যানবাহন

পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা উৎসাহিত করতে ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন, ইলেকট্রিক বাস ও ইলেকট্রিক ট্রাক আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে করহার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য শতাংশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ির নিবন্ধনে আগাম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদন শিল্পকেও কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হতে পারে।

স্বর্ণ

স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে ৫ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হতে পারে। জুয়েলারি সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এতে কমতে পারে স্বর্ণের দাম।
 
ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্য

টেলিভিশন, ফ্রিজ ও কম্পিউটার সামগ্রী উৎপাদনে বিদ্যমান কর অব্যাহতি সুবিধা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কম্পিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশ করা হতে পারে। এ ছাড়া এটিএম কার্ডসহ সব ধরনের কার্ড তৈরির কাঁচামাল আমদানির ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার হতে পারে। পাশাপাশি ১১৩টি পণ্যের ওপর থেকে ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে।

অন্যান্য পণ্য ও খাত

বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে। সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স আমদানির ওপর থাকা ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে। ফ্লোট গ্লাস উৎপাদনে ব্যবহৃত ৫টি কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হতে পারে। সার ও কীটনাশকের ওপর বিদ্যমান সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট ও কর প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল সরবরাহের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হতে পারে। পরিবহন, ক্যারিং ও গাড়ি ভাড়া সেবা খাতে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হতে পারে। রিসাইকেলড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালের করহার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে।

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ও এর প্রয়োজনিয়তা।

লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার মঙ্গলবার (০৯ জুন, ২০২৬) বিনিময় হার—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা
ইউরো : ১৪১ টাকা ৫৭ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৩ টাকা ৭২ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ১৮ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৫ টাকা ২৫ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৬৭ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৬ টাকা ৭৭ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৪৭ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময়হার পরিবর্তন হতে পারে।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন।

আজ থেকে ফ্লোর প্রাইসমুক্ত হচ্ছে পুঁজিবাজার

অনলাইন ডেস্ক
আজ থেকে ফ্লোর প্রাইসমুক্ত হচ্ছে পুঁজিবাজার

তিন বছরেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো) ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারদরের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস (শেয়ারদর কমার সর্বনিম্ন সীমা) প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ফ্লোর প্রাইস থেকে পুরোপুরি মুক্ত হচ্ছে পুঁজিবাজার। 

সোমবার (৮ জুন) নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ দুই কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

বিএসইসির আদেশ অনুসারে, বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংকের ওপর ফ্লোর প্রাইস আরোপ-সংক্রান্ত ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট জারি করা কমিশনের আদেশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেয়ার পর এক্ষেত্রে ২০২১ সালের ১৭ জুন কমিশনের জারি করা আদেশ অনুসারে সার্কিট ব্রেকার প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

২০২১ সালের ১৭ জুন বিএসইসির জারি করা সার্কিট ব্রেকার-সংক্রান্ত আদেশ অনুসারে, শেয়ারদরের ঊর্ধ্বসীমা সর্বোচ্চ ১০ থেকে সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারবে। এর মধ্যে শেয়ারদর ২০০ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ হারে সার্কিট ব্রেকার প্রযোজ্য হবে। শেয়ারদর ২০০ টাকার ওপর হলে এবং ৫০০ টাকা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার থাকবে। ৫০০ টাকার বেশি এবং ১ হাজার টাকা পর্যন্ত শেয়ারদর থাকলে সেক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। শেয়ারদর ১ হাজার টাকার বেশি এবং ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হবে। শেয়ারদর ২ টাকার ওপর থাকলে এবং ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সার্কিট ব্রেকার হবে ৫ শতাংশ। আর শেয়ারদর ৫ হাজার টাকার বেশি হলে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নতুন সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রেও স্ল্যাবভিত্তিক এ সার্কিট ব্রেকার প্রযোজ্য হবে।

পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক লেনদেনের গতি ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি বিএসইসির কাছে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিল ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। কমিশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, ফ্লোর প্রাইস আরোপের ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত লেনদেনবিহীন অবস্থায় রয়েছে। একই ভাবে গত ৩ মে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ ফ্লোর প্রাইস বলবৎ থাকা শেয়ারগুলোতে বিক্রেতাদের জন্য স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফ্লোর প্রাইসজনিত দীর্ঘমেয়াদি লেনদেন সীমাবদ্ধতা মার্জিন ঋণ গ্রহণকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক ইকুইটির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ খান দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশের পুঁজিবাজারে কখনো ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হবে না। এর কয়েক দিন পর কমিশন গতকাল ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারে আদেশ জারি করেছে।

আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

অনলাইন ডেস্ক
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

ঈদুল আজহার পর দেশে দ্বিতীয় দফায় কমেছে সোনার দাম। গত শনিবার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। যা ওই দিনই সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, নতুন করে দামে পরিবর্তন না আসায় আজ মঙ্গলবারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।

আরো পড়ুন
ঢাকার আতঙ্ক ১৩৮৭ ছিনতাইকারী

ঢাকার আতঙ্ক ১৩৮৭ ছিনতাইকারী

 

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, ২ জুন ঈদের পর প্রথম দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করে সংগঠনটি। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।