kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

তাজমহল-পিরামিডে আরো আকর্ষণীয় সোনারগাঁ

মনিরুজ্জামান মনির, সোনারগাঁ    

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১২:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাজমহল-পিরামিডে আরো আকর্ষণীয় সোনারগাঁ

সোনারগাঁ নতুন আকর্ষণ রাজমণি পিরামিড

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত দুই বছর নারায়ণগঞ্জ জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো ছিল পর্যটকশূন্য। বিপুল পর্যটক আকর্ষণ করে এবার ঘুরে দাঁড়াতে চান উদ্যোক্তারা। নারায়ণগঞ্জ জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পর্যটনকেন্দ্রগুলো হলো-সোনারগাঁর পানামনগর, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, পাঁচপীরের দরগাহ, গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের মাজার, গোয়ালদী শাহী মসজিদ, রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া জমিদারবাড়ি, আড়াইহাজারের বালিয়াপাড়া জমিদারবাড়ি, সাতগ্রাম জমিদারবাড়ি, সদর উপজেলার বিবি মরিয়মের সমাধি, হাজীগঞ্জের দুর্গ ও বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা দুর্গ।

বেসরকারি উদ্যোগে জেলায় যেসব পর্যটনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় তার মধ্যে বাংলার তাজমহল, পিরামিড, শাইরা গার্ডেন, জিন্দা পার্ক, রাসেল পার্ক, বিশনন্দী ফেরিঘাট, সুবর্ণগ্রাম অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, মেরি এন্ডারসন, খাসনগর দিঘি ও রয়াল রিসোর্ট অন্যতম।

বিজ্ঞাপন

তবে সবচেয়ে বেশি পর্যটন আসে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং পানামনগরে।

বাংলাদেশের লোক সংস্কৃতি ও লোকশিল্পের নিদর্শন সংরক্ষণ করতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯৭৫ সালে এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫০ বিঘা আয়তনের এই ফাউন্ডেশনের ভেতরে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা চারু ও কারুশিল্পীদের হাতে তৈরি তৈজসপত্রের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া দুই ধারে পরিখা পরিবেষ্টিত পুরনো ক্ষুদে জাফরি ইটের ইমারতগুলো পর্যটকদের পুরনো গৌরব মনে করিয়ে দেয়। পানামনগরে ব্রিটিশ আমলে ইংরেজরা বানিয়েছিল আধুনিক একক ভবন, তার নাম কম্পানি কুঠি। এ নগরে দেখার মতো রয়েছে নাচঘর। এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত ভারতের আগ্রার তাজমহলের আদলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পেরাব গ্রামে নির্মিত হয়েছে বাংলার তাজমহল। আগ্রার তাজমহলের মডেলেই বাংলার তাজমহল নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলার তাজমহলের মূল ভবনে স্বচ্ছ ও দামি পাথর বসানো হয়েছে। বাংলার তাজমহলের উদ্যোক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক আহসান উল্লাহ মনি। এই তাজমহলের চার কোনে চারটি বড় মিনার, মাঝখানে মূল ভবন, সামনে পানির ফোয়ারা, চারদিকে ফুলের বাগান, দুই পাশে দর্শনার্থীদের বসার স্থান রয়েছে।

এ ছাড়া আহসান উল্লাহ মনি বাংলার তাজমহলের পাশে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম মিসরের পিরামিডের আদলে গড়ে তুলেছেন পিরামিড। বাংলার তাজমহল ও পিরামিড পরিদর্শন করতে সারা বছরই পর্যটকরা পেরাব গ্রামে ভিড় জমায়। এই তাজমহল পরিদর্শন শেষে পর্যটকরা পাশের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ার জমিদারবাড়ি, জিন্দা পার্ক ও আড়াইহাজার উপজেলার বিষ্ণাদী ফেরিঘাট এলাকা থেকে মেঘনা নদীতে নৌভ্রমণ করে বাড়ি ফিরতে পারেন।

বাংলার তাজমহলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান উল্লাহ মনি বলেন, ‘দুই বছর করোনা মহামারির কারণে পর্যটকদের আগমন ছিল শূন্যের কোটায়। আমাদের মতো যাঁরা বেসরকারিভাবে পর্যটনশিল্পে বিনিয়োগ করেছি, তাঁরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। আমরা এ বছর থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চাই। ’



সাতদিনের সেরা