kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

সৌরবিদ্যুতে ৮২২ কোটি টাকা ঋণ দেবে জার্মানি

♦ ইডকল এই অর্থ বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ হিসেবে বিতরণ করবে ♦ কেএফডাব্লিউয়ের সঙ্গে ঋণের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে

তামজিদ হাসান তুরাগ   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ১০:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌরবিদ্যুতে ৮২২ কোটি টাকা ঋণ দেবে জার্মানি

নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচি-২-এর আওতায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সৌরভিত্তিক সেচ প্রকল্পের আওতায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কম্পানি লিমিটেডকে (ইডকল) ৮০ মিলিয়ন ডলার ইউরো ঋণ দিচ্ছে জার্মানি। ১০২ টাকা ৮৫ পয়সা দরে এ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮২২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ইডকল এ অর্থ বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ হিসেবে বিতরণ করবে। গত ২৮ জুন ইডকলের সঙ্গে জার্মান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা কেএফডাব্লিউয়ের একটি বৈঠক হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ওই বৈঠকে ২০২৩ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচি-২-এর আওতায় কেএফডাব্লিউকে ৮০ মিলিয়ন ইউরো ঋণ দিতে সম্মতি দিয়েছে তারা। এখন ঋণের শর্ত নির্ধারণে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন সংস্থা কেএফডাব্লিউয়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনির্বাণ কুণ্ডু জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচি-২-এর আওতায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সৌরভিত্তিক সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ৯৯ মিলিয়ন ইউরো বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে তারা ১৮.৫০ ইউরো প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। এ ছাড়া এক মিলিয়ন ইউরো তারা দিচ্ছে অনুদান হিসেবে।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেএফডাব্লিউয়ের আর্থিক সহায়তায় ইডকলের ‘রিনিউয়েবল এনার্জি প্রগ্রাম-২’ শীর্ষক প্রকল্পের নির্দেশমূলক শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করতে ২৮ জুন ইআরডিতে একটি ত্রিপক্ষীয় পর্যালোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এবং উইং চিফ (ইউরোপ) উত্তম কুমার কর্মকার।

জানতে চাইলে উত্তম কুমার কর্মকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচির জন্য কেএফডাব্লিউয়ের সঙ্গে এখন ঋণের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই হবে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমরা এ ঋণগুলো খুবই সহজ শর্তে নিচ্ছি। এখানে কোনো কঠিন শর্ত নেই। ’

ইআরডির কর্মকর্তারা আরো জানান, এ ঋণের জন্য কেএফডাব্লিউ দুই ধরনের সুদহারের প্রস্তাব দিয়েছে। ঋণ পরিশোধসহ অন্যান্য শর্ত কিছুটা কঠিন। ইডকল ঋণের সুদ কমানো এবং শর্তগুলো সহজ করার প্রস্তাব দিয়েছে। আবার ইউরোর পরিবর্তে ডলারে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে ইডকলের। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিভিন্ন সংস্থার মতামত চাওয়া হয়েছে। এ মাসে জার্মান থেকে কেএফডাব্লিউয়ের একটির প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে। ওই সময় শর্তাবলি চূড়ান্ত হতে পারে।

ইআরডির এক কর্মকর্তা জানান, কেএফডাব্লিউ ঋণের শর্তাবলির মধ্যে রয়েছে, অনাদায়ী ঋণের পরিমাণের ওপর ০.২৫ শতাংশ প্রতিশ্রুতি ফি এবং মোট ঋণের পরিমাণের ওপর ০.১০ শতাংশ ফ্ল্যাট ব্যবস্থাপনা ফি যুক্ত করতে হবে। এর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের সময়কাল তারা নির্ধারণ করেছে ২০ বছর। এর মধ্যে ৩১টি সমপরিমাণ অর্ধবার্ষিক কিস্তিসহ পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধাও রাখা হয়েছে।

ইআরডির ফরেন এইড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস (এফএবিএ) শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যদিও পূর্ববর্তী কেএফডাব্লিউ ঋণের সুদের হার ২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, বর্তমান অফারে ২.৭৩ শতাংশ সুদের হার রাখার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয় আলোচনা করা যেতে পারে।



সাতদিনের সেরা