kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ অক্টোবর ২০২২ । ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পাচারের টাকা ফেরতের সুযোগ শুধু বৈধ আয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ আগস্ট, ২০২২ ১১:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাচারের টাকা ফেরতের সুযোগ শুধু বৈধ আয়ে

বাজেটে পাচারের টাকা ফেরত আনার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা শুধু বৈধ উপার্জনকারীদের জন্য। প্রকৃত অর্থে কালো টাকার মালিকদের এই সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি বলেছেন, কালো টাকার মালিকের সংখ্যা কম। যারা বৈধভাবে আয় করে তারাই বেশি।

বিজ্ঞাপন

অর্থ ফেরত আনার এমন সুযোগ দিয়ে বিশ্বের অনেক দেশ ভালো ফল পেয়েছে।

গতকাল রবিবার সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় পাচারের অর্থ ফেরত আনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের রাজস্ব পরিস্থিতি এবং চলতি বছরের আদায় বাড়ানোর কার্যক্রম তুলে ধরেন তিনি। এ সময় রাজস্ব বোর্ডের সিনিয়র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রহমাতুল মুনিম বলেন, বাজেটে পাচারের টাকা ফেরত আনার সুযোগ দেওয়া নিয়ে পত্রিকায় অনেক সমালোচনা হয়েছে। সে জন্য এর একটা ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি বিদেশে টাকা জমা রাখেন বা কোনো বৈধ আয় থাকে, তবে সেই টাকা দেশে আনলে তিনি লাভবান হবেন। আমরা তাঁদের জন্য এ সুযোগ রেখেছি। এ জন্য তাঁদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। কেউ তাঁর আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইবে না। এই টাকা দেশে এলে অর্থনীতির মূলস্রোতে যুক্ত হবে। ফলে বিনিয়োগ বাড়বে ও রাজস্ব আদায়ে গতি বাড়বে। ’

রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (আয়কর নীতি) সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আসলে এটাকে কালো টাকা বলা যায় না। অনেকের অপ্রদর্শিত আয় আছে। তিনি দেশের বাইরে টাকা রেখেছেন। কিন্তু কোনো কারণে রিটার্নে তা দেখাতে পারেননি। তাঁদের জন্য বাজেটে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ’

ঘাটতি ২৮ হাজার কোটি টাকা

সদ্যঃসমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৬.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও বছর শেষে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘সদ্যঃসমাপ্ত অর্থবছরে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮.৬ শতাংশ পিছিয়ে আছি। ১৬.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আমরা রাজস্ব আহরণ করতে পেরেছি তিন লাখ ১৬৩৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও আমাদের ওই প্রবৃদ্ধি অর্জন খুব খারাপ, তা বলব না। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ’

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরের জুন পর্যন্ত এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগে নির্ধারিত তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে তিন লাখ এক হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা ৮৪ লাখ টাকা। রাজস্ব আদায়ে ১৬.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এর পরও ঘাটতি ২৮ হাজার ৩৬৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের লক্ষ্য সবচেয়ে বেশি। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যার বিপরীতে আদায় হয়েছে এক লাখ আট হাজার ৪১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ঘাটতি ১৯ হাজার ৫৮১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

অন্যদিকে আয়কর ও ভ্রমণ করে লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। এই খাতে আদায় হয়েছে এক লাখ তিন হাজার ৭৯১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এই খাতে সর্বোচ্চ অর্জন ২১.৭৯ শতাংশ হলেও ঘাটতি থেকে মুক্তি মেলেনি। এই খাতে ঘাটতি দুই হাজার ২০৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

এ ছাড়া আমদানি শুল্কে ৯৬ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮৯ হাজার ৪২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।    এখানে ঘাটতি ছয় হাজার ৫৭৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি ১৫.৯১ শতাংশ।

 



সাতদিনের সেরা