kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

চার দফা নীতি সুদহার বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র কি মন্দায় পড়ছে

♦ সর্বশেষ ৭৫ বেসিস পয়েন্ট নীতি সুদহার বাড়াল ফেড ♦ শূন্য শতাংশ থেকে সুদহার বেড়ে হয়েছে ২.২৫ থেকে ২.৫০% ♦ ১৯৮০ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র এত দ্রুত সুদের হার বাড়াল ♦ প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে

বাণিজ্য ডেস্ক    

২৯ জুলাই, ২০২২ ১০:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার দফা নীতি সুদহার বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র কি মন্দায় পড়ছে

গত কয়েক মাসে ব্যাবসায়িক অর্ডার ও ভোক্তা ব্যয় কমেছে যুক্তরাষ্ট্রে

চার দশকে সর্বোচ্চ হওয়া মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়তে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আরেক দফা নীতি সুদহার বাড়াল। গত বুধবার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার বাড়াল ফেড। এতে এই বছরের মার্চ থেকে চার দফা সুদহার বাড়ানো হলো। ফলে বছরের শুরুতে যে নীতি সুদহার ছিল শূন্য শতাংশ, তা এখন বেড়ে হয়েছে ২.২৫ থেকে ২.৫০ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

১৯৮০ সালের পর এই প্রথম এত দ্রুত সুদের হার বাড়াল দেশটি।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, সুদের হার বাড়িয়ে সুবিধা করা যাবে না, অর্থনৈতিক মন্দার দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকও চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বের অনেক বড় অর্থনীতির দেশে মন্দা দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনীতি এরই মধ্যে মন্দায় ঢুকে গেছে, প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৬ শতাংশ সংকোচিত হয়েছে এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকেও তা হবে।

যদিও তা মানতে নারাজ ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার জেরোমে পাওয়েল। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন মন্দায় আছে। তবে অর্থনীতি মন্থর হচ্ছে এবং একটি মন্দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ফেডের জন্য ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা সঠিক কাজটি করার চেষ্টা করছি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মন্দা থেকে রক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ’ তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এরই মধ্যে ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সুদহার বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

এর বিপরীতে বহুজাতিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান চার্লস শোয়াবের ইউকে এমডি রিচার্ড ফ্লিন বলেন, ‘ফেড যেভাবে আগ্রাসী সুদের হার বাড়াচ্ছে তাতে অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে। প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক, দ্বিতীয় প্রান্তিকেও দুর্বল হবে মনে হচ্ছে। প্রবৃদ্ধির সূচকগুলো যেমন আবাসন কর্মকাণ্ড, নতুন ব্যাবসায়িক অর্ডার এবং ভোক্তা ব্যয়—এ সবই কমে গেছে গত কয়েক মাসে। কঠোর মুদ্রানীতির ফলে প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে দাঁড়িয়ে যেভাবে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে তাতে বাজার আরো অস্থির হয়ে উঠবে এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকোচিত হওয়ার ভয় করছি। ’

ফিডালিটি ইন্টারন্যাশনাল লন্ডনের সামষ্টিক অর্থনীতিবিষয়ক বৈশ্বিক প্রধান সালমান আহমেদ বলেন, ‘ফেড চেয়ার সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুই কারণ দেখালেন। বললেন মূল্যস্ফীতির কথা এবং শ্রমবাজার শক্তিশালী আছে জানালেন; কিন্তু আমি দেখছি অর্থনৈতিক মন্দা এরই মধ্যে পাইপলাইনে চলে এসেছে। ’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতির রাশ টানার চেষ্টা করে। নীতি সুদহার বৃদ্ধি করা হলে অর্থ আরো দামি হয়, অর্থাৎ ঋণের সুদহার বৃদ্ধি পায়, বাজারে চাহিদায় টান পড়ে আর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেছে আর অর্থনীতিতে মন্দাভাব তৈরি হয়নি, এমন নজির কম।

ফলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নে এখন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ একদিকে মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে মুদ্রার প্রবাহ কমে যাচ্ছে। ফলাফল—চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে মন্দার আশঙ্কা। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।



সাতদিনের সেরা