kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

পশু কিনতে ডিজিটাল কোরবানির হাটে

অনলাইন ডেস্ক   

৩ জুলাই, ২০২২ ১৫:১৮ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



পশু কিনতে ডিজিটাল কোরবানির হাটে

করোনা সংক্রমণ আবার বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঈদ আর বন্যার কারণে করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। তাই নিরাপদে কোরবানির পশু কেনার জন্য অনেকেই বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন ডিজিটাল কোরবানির হাটে। বিস্তারিত এস এম তাহমিদের কাছে

 

বিগত বছরগুলোতে কভিড-১৯-এর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় কোরবানির পশু কেনাবেচার হাট।

বিজ্ঞাপন

সরকার সবাইকে উৎসাহিত করে হাটে ভিড় না করে অনলাইনে পশু কেনার ব্যাপারে। অনলাইন পশুর হাটের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে পৌঁছে ২০২১ সালের ঈদুল আজহার সময়। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পশু ঈদের প্রায় ১০ দিন আগেই বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছিলেন খামারিরা।

এ বছর কভিড-১৯-এর প্রভাব কম থাকায় সশরীরে উপস্থিত হয়েই পশু কেনাবেচার ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে ঈদের আগেভাগেই কভিড-১৯-এর নতুন ঢেউ শুরু হওয়ায় অনলাইনে বেচাকেনা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। যেহেতু অনলাইনে পশু কেনার সঙ্গে সঙ্গেই তা বাড়ি আনতে হচ্ছে না, তাই অনেকেই অনলাইনে কেনার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। দূর-দূরান্ত থেকে পশু নিয়ে হাজির হওয়া থেকে শুরু করে হাটে অনির্দিষ্ট সময় ধরে পশু নিয়ে হাজির থাকতে না হওয়ায় অনলাইনে বিক্রিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন বিক্রেতারাও। পশুগুলো ঈদের ঠিক আগে আগে পৌঁছে দেওয়া হবে বা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কোরবানি করে মাংস পৌঁছে দেবেন খামারিরা।

 

সরকারি ডিজিটাল হাট

বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও সরকারি উদ্যোগে চলছে ডিজিটাল হাট (www.digitalhaat.gov.bd)। গত বছর এই হাটে অংশ নিয়েছে ৩৩টি প্রতিষ্ঠান ও বিক্রেতা, যাঁদের মধ্যে খামারিদের পাশাপাশি ছিল বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। লেখার সময় পর্যন্ত হাটটি জমে ওঠেনি, তবে এবার নতুন ফিচার হিসেবে দেখা গেছে ঢাকা ছাড়াও আঞ্চলিক হাটের ব্যবস্থা, লাইভ হাট সম্প্রচারের ফিচার এবং এস্ক্রো সুবিধা। এতে করে ক্রেতা মূল্য পরিশোধের পর টাকা এস্ক্রো অ্যাকাউন্টে রাখা হবে, পশু ডেলিভারির পরই বিক্রেতা সেই টাকা বুঝে পাবেন। এতে করে বিক্রেতাও ক্রেতাদের জালিয়াতি থেকে সুরক্ষিত, আবার ক্রেতা স্বার্থও থাকছে অটুট। গরু, ছাগল, ভেড়া থেকে শুরু করে কিছু দুম্বা, এমনকি উটও প্ল্যাটফরমটিতে বিক্রির রেকর্ড আছে। পশু জবাই করা ও কসাই সার্ভিসও পাওয়া যাবে ডিজিটাল হাটেই। অনলাইনে পশু বেচাকেনার সময় যাতে ক্রেতাস্বার্থ অটুট থাকে সে জন্য বেশ কিছু গাইডলাইন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সেটি ডিজিটাল হাটের ওয়েবসাইটেই পাওয়া যাবে। সব অনলাইন হাটকে এই গাইডলাইন মানতে হবে। সেবাটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন এটুআই, একশপ ও ই-ক্যাবের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।

 

দারাজে আছে মূল্যছাড়সহ ফ্রি ডেলিভারি

গরু ও খাসি অনলাইনে অর্ডার করলে হোম ডেলিভারি দেবে ই-কমার্স সেবা দারাজ। তাদের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ থেকে বাছাই করে পশু অর্ডার করলে সেটি সাত থেকে আট দিনের মধ্যে পৌঁছানো হবে বলে জানিয়েছে তারা। বেশ কিছু ছোট-বড় খামারি এর মধ্যেই দারাজে তাঁদের পশুর লিস্টিং করেছেন। প্রতিটি পশুর সঙ্গে থাকছে ভাউচার, যার মাধ্যমে কিছু ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। কেনার আগেই প্রত্যেক বিক্রেতার সঙ্গে ক্রেতার যোগাযোগের দায়িত্বও নিচ্ছে দারাজ। যদি কেউ সরকারি ডিজিটাল হাটের মাধ্যমে দারাজ থেকে পশু অর্ডার করেন, তাহলে ডিজিটাল হাটের মাধ্যমে জবাইয়ের সুবিধা নেওয়া যাবে। লিংক https://www.daraz.com.bd/bn-gorur-haat/

 

বেঙ্গল মিটের নিজস্ব খামারের পশু

বেঙ্গল মিটের কোরবানির সেবায় থাকছে তাদের নিজস্ব খামারের নানা ধরনের দেশি ও বিদেশি জাতের গরু, খাসি ও ভেড়া। তারা গরু বেচাকেনার বদলে এটিকে সেবা বলে থাকে। কেননা পশু ডেলিভারির বদলে তারা জবাই থেকে শুরু করে পরিষ্কার করা, মাংস কাটা ও বাছাই করার পূর্ণাঙ্গ সেবা দিয়ে থাকে। বেঙ্গল মিটের নিজস্ব খামারের হওয়ায় গরুগুলোর স্বাস্থ্য ও মাংসের মান নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই বলেই দাবি তাদের।

চাইলেই ক্রেতা অনলাইনে গরু দেখতে পারবেন। পছন্দ করে পশু কেনার পর সেটি ঈদের দিন প্রসেস করে পরদিন থেকে সরাসরি বাসায় মাংস পৌঁছে দেবে বেঙ্গল মিট। যাঁরা পুরো পশু না কিনে ভাগে দিতে চাইছেন তাঁদের জন্যও ভাগে কোরবানি দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে তারা। https://qurbani.bengalmeat.com/ থেকে অর্ডার করা যাবে।

 

প্রাণী সেবারও আছে নিজস্ব খামারের পশু

প্রাণী সেবা নিজস্ব খামারের গরু বিক্রি করছে সরাসরি তাদের ওয়েবসাইটে। কেনার পর সরাসরি পশু ডেলিভারি নেওয়া যাবে বা চাইলে তাদের মাধ্যমে কোরবানিও সম্পন্ন করে নেওয়া যাবে তাদের তত্ত্বাবধানেই। দেশি-বিদেশি বেশ কয়েক জাতের গরুর দেখা মিলেছে প্রাণী সেবার ওয়েবসাইটে। গরুর পাশাপাশি খাসিও বিক্রি করছে তারা। পুরো টাকার ৩৫ শতাংশ শুরুতে প্রদান করে বাকি টাকা ডেলিভারির সময় দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে তারা। প্রাণী সেবাও ভাগে কোরবানি দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে, পুরো পশু একা না কিনলেও চলবে।

লিংক : https://pranishebashop.com.bd/

 

প্রিয়শপে মিলবে কোরবানির সব ধরনের অনুষঙ্গ

ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুধু পশুর হাটই নয়, বরং ঈদের সব ধরনের জিনিসপত্র নিয়েই জমজমাট আয়োজন করে থাকে প্রিয়শপ। গরু-খাসির মেলা বসেছে তাদের অনলাইন হাট পেজে। সরাসরি ওয়েবসাইট থেকে গরু বা খাসি অর্ডার করা যাবে। পশুর আকৃতি, ওজন, রং ও অন্যান্য তথ্য সুন্দরভাবে প্রিয়শপের পেজে পাওয়া যাবে, সঙ্গে থাকছে পশুটির ভিডিও। অর্ডারের পর ঈদের চার থেকে পাঁচ দিন আগে পশুগুলো ক্রেতাদের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হবে। কোরবানির অন্যান্য সামগ্রী, যেমন—রান্নার সরঞ্জাম, মসলা ও অন্যান্য খাবারও মিলবে হাটে। মাংস প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ছুরি, চাপাতি বা বড় হাঁড়ির ব্যবস্থাও রেখেছে তারা। সঙ্গে আছে ঈদের পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জাম, সবই তারা রেখেছে কোরবানি ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে। সঙ্গে থাকছে নানা ধরনের ছাড়-ডিসকাউন্টের অফার।

লিংক : https://pri‚oshop.com/eid-ul-adha

 

কসাই দেবে বুচার শপ

যাঁরা শুধু কসাই বুকিং দিতে চাচ্ছেন, তাঁদের জন্য বুচার শপ এবারও চালু রেখেছে অনলাইনে কসাই ভাড়া করার সুবিধা। তাদের ফেসবুক পেজে মেসেজের মাধ্যমে বা পেজে থাকা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে নিজস্ব সুবিধা অনুযায়ী সময় বুকিং দিয়ে পাওয়া যাবে কসাই। তবে ঈদের তিন দিন স্লট ভরাট হয়ে যাবে দ্রুতই। বিগত বছরেও বুচার শপ সফলতার সঙ্গে এমন সেবা দিয়ে এসেছে। কসাইয়ের রেট আলোচনা সাপেক্ষে ঠিক করে নেওয়া যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, সরকার নির্ধারিত স্লটারিং পয়েন্ট ছাড়া কোরবানি করা বা মাংস প্রক্রিয়া করা যাবে না। লিংক : https://www.facebook.com/Butcher-Shop

 

ফিজিক্যাল হাটেও ডিজিটাল পেমেন্ট

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আয়োজিত ছয়টি পশুর হাটে থাকছে ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় আফতাবনগর, কাওলা, ভাটারা, গাবতলী, বছিলা ও উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের কোরবানির পশুর হাটে পাওয়া যাবে ডিজিটাল পেমেন্ট বুথ। ব্যাংক ট্রান্সফারের পাশাপাশি মোবাইল ফিন্যান্স সেবার মাধ্যমেও করা যাবে মূল্য পরিশোধ। মূলত টাকা বহনের ঝুঁকি এড়াতেই সেবাটি চালু করা হচ্ছে, যাতে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষই বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে হাটে চলাফেরা না করে। এ ছাড়া হাসিল আদায়ে থাকবে স্বচ্ছতা। আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হচ্ছে এই সেবা। আগামী দিনে পুরো দেশেই ধীরে ধীরে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে।

ডিজিটাল পেমেন্ট বুথ স্থাপন ও পরিচালনার জন্য ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক হাটগুলোতে একযোগে কাজ করছে। ব্যাংকগুলো হলো—ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড। এ ছাড়া মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেস প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে থাকছে বিকাশ লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক এম ক্যাশ। প্রান্তিক খামারি ও ইজারাদারদের স্বার্থে পাইলট প্রকল্পটির (১ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত) অধীনে করা ডিজিটাল লেনদেনে কোনো খরচ (চার্জ) নেওয়া হবে না।



সাতদিনের সেরা