kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সব অংশে জড়িয়ে বিশ্বখ্যাত গ্রি এসি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জুন, ২০২২ ২২:২৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পদ্মা সেতু প্রকল্পের সব অংশে জড়িয়ে বিশ্বখ্যাত গ্রি এসি

দেশে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে যাচ্ছে পদ্মা সেতু। এই সেতু নির্মাণকাজের শুরু থেকেই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে বিশ্বখ্যাত গ্রি এসি। সেতুর সার্ভিস পয়েন্ট, মাল্টিপারপাস হল, রিসোর্ট, মোটেল ম্যাচ, সুপারভিশন অফিস, ডরমিটরিসহ সব জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে গ্রি এসি।  

গ্রি এসি উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জের কাজ।

বিজ্ঞাপন

আর সেই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আমরা যুক্ত থাকতে পেরে ভালো লাগছে। বিশ্বের প্রথম বুস্ট ইনভার্টার কমপ্রেসরযুক্ত এয়ারকন্ডিশনারটি সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম। ভেতরে ২৭ ডিগ্রি ও বাইরে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নামিয়ে আনতেও সক্ষম গ্রি এসি। এয়ারকন্ডিশনারটিতে রয়েছে ডানে ও বামে সুইং ফাংশনসমৃদ্ধ থ্রিডি এয়ার ফ্লো। সাত ধাপে বাতাস প্রবাহ ও চার ধাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতাস ক্লিন ও প্রবাহ করতে সক্ষম এটি। সর্বনিম্ন ভোল্টেজেও গ্রি এসি চলতে সক্ষম।

গ্রি এসির বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রোমার্ট লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আফসার  বলেন, এসি এখন অতিপ্রয়োজনীয় যন্ত্র হয়ে উঠেছে। এটা এখন আর বিলাসিতার জিনিস নয়। আধুনিক কর্মময় জীবনে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে কাজের মান, স্বাচ্ছন্দ্যময় কর্মপরিবেশ ও শারীরিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে এসি এখন অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তাই অন্যান্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের মধ্যে ঘরে জায়গা করে নিচ্ছে এসি।  

মোহাম্মদ নুরুল আফসার বলেন, করোনায় সময় এসির বাজারে একটা বড় ধাক্কা এসেছিল, যা মানুষের ভুল ধারণা ছিল। বর্তমানে গ্রি এসিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি যেমন বায়োলজিক্যাল ফিল্টার, ক্যাচেইন ফিল্টার, সিলভার আয়রন ফ্লিটার এবং ক্লোজসমা এয়ার পিউরিফিকেশন টেকনোলজি থাকার কারণে ঘরের বাতাসের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে সম্পূর্ণরূপে বিশুদ্ধ করে করোনা প্রতিরোধে সক্ষম। তাতে এখন আবার দ্রুত বিক্রি বাড়ছে। বর্তমানে দেশের এয়ারকন্ডিশনার চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ গ্রি এসি পূরণ করে যাচ্ছে।

গ্রি এসি এখন দেশেই তৈরি উৎপাদন হচ্ছে

এক সময় দেশের এসির বাজারের পুরোটাই ছিল আমদানির্ভর। এ জন্য দামও ছিল বেশি। দেশে চাহিদা বাড়তে থাকায় ধীরে ধীরে কারখানাগুলো বিদেশ থেকে সরঞ্জাম এনে দেশে সংযোজন শুরু করে। আর এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে গ্রি এসি। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৮ সাল থেকে প্রায় দুই যুগের ও বেশি সময় ধরে বাজারজাতকরণ করে যাচ্ছে এবং ২০২০ সাল থেকে দেশেই এসি উৎপাদন করছে । এ কারণে দামও কিছুটা কমেছে। তবে মূল কমপ্রেসরসহ কিছু যন্ত্রাংশ আসছে বিদেশ থেকে।

আসছে নতুন নতুন প্রযুক্তি

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পথ চলাই গ্রির সাফল্যের অন্যতম কারণ। তাই তো নতুন নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। বাজারে এখন দুই ধরনের এসি পাওয়া যায়। ইনভার্টার ও নন-ইনভার্টার। এর মধ্যে ইনভার্টারের দাম কিছুটা বেশি। কারণ এ ধরনের এসিতে বিদ্যুৎ খরচ কম। এটি ঘরের আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসির শক্তি খরচ কমিয়ে নিয়ে আসে।

কেমন দাম

বাজারে ব্র্যান্ডভেদে এক টনের বিদেশি ইনভার্টার এসির দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। আর নন-ইনভার্টারের দাম ৫০ হাজার টাকার মধ্যে। দেড় টন ইনভার্টার এসির দাম ৭৫ থেকে ৮৫ হাজার টাকা।  

বিদ্যুৎ খরচ কি অনেক বেশি?

প্রায় দুই বছর ধরে এসি ব্যবহার করছেন উত্তরার বাসিন্দা আমজাদ কবির। তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করেন, এসি কিনলে বোধ হয় বিদ্যুৎ খরচ অনেক হবে। তাই পোষাতে পারবেন না। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে তা নয়। ’ তিনি বলেন, ‘দুই ধরনের এসি আছে। এর মধ্যে ইনভার্টারের দাম কিছুটা বেশি। একটু বেশি দাম দিয়ে ইনভার্টার এসি কিনলে বিদ্যুৎ খরচ তেমন বাড়বে না। ’

ব্যবহার বেশি যেখানে

আমদানিকারক ও বিপণন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ঢাকা শহরে এসি বেশি ব্যবহার হয়। তার পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম। তবে এখন মফস্বল শহরগুলোতেও প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। তারা বলছেন, এসি ইনস্টল করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রুমের আকার, জানালার সংখ্যা, সূর্যমুখী জানালার সংখ্যা। এসব বিবেচনায় রেখে বেশির ভাগ মানুষই দেড় টন এসি ব্যবহার করে থাকে।

কেনার আগে অবশ্যই যা জানতে হবে

সেসব ঘরে এসি স্থাপন করতে হবে যেগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হবে। সাধারণত চার প্রকারের এসি বাজারে দেখা যায়। স্প্লিট ওয়াল মাউন্টেড, সিলিং টাইপ, পোর্টেবল এবং ক্যাসেট টাইপ। বসবাসের জায়গা মধ্যম মানের তাপমাত্রার এলাকায় হলে এবং শুধু একটি ঠাণ্ডা বা গরম করতে হলে স্প্লিট টাইপ এসি উপযোগী। ঘরের বিদ্যমান ওয়ারিংয়েই সংযোগযোগ্য এবং ইনস্টল করা সহজ।

বর্তমানে খুব সহজে এসি স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়। ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেড গ্রি এসির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ফ্রি ইনস্টলেশন এবং তিন বছর বিনা মূল্যে বিক্রয়োত্তর সেবা দিয়ে থাকে। ফলে ব্যবহারকারীরা এ বিষয়ে পুরোপুরি চিন্তামুক্ত থাকতে পারে।



সাতদিনের সেরা